এ যেন উদোর নাম বুধোর ঘাড়ে!

প্রতিবেশী হোন বা আত্মীয়, অনেক দিন পর দেখা হওয়া পুরনো কোনও বন্ধু কিংবা রোজই দেখা হওয়া সহকর্মী— অনেক ক্ষেত্রে নাম কিছুতেই মনে পড়ে না! রোজ দেখা মুখ হলেও একই সমস্যা। এর নামে ওকে ডাকা বা নাম ভুলে অন্য কোনও সম্বোধনে ডেকে কাজ চালানোর অভিজ্ঞতা আমাদের সকলেরই কমবেশি রয়েছে।

হঠাৎ রাস্তায় দেখা হল চেনা কারও সঙ্গে, হেসে কথাও বললেন, কুশলবিনিময় করে তিনি চলে যাওয়ার পরেও নাম আর কিছুতেই মনে পড়ছে না। এমনটা কি আপনার সঙ্গেও ঘটে?  কিন্তু আপনি মোটেও খুব ভুলোমনের মানুষ নন। দিব্য নিজের সব কাজ গুছিয়ে করেন, তবু সাধারণ একটা নাম মনে করার বেলাতেই এমনটা কেন হয়? ভেবে দেখেছেন কখনও?

এই নিয়েই ভাবতে বসেছিলেন বিশ্বের তাবড় বিশেষজ্ঞরা। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরি অ্যান্ড প্লাস্টিক প্রোগ্রামের ডিরেক্টর চরণ রঙ্গনাথের ব্যাখ্যা যেমন, আমরা সেই জিনিসই মনে রাখতে চাই, যা থেকে কিছু শেখা গেল বা নতুন কিছু জানা গেল। যা কি না ভবিষ্যতে কাজে আসবে। নাম জানার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই আমরা তা সৌজন্যের অংশ হিসাবে দেখি। তাই তাকে আলাদা করে গুরুত্ব দেয় না মস্তিষ্ক। ফলে ভুলে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: ইউরিক অ্যাসিড চোখ রাঙাচ্ছে? ওষুধ ছাড়াই এই উপাদানে দূরে রাখুন তা

কিন্তু নাম জানার সঙ্গে যে পরবর্তীতে ডাকার একটা প্রয়োজনীয় কারণও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে? রঙ্গনাথের ব্যাখ্যা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মস্তিষ্ক ধরে নেয়, এই নাম ধরে ডাকার কোনও না কোনও বিকল্প থাকবেই। চেনা মানুষদের ক্ষেত্রে নানা পরিচয়, বন্ধু ও পরিচিতদের নানা সম্বোধনে ডাকলেও সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সম্ভাবনাই মস্তিষ্ককে আত্মবিশ্বাস দেয় যে সে নামটা মনে না রাখলেও খুব ক্ষতি হবে না। দরকারে আর একবার জেনেও নেওয়া যাবে। এই মনোভাবও নাম ভোলার জন্য দায়ী।

একই নামের বহু মানুষের ক্ষেত্রে একটা সংখ্যার পর তা মুছে ফেলে মাথা।

আর কী কী কারণ? একই নামের বহু মানুষদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও থ্যালামাসের আচরণও খুব একটা ভরসাযোগ্য নয়। মনস্তত্ত্ব বিশারদ জোশুয়া ক্লাপো-র মতে, একই নামে বহু মানুষ থাকলে মস্তিষ্ক একটা সংখ্যার পর আর সেই  নাম মনে রাখার দায় রাখে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয় মুখ চেনার বিষয়টিও। মুখ চিনলেও কাজ চলে যায় এমন মানুষের ক্ষেত্রে নাম মনে রাখার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়। তাই মাথাও আর এর পিছনে ‘বৃথা পরিশ্রম’ করতে চায় না।

আরও পড়ুন: ভুঁড়ি বাড়ছে? প্রতি দিন নিয়ম করে খান এই স্মুদি, দ্রুত ঝরবে অতিরিক্ত মেদ 

নাম ভুলে যাওয়ার বিষয়ে আরও কিছু ব্যাখ্যা আছে বিজ্ঞানীদের কাছে। তাঁদের মতে, এক জন মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখা হলে তাঁর চেহারা, আচরণ, তাঁর সঙ্গে আলাপ বাড়ানোর উপায় বা পছন্দ না হলে তাঁকে ছেড়ে আসার সুযোগ খুঁজতে থাকে মাথা। এত কিছু একমসঙ্গে করে ওঠা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সব দিক বজায় রাখতে গিয়ে হাইপোথ্যালামাস ছেঁটে ফেলে মানুষের নামটাই!

আরও এক অদ্ভুত কারণে নাম ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় আমাদের। সব নামই মনে রাখা সহজ, আমি ঠিকই নাম মনে রাখতে পারি বা না পারলেও কাজ ঠিকই চালিয়ে নেওয়া যাবে— এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জেরেই আমরা ভুলতে বসি নাম!

(ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখ, দেখতে ক্লিক করুন — ফিরে দেখা এই দিন।)