সকালের নির্দিষ্ট সময়ে অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায়। অনেকের আবার ঘুম ভাঙার জন্য অ্যালার্মের দরকার হয়। রাতে জাগতে পারলেও অনেকেই সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না সহজে। অথচ অফিস যাওয়ার চিন্তা তো আর মাথা থেকে সরিয়ে ফেলা যায় না। বাড়ির লোকজনের ডাকে প্রতিবেশীরা উঠে পড়লেও আপনার ঘুম যেন ভাঙতেই চায় না। প্রতি দিন ফোনে অ্যালার্ম সেট করে তবেই ঘুমোতে যান। অথচ সে অ্যালার্ম বেজে বেজে বন্ধ হয়ে যায়। শেষে বাধ্য হয়ে শরীরটাকে টেনে-হিঁচড়ে বিছানা ছাড়তে বাধ্য করতে হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন অভ্যাস চলতে থাকলে তা শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
রাতে শোয়ার আগে ফোনে একটার পর একটা অ্যালার্ম ‘স্নুজ়’ করে রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। ফলে ঘুম ভাঙলেই একটার পর একটা অ্যালার্ম বন্ধ করতে হয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যদি কেউ জোর করে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে ‘সার্কাডিয়ান ক্লক’ অর্থাৎ শারীরবৃত্তীয় ঘড়িতে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট চক্র রয়েছে। এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো প্রয়োজন। রাত করে ঘুমিয়ে অনেকেই সকাল সকাল ওঠেন। ফলে ঘুমের চক্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এতে শরীরের কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। যেমন এনআরইএম (নন র্যাপিড আই মুভমেন্ট) এবং আরইএম (র্যাপিড আই মুভমেন্ট)। শুরুতেই খুব গভীর ঘুম আসে না। ধীরে ধীরে ঘুম গভীর হয়।
বিশেষ করে ‘আরইএম’ পর্যায়ে ঘুম বেশ স্বস্তিদায়ক হয়। এই সময়ে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে শরীরে এর প্রভাব পড়তে পারে। ঘুমের চক্র সাধারণত স্থায়ী হয় ৯০ মিনিট। তার পর একটু ভাঙে। আবার এই চক্র শুরু হয়। এমন করে ৪-৬ বার ঘুমের এই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অ্যালার্ম ‘স্নুজ়’ করার ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয় ঘুমের ‘আরইএম’ পর্যায়। এই ধাপে মানুষ সবচেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হন। সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য হতে পারে। অ্যালার্মের শব্দে এক বার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর ১০ মিনিটের জন্য স্নুজ় করে দিলে যে ঘুমটা আসে, সেটাও ‘আরইএম’ পর্যায় হিসাবেই ধরা হয়। ৫-১০ মিনিট পর পর ফের অ্যালার্ম বাজতে শুরু করলে হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুস্থ থাকতে তাই প্রথম অ্যালার্মেই ঘুম থেকে ওঠার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। তার জন্য ঘুমোতে যাওয়ার আগে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। যাতে বাড়তি ঘুমের প্রয়োজন না হয়।