সেই কোন কাল থেকে শুনে আসছেন আপেল খেলে রোগভোগ কাছে ঘেঁষতে পারবে না। ছোট খাট নানা রোগে যে ডাক্তার-বদ্যি করার প্রয়োজন পড়ে, তারও দরকার হবে না। দায়িত্বটি মোটেই ছোটখাট নয়। একা আপেলের পক্ষে ‘গুরুভার’ই বলা চলে। তবে সেই দায়িত্ব আপেল সহজে পালন করতে পারে যদি তাকে সাহায্য করার জন্য বাড়তি কিছু সঙ্গে খাওয়া যায়। এক পুষ্টিবিদ সেই ‘বাড়তি সাহায্য’-এরই সন্ধান দিয়েছেন।
মুম্বইয়ের এক পুষ্টিবিদ লিমা মহাজন বলছেন প্রতি বার আপেল খাওয়ার সময় যদি এক টুকরো আদাও খাওয়া যায় তবে তা আপেলের গুণ এবং কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে উপকৃত হবে শরীর।
১. হজমশক্তির উন্নতি
আদা প্রাকৃতিকভাবে পাচক রস নিঃসরণে সাহায্য করে আর আপেলে থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। এক সঙ্গে খেলে গ্যাস, অম্বল এবং পেট ফাঁপার নানা সমস্যা কমবে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
আপেল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। অন্য দিকে, আদা অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরালও। ফলে তা শরীরকে ছোট খাট নানা সংক্রমণ এবং রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। শীতে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি এবং আরও নানা ধরনের যে সব ছোটখাট অসুস্থতা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা থেকে বাঁচতে এই জুটি দারুণ কাজ করে।
৩. ওজন কমাতে সহায়ক
আপেলে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে আবার এতে ক্যালরিও কম। তাই ওজন কমানোর ডায়েটে কোনও এক বেলায় খাবার পরে বা আগে আপেল খেলে তা এটাসেটা খাওয়ার প্রবণতা কমাবে। ওজন বাড়তে দেবে না। কিন্তু আপেলের সঙ্গে যদি আদা খাওয়া হয়, তবে ওজন আরও দ্রুত ঝরবে। কারণ, আদা মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর বিপাকের হার বাড়লে অতিরিক্ত ক্যালরি ভেঙে শক্তিতে পরিণত হবে। ফলে রোগা হবেন সহজেই।
৪. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে আপেল। আদা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তচাপও। নিয়মিত এই দু’টি খাবার এক সঙ্গে খেলে হার্ট সুস্থ থাকে।
৫. ক্ষত এবং ব্যথা নিরাময়ে
আদাতে ‘জিনজারল’ রয়েছে। যা প্রদাহনাশক। আর আপেলে রয়েছে কোয়ারসেটিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। একত্রে এই দু’টি অস্থিসন্ধি এবং পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষত মেরামতেও সাহায্য করে।
কীভাবে খাবেন?
শরবত: ১টি আপেল এবং ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা সামান্য জল দিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে সামান্য লেবুর রস ও বিট নুন মিশিয়ে নিন।
চা: আদা কুচি দিয়ে জল ফুটিয়ে তাতে আপেলের টুকরো দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর ছেঁকে মধু মিশিয়ে পান করুন।
স্যালাড: আপেলের টুকরো আদার কুচি একসঙ্গে মিশিয়ে সামান্য লেবু ছড়িয়ে স্যালাডের মতো খেতে পারেন।
সতর্কতা: যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তবে নিয়মিত আদা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।