কেবল দোসা বা ডাল, সুজির উপমা বা মাংসের ঝোলের স্বাদবৃদ্ধির জন্যই কারিপাতার জন্ম, এমনটা ভাবলে এই পাতার বড়ই অপমান করা হয়। স্বাস্থ্যগুণের পাশাপাশি রূপের জন্যও কারিপাতার জুড়ি মেলা ভার। চুলে পাক ধরার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সবুজ পাতার টোটকা প্রয়োগ করতে পারেন।
অকাল চুলে পাক ধরা এখন আর কেবল বয়স্কদের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং জীবনযাপন, দূষণ, মানসিক চাপ আর পুষ্টির ঘাটতির মিলিত ফল। তাই চুলে পাক ধরলেই অনেকেই ভরসা রাখছেন প্রাকৃতিক উপায়ের উপর। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কারিপাতা। রান্নাঘরের এই সাধারণ উপাদানই চুলের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতে এবং মাথার ত্বক পুষ্ট রাখতে কার্যকর হতে পারে।
কারিপাতা দিয়ে কেশচর্চা।
কারিপাতা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আয়রন এবং বি ভিটামিনে ভরপুর। এই দুই উপাদান কেশস্বাস্থ্যের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা চুলে পাক ধরার নেপথ্যে অন্যতম কারণ। তা ছাড়া কারিপাতা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং মেলানিন উৎপাদনকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। মেলানিনই চুলের স্বাভাবিক কালো রং বজায় রাখে। ফলে নিয়মিত কারিপাতা ব্যবহার করলে অকালে পাক ধরার গতি শ্লথ হয় এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভাল থাকে।
তবে এমন কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই যে, পাকা চুলের সমস্যাকে রোধ করে দিতে পারে কারিপাতা। অথবা এমনটাও বলা যায় না যে কারিপাতা চুলের রং কালো করতে পারে। কিন্তু চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে পাক ধরার সমস্যার গতি ধীর করে দিতে পারে। তা ছাড়া অ্যামাইনো অ্যাসিডের দৌলতে চুলের গোড়াকে মজবুত করে কারিপাতা।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে কারিপাতা ব্যবহার করবেন কেশচর্চায়?
সবচেয়ে সহজ উপায় হল কারিপাতা দিয়ে তেল তৈরি করা। এক মুঠো টাটকা কারিপাতা ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এ বার নারকেল তেলের মধ্যে পাতা দিয়ে অল্প আঁচে গরম করুন, যত ক্ষণ না তেলটি কালচে হয়ে যায়। ঠান্ডা হলে তেল ছেঁকে নিয়ে একটি কাচের বোতলে ভরে রাখুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এই তেল মাথার ত্বকে ভাল করে মালিশ করুন এবং অন্তত এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের গোড়া পুষ্ট হয় এবং চুলের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শুধু বাইরে থেকে ব্যবহার নয়, খাদ্যাভ্যাসেও কারিপাতা যোগ করা উপকারী। প্রতি দিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি টাটকা কারিপাতা চিবিয়ে খাওয়া বা রান্নায় নিয়মিত ব্যবহার করলেও শরীর ভিতর থেকে পুষ্টি পায়, যা চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।