গ্যাসের খরচ কমাতে বিকল্প নানা উপায়ের খোঁজ চলছে এখন। কেউ ইন্ডাকশনে রাঁধছেন, কেউ ভাজাভুজির জন্য বেছে নিচ্ছেন এয়ার ফ্রায়ার। মাইক্রোওয়েভে চটজলদি বানানো যায়, এমন সব রান্নার রেসিপির খোঁজ চলছে। তবে গ্যাসে আগুনের আঁচে রান্না, আর এই ধরনের কুকিং ডিভাইসগুলিতে রান্নায় তফাৎ আছে। যদিও মাইক্রোওয়েভ বা এয়ার ফ্রায়ারে রান্না নিরাপদ, তবু যদি খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হয়, তা হলে এগিয়ে কে?
মাইক্রোওয়েভ বনাম এয়ার ফ্রায়ার
রান্নার পুষ্টিগুণে
মাইক্রোওয়েভে রান্না খুব তাড়াতাড়ি হয় এবং জলের ব্যবহার কম হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভাপিয়ে রান্নার ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ বেশি কার্যকরী। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না। রান্নার পরেও জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি যেমন ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি এর পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। এয়ার ফ্রায়ারে যা হয় না।
আসলে কম তেলে ভাজাভুজির জন্য এয়ার ফ্রায়ার উপযুক্ত। তবে সমস্যা আছে। খুবই উচ্চ তাপে যেমন ১৮০ ডিগ্রি বা ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গরম বাতাস ব্যবহার করে রান্না করা হয়। এত উচ্চ তাপে রান্নাটি দ্রত হয় ঠিকই, কিন্তু খাবারে থাকা কিছু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভকেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখা যায়।
আরও পড়ুন:
ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে
ডায়েট করছেন, এ দিকে ভাজাভুজি খেতেও মন চায়। তা হলে এয়ার ফ্রায়ার বেছে নিতে পারেন। ডুবো তেলে রান্নার বদলে কেবল হালকা তেল ব্রাশ করেই মুচমুচে ভাজা হয়ে যাবে। মাইক্রোওয়েভে তেমনটা হয় না।
রাসায়নিকের ঝুঁকি
স্টার্চ বা শর্করা জাতীয় খাবার যেমন আলু, উচ্চ তাপে অনেক ক্ষণ রান্না করলে তার থেকে অ্যাক্রিলামাইড নামক যৌগ তৈরি হয়। এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরির সম্ভাবনা কম। মাইক্রোওয়েভে সে ঝুঁকি তেমন নেই ঠিকই, তবে মাইক্রোওয়েভে বেশির ভাগ সময়েই প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করে রান্না হয়। সমস্ত প্লাস্টিকের পাত্র মাইক্রোওয়েভের জন্য নিরাপদ নয়। কেবলমাত্র ভাল মানের মাইক্রোওয়েভ উপযোগী পাত্রই ব্যবহার করা উচিত। না হলে তাপরোধক কাচের পাত্রে রান্না করা উচিত।
স্বাদের দিক থেকে অবশ্য এয়ার ফ্রায়ার ও মাইক্রোওয়েভ উভয়কেই এগিয়ে রাখা যায়। ভাজা খাবারের জন্য এয়ার ফ্রায়ার এগিয়ে, তবে ভাপিয়ে রান্না খাবারের জন্য মাইক্রোওয়েভই সেরা।