Advertisement
E-Paper

শ্বেতি কি সারানো যায়? রোগটি সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ার আগে জেনে নিন সত্যিটা

শ্বেতি এক বার শুরু হলে তা ধীরে ধীরে সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বেতি নিয়ে অনেকের অনেক রকম ভুল ধারণা রয়েছে। শ্বেতি হলে কি তা সারে না?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৮
শ্বেতির কি কোনও চিকিৎসা আছে?

শ্বেতির কি কোনও চিকিৎসা আছে? ছবি: সংগৃহীত।

শ্বেতি রোগটি শরীরে হানা দেয় একেবারে চুপিসাড়ে। অনেকের ধারণা এই রোগ ছোঁয়াচে। এই ধারণা কিন্তু একেবারেই ভুল। আমাদের ত্বকের রং তৈরি করতে সাহায্য করে মেলানোসাইট কোষে থাকা মেলানিন নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। অনেক সময়ে শারীরিক সমস্যার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা অ্যান্টিবডি ত্বকের রং তৈরি করতে সহায়ক এই কোষগুলিকে শত্রু মনে করে ধ্বংস করতে থাকে। এবং ত্বক তার স্বাভাবিক রং হারাতে থাকে। এরই ফল শ্বেতি। এতে শুধু ত্বকই নয়, অনেক সময়ে চুল এবং রোমও সাদা হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে চোখের মণির উপরেও।

শ্বেতি এক বার শুরু হলে তা ধীরে ধীরে সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বেতি নিয়ে অনেকের অনেক রকম ভুল ধারণা রয়েছে। শ্বেতির সঙ্গে পরিচ্ছন্ন থাকা বা না থাকার কোনও সম্পর্ক নেই। এটি একটি ‘অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার’। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন বলেই শ্বেতি হবে না, এমন ধারণা রাখা ভুল। অনেকে ভাবেন সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির কারণে শ্বেতি হয়। অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তবে শ্বেতির জন্য দায়ী নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শ্বেতি হয় অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে।

অনেকে ভেবেই বসেন এক বার শ্বেতি হলে তার আর কোনও চিকিৎসা নেই, বিষয়টা কিন্তু ঠিক তা নয়। চর্মরোগ চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ী বলেন, ‘‘শ্বেতি কয়েক ধরনের হয়। সেগমেনটাল ভিটিলিগোর ক্ষেত্রে নার্ভ সেগমেন্ট বরাবর শ্বেতির দাগ হতে পারে, যা অনেক সময় নিজে থেকেই ছোট হয়ে আসে এবং গ্রাফ্টিংয়ের মাধ্যমে সেরেও যায়। এ ছাড়া আছে ফোকাল ভিটিলিগো অর্থাৎ শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশ যেমন মুখে বা হাতে হয়। এগুলিও বিভিন্ন গ্রাফ্টিং পদ্ধতির সাহায্যে কমানো সম্ভব। যদি সর্বাঙ্গে অর্থাৎ জেনারালাইজ়ড ভিটিলিগো হয় তা হলেও কিন্তু ফোটোথেরাপি কিংবা ওষুধের সাহায্যে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাই শ্বেতি দেখে হতাশ না হয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে।’’

কখন সমাধান সম্ভব নয়?

১) প্রথম থেকে ঠিক মতো চিকিৎসা না করালে। কিছু দিন হয়তো এক রকম চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করলেন, তার পর আর এক রকম— সে ক্ষেত্রে রোগটি এমন জায়গায় চলে যায় যে কিছু করার থাকে না।

২) রোগটি দ্রুত হাত, মুখ, ঠোঁট বা যৌনাঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে সারানো মুশকিল।

৩) ভিটিলিগোর সঙ্গে কারও যদি থাইরয়েড, ডায়াবিটিস, অ্যাজ়মা, এগজ়িমা বা অন্য অটোইমিউন ডিজ়িজ় থাকে, যা শ্বেতির চিকিৎসাকে প্রভাবিত করতে পারে, তা হলে রোগটি সারানো সহজ নয়।

Vitiligo
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy