চুল ঝরার কোনও মরসুম নেই। এ সমস্যা বারোমাসের। বর্ষার সময়ে চুল পড়ার সমস্যা আরও বাড়ে। সেই সঙ্গে খুশকির সমস্যাও নাজেহাল করে দেয়। শ্যাম্পু করেও বিশেষ লাভ হয় না। দু’দিন যেতে না যেতেই পুরনো অবস্থা ফিরে আসে। তাই অনেকেই শ্যাম্পুর বিকল্প প্রসাধনী খোঁজেন। তবে চুল ভাল রাখার জন্য যেমন বাইরে থেকে যত্ন নেওয়া জরুরি, তেমনই কী খাচ্ছেন তার উপরেও চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। ভিতর থেকে চুলকে সতেজ ও জেল্লাদার করে তুলতে খেতে হবে কিছু বিশেষ পানীয়।
চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর কোন কোন পানীয়?
আমলকি ও পুদিনার শরবত
আমলকি ওপুদিনায় ভরপর ভিটামিন-সি আছে। এই ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়। পুদিনা পেট ঠান্ডাও রাখে। ১-৩টি আমলকির রস, এক মুঠো পুদিনা পাতা বাটা, সামান্য বিট নুন ও জল মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এই পানীয় পেটের সমস্যা দূর করবে এবং চুল ও ত্বক ভাল রাখবে।
আরও পড়ুন:
দারচিনি ও চক্রফুলের ক্বাথ
দারচিনি ও স্টার অ্যানিস বা চক্রফুলের মিশ্রণ হজমশক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে বহু গুণ। এই পানীয় গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও কমাবে। ১টি ছোট দারচিনির স্টিক দু’কাপ জলে ফোটাতে হবে। তাতে মিশিয়ে দিন একটি চক্রফুল। ভাল করে ফোটাতে হবে। পানীয়ের রং বদলে গেলে নামিয়ে নিন। এই পানীয় চুল ভাল রাখবে, কেরাটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
আরও পড়ুন:
তরমুজ ও তুলসীর পানীয়
তরমুজ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দূর করে। তুলসী ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এক কাপের মতো তরমুজের টুকরো ও কয়েকটি তুলসী পাতা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। উপরে আরও কিছু তুলসী পাতা ছড়িয়ে পান করুন।
আমলকি-আদার শট
আমলকির ভিটামিন সি ও আদার জিঞ্জেরল চুলের গোড়ার পুষ্টি সরবরাহ করে, চুলের গোড়া মজবুতও করে। এই শটটি রোজ সকালে খালি পেটে খেলে চুল পড়ার সমস্যা ও অকালপক্বতা দূর হতে পারে।এটি বানাতে ১ চামচ আদাকুচি, ৬-৮টি কারি পাতা, একটি গোটা আমলকির রস নিতে হবে। এক কাপ জলে সব উপকরণ মিশিয়ে ভাল করে ফোটাতে হবে। তার পর ছেঁকে পান করতে হবে। এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করবে।
অ্যালো ভেরা ও ডাবের জল
এক গ্লাস ডাবের জলে ২ চামচ টাটকা অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে নিন। অ্যালো ভেরা মাথার ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে পারে। এটি খেলে মাথার ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।