বাবাকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ৩০ বছরের রাজর্ষি রায়চৌধুরী ওরফে গোপাল। পুলিশের দাবি, জেরায় তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। সূত্রের খবর, বেড়াতে যাওয়ার জন্য টাকা চেয়েছিলেন বাবার কাছে। তা না-পেয়েই রঞ্জন রায়চৌধুরীকে খুন করেন গোপাল। তিন দিন ঘরে রেখে দিয়েছিলেন দেহ। তার পরে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে তা ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় দেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের ঘটনা।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত রঞ্জন পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রায়ই তিনি ব্যবসার কাজে দুবাই যেতেন। অভিযোগ, বেড়াতে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়েছিলেন গোপাল। টাকা না পেয়ে রাগের মাথায় ব্যায়ামের সরঞ্জাম দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রঞ্জনের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিন দিন ধরে বাড়ির একটি ঘরে দেহ লুকিয়ে রাখেন। পরে একটি বড় নীল রঙের ব্যাগে দেহ ভরে ভাড়া করা গাড়িতে চাপিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে তিনি ফেলে আসেন বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য গাড়িচালককে অতিরিক্ত টাকাও দেওয়া হয়েছিল।
গত ২২ জুন রাতে সোনারপুরে একটি বড় নীল ব্যাগের ভিতর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তার পরের দিন মিলনপল্লির কয়েক জন বাসিন্দা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, সেখানকার একটি বাড়ি থেকে গত কয়েক দিন ধরে দুর্গন্ধ বার হচ্ছিল। বাড়ির মালিককেও দেখা যায়নি বেশ কয়েক দিন। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর বাবা দুবাই গিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সেই সূত্র ধরেই পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে দেখে, সেখানে মানসিক ভাবে অসুস্থ দুই বৃদ্ধা রয়েছেন। বাড়ির একটি বন্ধ ঘর খুলতেই মেঝে ও দেওয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তদন্তকারীরা। সেই ঘরে পড়ে ছিল ব্যায়ামের কিছু সরঞ্জাম। সেগুলির মধ্যে একটি দিয়ে রঞ্জনকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির সন্ধান মেলে। গাড়িচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযুক্তের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ৩ জুলাই অভিযুক্ত গোপালকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, বেড়াতে যাওয়ার টাকা না-পেয়ে ক্ষোভের বশে বাবাকে খুন করেছেন তিনি।