Advertisement
E-Paper

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার চাবিকাঠি, আলোচনায় ‘স্কোয়ালেন’, কী এটি? কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়?

স্কোয়ালেন নিয়ে এখন খুব চর্চা। এটি আসলে কী? কাদের জন্য ভাল?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৫
What is Squalane, benefits and how to use it

ত্বক বুড়িয়ে যেতে দেবে না স্কোয়ালেন, কী এটি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বুড়োটে ছাপ পড়বেই। ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারাবে, গাল-গলার ভাঁজে স্পষ্ট হবে বলিরেখা। এটাই স্বাভাবিক। এই পরিবর্তনের গতিকেই শ্লথ করে দেওয়ার জন্য কত না প্রচেষ্টা চলছে! ‘অ্যান্টি-এজিং থেরাপি’ নিয়ে বিশ্ব জুড়েই গবেষণা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই রূপচর্চায় ব্যবহৃত হচ্ছে যে সব প্রসাধন সামগ্রী তার মধ্যে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম, যেমন হায়ালুরনিক অ্যাসিড, রেটিনল, নিয়াসিনামাইড। ইন্টারনেটের দৌলতে এই নামগুলি এখন বেশ পরিচিত। এই নিয়ে আলোচনাও বিস্তর। তবে ইদানীং আরও একটি নাম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেটি হল ‘স্কোয়ালেন’। ত্বকের আর্দ্রতা ও জেল্লা ধরে রাখতে এর নাকি জুড়ি মেলা ভার। বয়সের চাকা যতই গড়াক, স্কোয়ালেন নাকি ত্বকে বলিরেখা পড়তেই দেবে না। তারুণ্যের দীপ্তি ধরে রাখবে। এখন কথা হল, স্কোয়ালেন আসলে কী? কী ভাবেই বা সেটি ব্যবহার করতে হয়?

স্কোয়ালেন কী?

ময়েশ্চারাইজ়ার, তেল, ফেস সিরামে স্কোয়ালেনের ব্যবহার হচ্ছে। এটি আসলে প্রাকৃতিক উপাদান যা শরীরেই তৈরি হয়। সহজ কথায় বললে, স্কোয়ালেন হল প্রাকৃতিক লিপিড বা চর্বি জাতীয় উপাদান যা তৈরি হয় লিভারে। ত্বকের গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে একটি আস্তরণ তৈরি করে। এই আস্তরণ ত্বককে নমনীয় রাখতে এবং বাইরের ধুলোবালি ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। মূলত ত্বকের যে লিপিড বা স্নেহপদার্থের স্তর থাকে তার ১০-১২ শতাংশই হল স্কোয়ালেন। এর কাজ অনেক।

১) ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ত্বককে শুষ্ক ও খসখসে হতে দেয় না।

২) ত্বকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের জোগান দেয়। স্কোয়ালেনের মাত্রা ঠিকঠাক থাকলে চর্মরোগের ঝুঁকি কমে।

৩) ব্রণ-ফুস্কুড়ি, সোরিয়াসিসের মতো রোগ হতে দেয় না। ত্বকের প্রদাহ কমায়।

৪) ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না, স্বাভাবিক জেল্লা ধরে রাখে।

স্কোয়ালেনের প্রাকৃতিক উৎস কী?

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্কোয়ালেনের মাত্রা কমতে থাকে। তখন ত্বক কুঁচকে যেতে থাকে, রুক্ষ ভাব বাড়ে। তাই স্কোয়ালেন আছে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। একটা সময়ে হাঙরের লিভার থেকে স্কোয়ালেন সংগ্রহ করা হত। তবে এখন তা নিষিদ্ধ হয়েছে। বদলে অলিভ অয়েল,আখের রস, নানা রকম ছত্রাক, দানাশস্য থেকে এটি সংগ্রহ করা হয় এবং বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজ়ার, তেল, ফেস সিরামে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়।

ব্যবহারের পদ্ধতি কী?

ময়েশ্চারাইজ়ার বা ফেস সিরামে স্কোয়ালেন মেশানো থাকে। কেনার সময়ে তা দেখে নিতে হবে। তা ছাড়া আলাদা করেও স্কোয়ালেন অয়েল বাজারে পাওয়া যায়। মুখ ধোয়ার পর সামান্য ভেজা ত্বকে ২-৩ ফোঁটা স্কোয়ালেন তেল মুখে মেখে নিতে হবে। তবে রোজ নয়। সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যবহার করা যাবে।

রোজ যে ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করেন তার সঙ্গে স্কোয়ালেন তেল মিশিয়ে মুখে, হাতে মাখলে সহজে বলিরেখা পড়বে না।

চুলের যত্নেও ব্যবহার করা যায়। রোজের শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারের সঙ্গে অথবা মাথায় মাখার তেলের সঙ্গে অল্প করে স্কোয়ালেন অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

রূপটানের আগে স্কোয়ালেন তেল সামান্য নিয়ে মুখে মেখে নিলে মেকআপের রাসায়নিকে ত্বকের ক্ষতি কম হয়।

কাদের জন্য ভাল?

খুব রুক্ষ ও খসখসে ত্বক হলে স্কোয়ালেন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ত্বক যদি খুব সংবেদনশীল হয়, অল্পেই র‌্যাশ বার হয়, তা হলে স্কোয়ালেন ব্যবহারে উপকার পেতে পারেন।

ব্রণ-র সমস্যা বেশি হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাঁদের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, অ্যালার্জির সমস্যা আছে বা এগ্‌জ়িমা, সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ আছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্কোয়ালেন ব্যবহার করবেন না।

Skin Care Tips Skin Ageing Problem
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy