বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চুল রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। এই সময়ে বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের কারণে চুল তৈলাক্ত হয় এবং মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণও হতে দেখা যায়। চুল তার স্বাভাবিক জেল্লা হারায়। এই সময়ে চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গতে বাঁধা ডিম, টক দই বা মধুর প্যাক নয়, মাখতে হবে এমন কিছু বিশেষ হেয়ার মাস্ক যা চুল পড়ার সমস্যা কমাবে, রুক্ষ চুলকে নরম ও মসৃণ করবে। খুশকির সমস্যাও দূর করবে।
ওট্স এবং বাদাম তেলের মাস্ক
ওট্স চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে বি-ভিটামিন যা চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে। কেরাটিন প্রোটিনের উৎপাদনও বৃদ্ধি করে, ফলে চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। মাস্কটি বানাতে ৩ চামচ ওট্সের গুঁড়োর সঙ্গে ২ চামচ বাদাম তেল এবং সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। চুল ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে মিনিট ২০ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
আরও পড়ুন:
জবা ফুল এবং মেথি পাতার মাস্ক
মেথিপাতা ও জবা ফুলের মিশ্রণ প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে। এক মুঠো তাজা জবা ফুল এবং সমপরিমাণ মেথিপাতা একসঙ্গে সামান্য জল দিয়ে বেটে নিন। এর সঙ্গে ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নিয়ে ভাল করে মাথায় মেখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
গ্রিন টি ও অ্যালো ভেরার মাস্ক
বৃষ্টির জলে ভিজে ঠিকমতো চুল না শুকোলে মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। এমনিতেও বৃষ্টির দিনে মাথার ত্বকে চুলকানি বা র্যাশের সমস্যা হয় অনেকের। এর সমাধানে গ্রিন টি ও অ্যালো ভেরার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। আধ কাপ ঠান্ডা করা গ্রিন টি-র সঙ্গে ৩ চামচ অ্যালো ভেরা জেল এবং ২ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল ভাল করে মিশিয়ে সিরামের মতো তৈরি করুন। এটি চুলে স্প্রে করতে পারেন বা তুলো দিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখতে পারেন আধ ঘণ্টার মতো। তার পর হালকা কোনও ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।