ওয়্যাক্সিং, রোম তোলার ক্রিম বা শেভিং— ইত্যাদির ঝক্কি তেমন পোহাতে হয় না অভিনেত্রী সুপ্রিয়া পাঠককে। কারণ, তাঁর কাছে রয়েছে বিশেষ এক টোটকা। যা ব্যবহার করলে দেহের অবাঞ্ছিত রোম কমে যায়, বলা ভাল, রোম তত বেশি গজাতেই পারে না। অন্তত এমনই দাবি শাহিদ কপূরের সৎমায়ের। শুধু তিনিই নন, তাঁর কন্যা সানাহ কপূরও এই টোটকাতেই উপকৃত হয়েছেন।
কী সেই টোটকা?
সুপ্রিয়া বলছেন, ‘‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন বেসন আর মালাই অর্থাৎ দুধের সর মাখতাম সারা গায়ে। তাতেই রোম ওঠার প্রবণতা কমে যেত। আমার কন্যাও কিন্তু এটা মেখেই উপকার পেয়েছে। বহু বছর ধরে এটা মেনে চলেছে বলে এখন ওর সারা গায়ে তেমন রোম গজাতে পারে না।’’
বেসন আর মালাই কি সত্যি কার্যকরী? ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিয়ার এই টোটকা আদপে কতটা কার্যকর?
বহু প্রাচীন পন্থা। কেউ বেসন আর সর মাখতেন, কেউ মাখতেন চালের গুঁড়ো। শিশুদের এ সব উপকরণ দিয়ে গা মালিশ করলে নাকি রোম গজানোর প্রবণতা কমবে, এমনই ধারণা ছিল আগেকার দিনে। কেউ কেউ উপকৃতও হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুপ্রিয়া এবং তাঁর কন্যা অন্যতম বলে দাবি। কিন্তু কী ভাবে কাজ করে এই টোটকা?
চিকিৎসকদের মতে, এই টোটকার নেপথ্যে কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বেসন বা দুধের সর রোম গজানোর প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে বলে কোনও প্রমাণ নেই। তাঁদের মতে, এই ধরনের মাস্ক বা পেস্ট দেহের উপরিতলের রোম হয়তো খানিক পরিমাণে কমাতে পারে, কিন্তু সেটা সাময়িক ভাবে। আসলে ঘর্ষণের মাধ্যমে ত্বকের উপরের সূক্ষ্ম রোম দূর করে ত্বককে মসৃণ দেখাতে পারে কেবল। কিন্তু এগুলি চুলের গোড়া বা রোম বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রে কোনও পরিবর্তন আনতে পারে না। তাই এগুলি ব্যবহারের ফলে যদি মনে হয় যে, রোম কমে গিয়েছে, তবে তা মূলত সাময়িক বা নিছকই কাকতালীয়।
আরও পড়ুন:
আর শিশুদের গায়ে নানা ধরনের ঘরোয়া পেস্ট মাখানোর আগে দেখে নেওয়া উচিত, তাতে তাদের ত্বকে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। নয়তো উল্টে বড় ক্ষতি হতে পারে।