মহানায়ক উত্তমকুমারের পছন্দের খাবার দাবার সাজিয়ে পাত পেড়ে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে ‘সপ্তপদী’। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ঐতিহ্যকে ইউএসপি করে দক্ষিণ কলকাতার পূর্ণদাস রোডের এই রেস্তোরাঁটি ইতিমধ্যেই ভোজনপ্রিয় বাঙালির কাছে সুপরিচিত। এ বার সেই রেস্তোরাঁয় মহানায়কোচিত সমারোহে জামাই ষষ্ঠীর ব্যবস্থা করেছেন এগজিকিউটিভ শেফ রঞ্জন বিশ্বাস।

আগত উৎসব উপলক্ষে রেস্তোরাঁয় হাজির হয়েছিলেন মহানায়কের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় ও জামাই ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। নবমিতা জানালেন, দাদুর সময় থেকেই, এখনও পর্যন্ত খুঁটিনাটি সমস্ত রীতি নীতি মেনে জামাই ষষ্ঠী পালন করা হয়। বাড়ির জামাইকে পাত পেড়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় মহানায়কের প্রিয় পদগুলি।

এ বছর মহানায়কের বাড়ির অন্দরমহল থেকে সেই প্রিয় পদগুলিরই সন্ধান নিয়েছিলেন রঞ্জনবাবু। জেনেছিলেন, পোস্তর উপর বিশেষ দুর্বলতা ছিল তাঁর। সেই সঙ্গে পছন্দ করতেন চিংড়ি মাছ, ভেটকি মাছ, মাটন। তাঁর কথা মাথায় রেখেই রঞ্জনবাবু এ বছরের জামাইষষ্ঠীতে সাজাচ্ছেন নতুন পদ, চিংড়ি-ভেটকি-পোস্ত কয়েন। সেই সঙ্গে থাকছে লেবু দিয়ে ভেটকি মাছের পাতুরি। এ ছাড়া চিরাচরিত মাংস-পোলাও তো আছেই। আর সবার আগে এই গরমে আরাম দিতে থাকবে বাদাম গোলমরিচের শরবৎ।

এ সমস্ত বহুবিধ পদ সাজিয়ে জামাই আদর-সহযোগে পাত পেড়ে খাওয়ার জন্য পকেট থেকে খসবে ৯৪৫ টাকা। এই দামের স্পেশ্যাল জামাই থালিতে দু’জন খেতে পারবেন পেট পুরে। এ ছাড়াও দু’জনের জন্য সাধারণ জামাই থালি রয়েছে, ৫৯৯ টাকায়।

আরও পড়ুন: ওহ ক্যালকাটার জামাই ভোজ

আয়োজন দেখার পর এবং দ্বিপ্রাহরিক খাওয়া সারার পর মহানায়কের জামাই ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের সরস মন্তব্য, ‘‘এই আয়োজন মোটেই পাত পেড়ে বসে খাওয়ার মতো নয়, খাওয়ার পরে রীতিমতো শুয়ে পড়ার মতো।’’ তিনি জানান, উত্তম-সুচিত্রার ফ্যান্টাসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই রেস্তোরাঁর সাজ-সজ্জায় তিনি মুগ্ধ। 

অনুলিখন: তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত