‘হেরা ফেরি ৩’ ছবিটিকে ঘিরে আইনি জটিলতা অব্যাহত। এ বার ছবির সমস্ত প্রযোজনা ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিজেদের বলে দাবি করে প্রকাশ্যে নোটিস জারি করল অক্ষয় কুমারের প্রযোজনা সংস্থা ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস’। সিনেদুনিয়ার সকলকে সংস্থার অনুমতি ছাড়া ছবির স্বত্ব দাবি করা কোনও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে কোনও ধরনের চুক্তি না করারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ জুলাই ট্রেড ম্যাগাজ়িন ‘কমপ্লিট সিনেমা’য় এই নোটিস প্রকাশ করা হয়। পরে সেই নোটিসের ‘স্ক্রিনশট’ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় অক্ষয়ের একটি ফ্যান ক্লাবের তরফে। এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নোটিস সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশক, প্রদর্শক, মাল্টিপ্লেক্স চেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন সম্প্রচারকারী সংস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপনদাতা, লাইসেন্সদাতা, লাইসেন্সগ্রহীতা-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশে জারি করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, অক্ষয়ের প্রযোজনা সংস্থাই একমাত্র এবং একচ্ছত্র ভাবে ‘হেরা ফেরি ৩’ নির্মাণ, বিপণন, পরিবেশন এবং বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করার বিশ্বব্যাপী, স্থায়ী লাইসেন্সের অধিকারী। বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যে কোনও মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মে ছবিটি ব্যবহারের সমস্ত অধিকারও তাদের কাছেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস’-এর লিখিত অনুমতি ছাড়া যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা ‘হেরা ফেরি ৩’-এর স্বত্ব দাবি করা অন্য কোনও পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি বা লেনদেন করে, তবে তার সম্পূর্ণ দায় তাদের নিজেদেরই নিতে হবে। নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সতর্কবার্তা অমান্য করে কেউ পদক্ষেপ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সমস্ত অধিকার সংরক্ষণ করছে অক্ষয়ের প্রযোজনা সংস্থা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই জনপ্রিয় ‘হেরা ফেরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির তৃতীয় ছবি নানা কারণে শিরোনামে। সম্প্রতি পরিচালক প্রিয়দর্শন ঘোষণা করেন, তিনি আর ছবিটি পরিচালনা করবেন না। একইসঙ্গে প্রযোজক ফিরোজ় নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও আনেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেন, “ফিরোজ় অক্ষয়কে বলেছিল, ‘তোমার এই ছবি (‘হেরা ফেরি ৩’) বানানোর অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রিয়দর্শনকে নিয়ে ছবিটা কোরো না, এটাই আমার একমাত্র অনুরোধ।’ ও আমাকে বহুবার অপমান করেছে।”
আরও পড়ুন:
প্রিয়দর্শনের বক্তব্য, অক্ষয়, সুনীল শেট্টী এবং পরেশ রাওয়ালের অনুরোধেই তিনি ছবিটি পরিচালনা করতে রাজি হয়েছিলেন। গল্প শোনানোর পরে তিন অভিনেতাই অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সুযোগ পেলে ‘হেরা ফেরি’-কে দেশের অন্যতম বড় ফ্র্যাঞ্চাইজ়িতে পরিণত করতে পারতেন।
২০২৫ সালের মে মাসে পরেশ ‘হেরা ফেরি ৩’ প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে তিনি আবার ছবিতে ফেরেন। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে ছবিটি আইনি জটিলতার মধ্যে আটকে রয়েছে। অনুরাগীরাও এই ছবির নিশ্চিত ভবিষ্যৎ জানার অপেক্ষায়।