ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি। হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় কোনও ভাবেই পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি ঘরে তুলতে পারছে না ভারত। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি আটকাতে ১৯৫৫ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ বা একা (এসেনশিয়াল কমোডিটিজ় অ্যাক্ট) জারি করেছে কেন্দ্র, যাতে এলপিজি সিলিন্ডারের মজুতদারিতে রয়েছে কড়া শাস্তির বিধান।
কী বলা হয়েছে সাত দশকের পুরনো আইনে? ‘একা’র তিন নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্র মনে করলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যে কোনও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে বা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে। আমজনতার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর ন্যায্য মূল্যের বণ্টন এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও ‘একা’র বিজ্ঞপ্তি জারির আইনগত বৈধতা রয়েছে সরকারের।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের ৯ মার্চ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। ফলে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি আটকাতে এলপিজি সিলিন্ডারের উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার অধিকার চলে এসেছে প্রশাসনের হাতে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আইনের তিন নম্বর ধারা মেনে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কেন্দ্র বা রাজ্যের আধিকারিক।
বর্তমানে বাড়ি বা গুদামে রান্নার গ্যাস মজুত করলে যাবতীয় এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিতে পারবেন জেলাশাসক বা সম পদমর্যাদার অফিসার। পাশাপাশি, এই আইনের সাত নম্বর ধারা মেনে গ্রেফতার করা যাবে অভিযুক্ত মজুতদারকে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা রুজু করবে স্থানীয় পুলিশ বা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি)। শুধু তা-ই নয়, এতে অভিযুক্ত মজুতদারের তিন মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই আইনে জরিমানার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। অভিযুক্তের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তা ঠিক করবেন বিচারক। এ ক্ষেত্রে মজুত করা রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা, কালোবাজারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং ধৃতের আর্থিক পরিস্থিতি সাজা ঘোষণার সময় মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি রান্নার গ্যাসের ডিলার হলে জেল ও জরিমানার পাশাপাশি আরও বড় শাস্তির বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ধৃতের ব্যবসা নিষিদ্ধের নির্দেশ দিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন। সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে তাঁর লাইসেন্স। পাশাপাশি, খনিজ তেল ও এলপিজি সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছেও কালো তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই আবহে তেল এবং গ্যাস সরবাহ নিয়ে সর্বত্র সমস্যা দেখা গিয়েছে। সঙ্কট দেখা যাচ্ছে ভারতেও।
- গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দু’টি গ্যাস বুক করার মাঝে ন্যূনতম ২৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
- গ্যাসের আকাল হতে পারে এই আতঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করার দীর্ঘ লাইন পড়তে দেখা যাচ্ছে গ্যাসের অফিসগুলির সামনে।
-
যুদ্ধের জেরে বাজারে গ্যাস-সঙ্কট আরও বাড়তে পারে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে! আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার আশঙ্কা
-
রান্নার গ্যাসে টান, সঙ্কটের সুস্বাদু বিকল্প হতে পারে বাটিচচ্চড়ি! সেই পদ্ধতিতে রেঁধে ফেলুন মাছ-মাংস-সব্জি
-
‘হোয়াট্সঅ্যাপে দেওয়া নির্দেশ মুছে গেল রাতারাতি’! কেন্দ্রের বিবৃতি: গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ে সময়ের ব্যবধানে রদবদল হয়নি
-
গ্যাসের খরচ কমাতে ইন্ডাকশন কিনবেন? কী কী মাথায় না রাখলে পরে আফসোস হবে
-
কালোবাজারি রুখতে রাজ্য জুড়ে পুলিশের অভিযান! বন্ধ হল আরও কিছু মা ক্যান্টিন, সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ তৃণমূলের