হাসপাতালের হালে তাজ্জব কর্মাধ্যক্ষ
নিজস্ব সংবাদদাতা • পুরুলিয়া
প্রতিদিন দুপুরের মধ্যেই রোগীদের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের এক্স-রে এবং প্যাথোলজি বিভাগের। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে এক রোগীর জন্য খোঁজ নিতে গিয়ে বুধবার এমন অভিযোগই শুনতে হল জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রধান দু’টি বিভাগের দরজা বহির্বিভাগের মতো প্রতিদিন দুপুরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যত অবাক কর্মাধ্যক্ষ। প্যাথোলজি বিভাগে গিয়ে উত্তমবাবু শোনেন, এই বিভাগ প্রতিদিন সকাল ন’টা থেকে দুপুর দেড়টা অবধি খোলা থাকে। যদিও এই বিভাগের কর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা বেলা ২টা অবধি বিভাগ খুলে রাখেন। অন্য দিকে, খালি পেটে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা অন্তর্বিভাগের রোগীদের অনেক বেলা পর্যন্ত রক্ত পরীক্ষা করাতে অপেক্ষা করতে হয়, এমন অভিযোগও শোনা গিয়েছে। উত্তমবাবু সহকারী সুপার মিঠুন বণিকের কাছে এর কারণ জানতে চান। সদুত্তর পাওয়া যায়নি। প্যাথোলজি বিভাগের কর্মীরা তাঁকে জানান, বহির্বিভাগ যতক্ষণ চলে, ততক্ষণই তাঁরা বিভাগ খুলে রাখেন। উত্তমবাবু জানতে চান, তারপরে কোনও রোগীর ওই সব পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলে, তার কী হবে? ওই বিভাগের চিকিৎসক আশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বরাবর বহির্বিভাগের মতোই এই বিভাগের কাজ হয়।” হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগেরও একই ছবি। এই বিভাগের এক টেকনিশিয়ান কর্মাধ্যক্ষকে জানান, “প্রতিদিন ২০টি করে এক্স-রে করার পরেই বিভাগ বন্ধ করা হয়।” কেন দুপুরের পরে বন্ধ করা হয়, এর সদুত্তর তাঁর কাছেও মেলেনি। কর্মাধক্ষ্য বলেন, “ওই দু’টি বিভাগ দুপুরের পরে বন্ধ হওয়ায় বুঝতে পারছি রোগীরা ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছেন না।” সুপার নীলাঞ্জনা সেন বলেন, “তাঁর প্রস্তাব মেনে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিভাগ দু’টি খোলা রাখার সময় বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করা হবে। অন্য সমস্যাগুলিও কাটানোর চেষ্টা চলছে।”
মারণ-জ্বরে ফের মৃত্যু
নিজস্ব সংবাদদাতা • শিলিগুড়ি
এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে ফের মৃত্যু হল উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর নাম মেহমুদা খাতুন (৬০)। বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের ধনতলায়। গত শনিবার তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রক্ত পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন মেহুমুদা খাতুন। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত জুলাই মাস থেকে এই পর্যন্ত এনসেফ্যালাইটিসে ১২০ জনের মৃত্যু হল। জ্বর নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীরা অবশ্য এখনও আসছেন। হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিকে এ দিন ২৫ জন রোগী দেখিয়েছেন। তবে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাত জন জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত।
এখনও পরিস্রুত জল নেই মেডিক্যালের পড়ুয়াদের হস্টেলে
নিজস্ব সংবাদদাতা • শিলিগুড়ি
মন্ত্রীর নির্দেশের তিন দিন পরেও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হস্টেলগুলিতে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা হল না। বুধবারও নিউ বয়েজ হস্টেল, কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল গার্লস হস্টেলে জল পরিস্রুত করার যন্ত্র সারানো হয়নি। দুই সপ্তাহ ধরে ৩টি বয়েজ হস্টেল এবং মেয়েদের একটি হস্টেলে পানীয় জল পরিস্রুত করার যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় পড়ুয়াদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সোমবার সমস্যার কথা জেনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এর পর কর্তৃপক্ষ যন্ত্র মেরামতের লোক ডাকেন। মঙ্গলবার জুনিয়র বয়েজ হস্টেল এবং সিনিয়র বয়েজ হস্টেলে জল পরিস্রুত করার যন্ত্র সারানো হয়। কিন্তু নিউ বয়েজ হস্টেল, কাদম্বিনী হস্টেলের যন্ত্র এ দিন পর্যন্ত সারানো হয়নি। হাসপাতালের সুপার সব্যসাচী দাস বলেন, “এ দিনই ওই হস্টেলগুলির যন্ত্র সারানোর ব্যবস্থা হয়েছে। কর্মীরা গিয়েছেন। দ্রুত সেগুলি ঠিক করা হচ্ছে।” যন্ত্র বিকল থাকায় পড়ুয়াদের এখনও জল কিনে খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। অধ্যক্ষ সমীর ঘোষ রায় বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”
হাসপাতাল ঘুরে দেখলেন প্রতিনিধিরা
নিজস্ব সংবাদদাতা • রানিগঞ্জ
আসানসোল জেলা হাসপাতালে নির্মিয়মান ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখলেন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ৫ জন প্রতিনিধি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিনিধি দলকে জানান, বাড়ি নির্মাণের অর্ধেকের বেশি কাজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে লিফট, র্যাম্প ও পৃথক আইসিইউ তৈরির কাজ বাকি রয়েছে। খরচের হিসাব স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে লিখিত পর্যায়ে জানানো হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
হাসপাতালে মৃত্যু সদ্যোজাতর, চাঞ্চল্য
এক সদ্যোজাতর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। এই মর্মে ওই হাসপাতালের সুপারের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, বাবলারি গ্রামের নিত্যানন্দপুরে বাসিন্দা রেস্কনা দাসকে গত শনিবার রাতে প্রসব বেদনা ওঠায় তাঁকে ওই হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি একটু কন্যাশিশু প্রসব করেন। রেস্কনা দেবীর স্বামী শঙ্করবাবুর অভিযোগ, শিশুটি জন্মানোর পর থেকে বুধবার সকালে মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেনি। চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ ওই হাসপাতালের সুপারের কাছে দেওয়া হয়। হাসপাতালের সুপার আশিসরঞ্জন কুঁয়ার বলেন, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু ঠিক কী কারণে শিশুটি মারা গেল তা জানতে শিশুটির ময়না-তদন্ত করার দরকার ছিল। কিন্তু তার পরিবারের লোকজন তাতে রাজি হয়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। দাস-দম্পত্তির বিয়ের ন’বছর পরে ওই সন্তান জন্মায় । স্বভাবতই তাঁরা ওই ঘটনায় মুষড়ে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য পোর্টাল
স্বাস্থ্য পরিষেবায় বেসরকারি উদ্যোগে একটি ই-পোর্টাল চালু হল বুধবার। শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরির সঙ্গে ওই সংস্থা যুক্ত থাকবে। এর সদস্য হলে দিনের যে কোনও সময়ে ওই সব হাসপাতালের ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন যে কেউ। ‘ইওর’ নামে ওই সংস্থার তরফে সুদীপ্ত সোম এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “পরবর্তী সময়ে ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্ষেত্রেও সদস্যদেরই অগ্রাধিকার থাকবে। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা সংক্রান্ত আরও কিছু সুবিধা পাবেন সদস্যরা।”
চক্ষুদান নিয়ে
রাজ্যে চক্ষুদানের সংখ্যা এখনও অনেক কম। সমস্যা রয়েছে চোখ সংরক্ষণেও। তাই জেলায় জেলায় চক্ষু ব্যাঙ্ক করা জরুরি। জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচির অধীন ২৯তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষকালের সূচনা উপলক্ষে বুধবার আর জি করে এক অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যই উঠে এল। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, চক্ষু বিভাগের উপ স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী প্রমুখ।