Advertisement
E-Paper

ডায়াবিটিসের রোগী হয়েও মিষ্টি ফলের জন্য মন উচাটন? নিয়ম মেনে খেলে হঠাৎ সুগার বাড়ার ঝুঁকি কম

মিষ্টি ফল যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই উচিত ডায়াবিটিসের রোগীদের। কিন্তু যদি খুব ইচ্ছে করে খেতে, তা হলে কয়েকটি নিয়ম মেনে খেতে হবে। সেগুলি কী কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪২
মিষ্টি ফলও খাবেন, সুগারও থাকবে নিয়ন্ত্রণে!

মিষ্টি ফলও খাবেন, সুগারও থাকবে নিয়ন্ত্রণে! ছবি: সংগৃহীত।

গরম পড়তেই আম, তরমুজ, লিচুর মতো রসালো ফলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেহে জলের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাদকোরকের জন্যও উপাদেয় ফলগুলি। কিন্তু একই সঙ্গে অনেকের মনেই ভয় কাজ করে। এই মিষ্টি ফল কি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেবে? চিকিৎসকদের মতে, এই ভয় পুরোপুরি অমূলক নয়। কিন্তু সমাধান, ফল বাদ দেওয়া নয়। বরং কী ভাবে খাচ্ছেন, সেটাই নির্ধারণ করে আপনার সুগার বাড়বে কি না।

সুগার না বাড়িয়ে ফল খাবেন কী ভাবে?

সুগার না বাড়িয়ে ফল খাবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত

মিষ্টি ফল যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই উচিত ডায়াবিটিসের রোগীদের। কিন্তু যদি খুব ইচ্ছে করে খেতে, তা হলে কয়েকটি নিয়ম মেনে খেতে হবে। আসলে গোটা ফলের মধ্যে থাকে ফাইবার, ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী। সমস্যা তখনই বেশি হয়, যখন এই ফল খাওয়ার ধরন ভুল হয় বা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে না থাকে। চিকিৎসকদের মতে, গোটা ফল খাওয়া ভাল, বরং ঠান্ডা সোডা জাতীয় পানীয়, চকোলেট, মিষ্টি, বিস্কুট ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

কোন কোন নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত মিষ্টি ফল?

Advertisement

১. ফলের খোসা ফেলে দিয়ে বড়সড় ভুল করে বসেন অনেকে। খোসাতেই থাকে সবচেয়ে বেশি ফাইবার, যা হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি আটকাতে সাহায্য করে। তাই সম্ভব হলে খোসা-সহ ফল খাওয়াই ভাল। তবে খুব ভাল করে তা ধুয়ে নিতে হবে, যাতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ফলের গায়ে না থাকে।

২. ফলের রস খাওয়ার মতো ভুল করলে চলবে না। অনেকেই মনে করেন, ফলের রস মানেই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু রস বা জ্যুস বানানোর সময়ে ফাইবার প্রায় পুরোই বাদ পড়ে যায়। ফলে শরীরে শর্করা দ্রুত প্রবেশ করে এবং মাত্রাও হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর বদলে গোটা ফল কামড়ে বা কেটে কেটে খেয়ে নেওয়া উচিত। তাতে ফাইবার থাকায় গ্লুকোজ়ের মাত্রা চট করে বাড়তে পারে না।

৩. পরিমাণ নিয়ন্ত্রণও অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, দিনে দুই পরিমাণে ফল খাওয়াই যথেষ্ট, যেখানে এক একটি পরিমাণ প্রায় ৮০ গ্রামের হবে। কিন্তু ওজন মাপার যন্ত্র ছাড়া মেপে দেখবেন কী করে? এক জন প্রাপ্তবয়স্কের হাতের একটি মুঠোর সমান হবে ৮০ গ্রামের ফল। এর বেশি খেলেই সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

৪. কোন ফল খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যেই ফলগুলির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কম, সেই ফলগুলিই মূলত খাওয়া উচিত ডায়াবেটিকদের। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনুযায়ী কিছু ফল ধীরে শর্করা বাড়ায়, আবার কিছু তুলনামূলক ভাবে দ্রুত। যেমন, আপেল, বেরি, কমলালেবু, অ্যাভোকাডোর মতো ফল ধীরে শর্করা বাড়ায়। অন্য দিকে আম, কলা বা আনারসের মতো ফলের জিআই বেশি। তবে সেগুলিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ নিয়ে সংযমী হলেই শরীর সুস্থ থাকবে।

(এই প্রতিবেদন সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ডায়াবিটিসের রোগীরা কোন ফল কতখানি খেতে পারবেন, সে বিষয়ে নিজেদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।)

Diabetes Fruits
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy