কর্মব্যস্ত দিন কী ভাবে, কোথা দিয়ে কেটে যায়, টের পাওয়া যায় না। সকালে শুধু দুই চোখ খোলার অপেক্ষা! পুরুষ হোন বা মহিলা— তার পর সারাটা দিন বেশির ভাগেরই কাটে চরম ব্যস্ততায়। সেই ব্যস্ততার মধ্যে রান্না করা অনেক সময় বড় ঝক্কি মনে হয়। তরিবত করে রান্নার জন্য সময় কোথায়?
বরং হেঁশেলের খাটনি খানিক কমানো যেতে পারে, দ্রুত রান্নাও করা যেতে পারে যদি একটু প্রস্তুতি নেওয়া যায়। রান্না করতে যতটা সময় লাগে, তার চেয়ে বেশি সময় লেগে যায় কাটতে-বাছতে। সে কারণেই দরকার কৌশল।
রকমারি মশলা: রান্না সহজ হবে মশলা তৈরি করা থাকলে। পনির থেকে আলুরদম, তরকারিও রান্না করে ফেলা যাবে পেঁয়াজ ভেজে, আদা-রসুন বাটা, টম্যাটো দিয়ে মশলা কষিয়ে রাখলে। মশলা করে ফ্রিজে বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে রাখুন। মাশরুম হোক বা মাংস— গ্যাস অভেনে মশলার সঙ্গে কষিয়ে গরম জল দিয়ে ফুটিয়ে নিলেই রান্না হয়ে যাবে। বাঁচবে সময়। স্বাদ বদলে থেচা মশলা(রসুন, চিনেবাদাম, কাঁচালঙ্কা শুকনো খোলায় নেড়ে, ধনেপাতা দিয়ে বেটে রাখুন)তৈরি করে রাখতে পারেন। তা দিয়ে ডিম, পনির, আলুরদম— সবই রাঁধা যায়।
কেটেকুটে রাখা: রান্নার সময় সব্জি কাটা বড় ঝক্কির ব্যাপার। হাতে সময় থাকতে ফুলকপি, গাজর, ধুয়ে কেটে জল ঝরিয়ে বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে রাখতে পারেন। বিন, ব্রকোলির মতো সব্জি কেটে পরিষ্কার করে ফ্রিজে পাউচ প্যাকে ভরে রাখতে পারেন। ২-৩দিন পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যায়। কাজের সুবিধার জন্য আদা-রসুনও বেটে রাখুন অন্তত এক সপ্তাহের জন্য।
আরও পড়ুন:
ডিম সেদ্ধ: ডিম সেদ্ধ করা থাকলে ঝোল, কারি রান্না যেমন সহজ হয়, তেমনই স্যান্ডউইচ, রুটি-রোল বানিয়ে নেওয়া যায়। ডিম সেদ্ধ করে খোসা না ছাড়িয়ে ফ্রিজে ৩-৪ দিন পর্যন্ত রেখে দিতে পারেন।
নুড্লস, পাস্তা: বাড়িতে নুড্লস, পাস্তা খাওয়ার চল থাকলে এগুলিও আগে থেকে করে রাখতে পারেন। নুন দিয়ে সেদ্ধ করে তেল মাখিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে বায়ুনিরোধী কৌটোয় ভরে রাখুন ফ্রিজে। তাড়াহুড়োর সময় টিফিন বানানো সহজ হবে।
লস্যি, শরবত কিউব: খুব ঘন করে লস্যি বানিয়ে নিন। একটু বেশি করে নুন, চিনি মেশান। সেগুলি বরফের ট্রেতে জমিয়ে নিন।একই ভাবে তরমুজ, লেবুর শরবত বানিয়ে বরফ জমানোর ট্রে-তে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। সারা দিনের পরে তেতেপুড়ে এলে কয়েকটি লস্যি বা শরবত কিউব গ্লাসে নিয়ে একটু জল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে শরবত।