বর্ষায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও জমা জলে পায়ে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ভিজে জুতো-মোজা পরে থাকা বা নোংরা জল পায়ে লাগার কারণে এই সংক্রমণ ঘটে। পায়ে লালচে র্যাশ বেরোতে পারে, তাতে চুলকানি বা ঘা হতে পারে। রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির জলে ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক জন্মায়। এই জল পায়ে লাগলে আঙুলের খাঁজে জমে সংক্রমণ ঘটায়।
কী ভাবে পায়ের যত্ন নেবেন?
জীবাণু নাশ করার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে নুন। তাই বাড়ি ফিরেই গরম জলে নুন মিশিয়ে তাতে মিনিট দশেক পা ডুবিয়ে রাখুন। এর পর পা ঘষে মৃতকোষগুলি দূর করুন। হয়ে গেলে পা ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে একে বারে শুকনো করে পা মুছে নিন।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পায়ের তলায় নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মাসাজ করলে শুষ্ক ত্বক মোলায়েম হবে।
আরও পড়ুন:
পায়ের মাস্ক
বর্ষায় পায়ের খেয়াল রাখতেও মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। চারকোল মাস্ক বেশ ভাল। চারকোল ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা ময়লা দূর করে। এ ছাড়া ভিটামিন সি মাস্কও পায়ের ত্বকে ব্যবহারের জন্য কার্যকরী। কফি মাস্কও কম উপকারী নয় পায়ের জন্য।
বর্ষাকালে পা থেকে বেশি দুর্গন্ধ বেরোয়। সেই সমস্যা কমাবে কর্পূর ও ট্যালকম পাউডার। মোজা পরার আগে পায়ে ভাল করে ট্যালকম পাউডার মেখে নিন। পাউডারের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিতে পারেন। গন্ধ দূর হবে।
টি ট্রি অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পায়ে মালিশ করলে যে কোনও ধরনের সংক্রমণ দূর হবে।
বর্ষায় পা ভাল রাখবে, র্যাশ কমাবে নিম ও হলুদের প্যাক। এক মুঠো নিম পাতা
এবং এক টুকরো কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি পায়ে এবং বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। ২০-৩০ মিনিট পর ঠান্ডা জল
দিয়ে ধুয়ে পা ভাল করে শুকিয়ে নিন।
পায়ে চুলকানি ও জ্বালা হলে এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। ২ চামচ চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য কর্পূরের গুঁড়ো এবং গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানান। পায়ে লাগিয়ে শুকোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।