টোনার, ক্রিম, সিরাম— রূপচর্চার জগতে প্রসাধনীর কমতি নেই। কিন্তু এত ক্রিম বা লোশন কখন, কোনটি মাখবেন তা জানা আছে কি! শরীরের যেমন ছন্দ আছে, তেমনই ত্বকেরও ঘড়ি আছে, যে সময় ধরে রূপচর্চা জরুরি। কখন, কোনটি দরকার বুঝতে হবে সময় মেনে, না হলেই লাভের বদলে ক্ষতি হবে ত্বকের।
সকাল: দিনের শুরুর লক্ষ্যই হল ত্বকের সুরক্ষা। রোদের তাপ, ধুলো-ময়লার পরত থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য দরকার সানস্ক্রিনের বর্ম। পাশাপাশি, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখাও জরুরি। তাই ত্বকের উপযোগী হালকা ময়েশ্চারাইজ়ারের সঙ্গে এই সময়ের জন্য বেছে নিন সানস্ক্রিন। দিনভর রোদে ঘোরাঘুরি করতে হলে, ২-৩ ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিনের পরত দরকার।
আরও পড়ুন:
বেলা গড়িয়ে গেলে: দিনভর রোদে ঘোরাঘুরি করতে হলে বা অনেকটা সময় বাইরে কাটালে মুখ ক্রমশ কালচে হয়ে যায়, বাড়তে থাকে তৈলাক্ত ভাব। জমে যায় ধুলোবালি। ত্বকের প্রদাহ কমাতে ভাল উপাদান নায়াসিনামাইড। সানস্ক্রিন কিংবা ময়েশ্চারাইজ়ারে নায়াসিনামাইড মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
রাত: ত্বকের যত্নের জন্য রাত খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাতের কাজ হল সারাদিনের ক্লান্তি মুছিয়ে ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখা। ঘুমের সময় ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতির কাজ চলে। সেই কারণে, এই সময়টা ত্বকের পুনরুজ্জীবনের জন্য জরুরি।
রেটিনয়েডস, এএইচএ (আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড), বিএইচএ (বেটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড) রাতের রূপচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ত্বক টানটান রাখে কোলাজেন নামক প্রোটিন। তার অভাবেই বলিরেখা পড়তে পারে। রেটিনয়েডস কোলাজেনের মাত্রা ঠিক রাখে। এই সময় ত্বকের শুধু ময়েশ্চারাইজ়ের পরত নয়, দরকার হয় বাড়তি আর্দ্রতারও। রাতের জন্য রেটিনয়েড, ভিটামিন সি জাতীয় সিরাম ভাল। ত্বকের ধরন রুক্ষ হলে ব্যবহার করা যায় হায়ালুরোনিক অ্যাসিড।
ত্বকের ঘড়ি হল, কোন সময়ে কোন যত্ন জরুরি তা বুঝে নেওয়ার চাবিকাঠি। সকালে ত্বককে রক্ষা করতে হবে, রাতে দিতে হবে আর্দ্রতার বর্ম। তা ছাড়া ঘুমের সময় ত্বক নিজের মতো করেই পুনরুজ্জীবিত হয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।