প্রসাধনীর বাজারে এখন ড্রাই শ্যাম্পুর রমরমা। দিনভর অফিস, তার পর পার্টি কিংবা নিমন্ত্রণ। অথচ প্রচণ্ড ব্যস্ততায় শ্যাম্পু করে স্নানের সময় হয়নি। মুশকিল আসান ড্রাই শ্যাম্পু। স্প্রে-বোতলে ভরা শ্যাম্পু। চুলে দিয়ে নিলেই হল।
আরও পড়ুন:
কাজে লাগবে ভেবেই কিনে ফেলেছেন তনুশ্রী। তবে ব্যবহার করতে গিয়েই ফ্যাসাদে পড়েছেন। ব্যবহার করবেন কী করে। নির্দেশিকা দেওয়া আছে বটে, কিন্তু তাতে সবটা খুব স্পষ্ট নয়। ব্যবহার করার আগে জেনে নেওয়া ভাল, এর কাজ কি এবং সীমাবদ্ধতাই বা কতটা?
নামেই পরিচয়
‘ড্রাই’ অর্থাৎ এই শ্যাম্পু শুকনো। এটি ব্যবহারের জন্য জলের দরকার হয় না। এটি স্প্রে বা পাউডারের মতো হয়। স্টার্চ, অ্যালকোহল বা ট্যালকমের মিশ্রণে এটি তৈরি করা হয়। ইদানীং এতে কিছু ত্বক-বান্ধব জিনিসও মেশানো হচ্ছে।
কাজের কাজ হয় কী
‘ড্রাই শ্যাম্পু’-র ভাবনা মূলত চটজলদি কাজের জন্য। শ্যাম্পু করলে চুলের বাড়তি তেল, ধুলো-ময়লা চলে যায়। চুল দেখায় ফুরফুরে, সুন্দর এবং হালকা ফোলা। এর কাজ হল, সাময়িক ভাবে চুলকে তেমনটাই করে তোলা। যাঁদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, দু-তিন দিন শ্যাম্পু না করলেই চুল তেলচিটে হয়ে যায়, তাঁদের জন্য এটি কাজের জিনিস। আবার ব্যস্ত জীবনে প্রয়োজনমতো শ্যাম্পু করার সুযোগ হয় না সব সময়। অথচ নিমন্ত্রণ আছে বা পার্টির জন্য আয়োজন। তখন চটজলদি চুলে শ্যাম্পু করার মতো ফুরফুরে ভাব আনতেই এর দরকার পড়ে।
জল দিয়ে যে শ্যাম্পু করা হয় তা শুধু মাথার ত্বক এবং চুল থেকে বাড়তি তেল দূর করে না, ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করে দেয়। ড্রাই শ্যাম্পু তা পারে না, শুধু চুলের তেলটাই শুষে নেয়। ফলে পেতে যাওয়া চুল একটু ফোলা ও সুন্দর দেখায়।
ব্যবহারের পদ্ধতি
কেশচর্চা শিল্পীরা জানাচ্ছেন, কী ভাবে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করে কেশসজ্জা করা যায়। জেনে নিন পন্থা।
· প্রথমে চিরুনি দিয়ে চুলের জট ছাড়িয়ে ভাল করে আঁচড়ে সিঁথি কেটে নিন। স্প্রে করতে হবে চুলের গোড়ায়। কপালে যেখানে হালকা চুলের রেখা আছে সেখানেও স্প্রে করতে হবে। আবার, ঘাড়ের কাছে লেগে থাকা চুলের অংশেও স্প্রে করা প্রয়োজন।
· স্প্রে চুলের উপরে করতে হবে না। বরং সিঁথি কেটে ২০-৩০ সেন্টিমিটার দূর থেকে চুলের গোড়ার অংশে স্প্রে করুন। অতিরিক্ত দেওয়ার দরকার নেই।এই অবস্থায় ১-২ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে শ্যাম্পু চুলের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে পারে।
· তারপর ঠান্ডা হাওয়া বেরোয় এমন ব্লো ড্রায়ার দিয়ে চুলের অতিরিক্ত ড্রাই শ্যাম্পু বার করে দিন।
এরপরেও যদি মনে হয়, চুল ততটা ফোলেনি বা তেলতেলে ভাব রয়েছে একই পদ্ধতি আবার প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে চুল খুব ভাল করে আঁচড়ে নিন। এই চুলে স্ট্রেটনার ব্যবহার করলে তা আরও বসে যেতে পারে। ফলে সেই দিকে না গিয়ে ‘ব্যাক কোম্ব’ করুন। চুল ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিয়ে এক ইঞ্চি পরিমাণ চওড়া একটি অংশ হাত দিয়ে সোজা করে উপরে ধরুন। চুলের গোড়া থেকে ২-৩ ইঞ্চি উপর থেকে চিরুনি ধরে, সেখান থেকে তা চুলের গোড়ার দিকেই টেনে আনুন। এভাবে ২-৩ বার করুন যতক্ষণ না চুলের গোড়ায় একটু ফোলাভাব তৈরি হয়। শেষে উপরের চুল আলতো করে আঁচড়ে মসৃণ করে দিন। এতে চুলে ফোলা ভাব তৈরি হবে।