যৌবনের টানটান মসৃণ ত্বকের জেল্লা হারাতে থাকে ৪০ পেরোলেই। তার পর থেকেই ধীরে ধীরে বলিরেখা দেখা দিতে থাকে। ত্বক ঝুলে যায়। খসখসে হয়ে পড়ে। ব্যস্ত রুটিনে শরীরচর্চার জন্য সময় বার করা হয়ে ওঠে না। ত্বকের যত্ন নিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয়, বিলাসিতা। কিন্তু শরীরের দেখভাল করার পাশাপাশি ত্বকের পরিচর্যাও একান্ত প্রয়োজন। অনেকেই খেয়াল করে ঘন ঘন জল খেয়ে ত্বক আর্দ্র রাখেন। কেউ আবার বেরোনোর সময়ে সানস্ক্রিন মেখে ত্বক রক্ষা করেন। তবুও কাঙ্ক্ষিত জেল্লার দেখা মেলে না! বয়স বাড়লে ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে কিছু যোগাক্রিয়া অভ্যাস করতে পারেন।
সিংহ মুদ্রা: এই মুদ্রাটি করতে প্রথমে পদ্মাসনে স্থির ভাবে বসতে হবে। এ বার মুখ হাঁ করে যতটা সম্ভব জিভ বাইরে বার করুন। চোখগুলি বড় করে তাকান। এই যোগটি করার সময় খানিকটা সিংহের মতো দেখতে লাগবে। ৫-৭ বার এই ব্যায়ামটি অভ্যাস করুন।
এই মুদ্রাটি নিয়ম করে অভ্যাস করলে মুখের চারপাশে রক্ত সঞ্চালনের হার বেড়ে যায়। মুখমণ্ডলের স্নায়ুগুলি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। মুখের আড়ষ্ট ভাব দূর হয়।
কপালভাতি ক্রিয়া: প্রথম একটি ফাঁকা জায়গায় শান্ত হয়ে পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বসুন। প্রথমে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন। শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছু ক্ষণ ধরে রাখুন। এ বার ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময়ে পেট যেন ভিতরের দিকে ঢুকে আসে, সে দিকে খেয়াল রাখুন। এই পদ্ধতিতে ২০ বার শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। মিনিট খানেকের বিরতি নিন। আবার ২০ বার এই ভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া অভ্যাস করুন। এ ভাবে ৫ রাউন্ড করুন।
‘কপাল’ শব্দের অর্থ হল মুখ আর ‘ভাতি’ কথার অর্থ হল জেল্লা, অর্থাৎ নিয়ম করে এই ক্রিয়া অভ্যাস করলে ত্বকে জেল্লা আসবে। এই ক্রিয়ার অভ্যাসটি শ্বাসপথকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
সর্বাঙ্গাসন: প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলেরখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। এর পর একটি পা ধীরে ধীরে নামিয়ে আনুন। অন্য পা উপরেই তোলা থাকবে। এমন ভঙ্গিতে পিঠ ও কোমর সোজা রাখতে হবে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড গুনুন। তার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। আবার অন্য পায়ে একই ভাবে আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
এই আসনটি করলে মুখ ও মস্তিষ্কের দিকে রক্ত সঞ্চালনের হার বাড়ে। এক ফলে ত্বকে জেল্লা আসবে। এই আসনটি করলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাও বাড়ে। এই গ্রন্থি বিপাকহারের পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করে।