• সুজাতা মুখোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গর্ভাবস্থায় ডায়াবিটিস ক্ষতি করে প্রসূতি ও শিশুর, কোন পথে মিলবে মুক্তি?

gestational diabetes
গর্ভাবস্থায় ডায়াবিটিসে কিন্তু ভাবী মা ও সন্তানের সমূহ বিপদ। ছবি: শাটারস্টক।

Advertisement

আগে সুগারের নামগন্ধ ছিল না, গর্ভাবস্থার ২৬–২৮ সপ্তাহে হঠাৎই বেড়ে গেল রক্তে শর্করার পরিমাণ। অনেক ক্ষেত্রেই এমন হয়। এর নাম জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস৷

মূলত প্রেগন্যান্সি হরমোনের দৌলতেই হয় এ রকম। অনিয়ম করলে আশঙ্কা আরও বাড়ে। এ ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই অসুখের প্রভাব বাড়ে। যেমন:

  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম থাকলে এই রোগের শঙ্কা বাড়ে।

  • আগের গর্ভাবস্থায় জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস হয়ে থাকলেও ভয় থাকে।

  • মায়ের বয়স ৩৫–এর বেশি হলে সাবধান হতে হবে।

  • রক্তের সম্পর্কযুক্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ডায়াবেটিস হলে আশঙ্কা থেকে যায়।

  • আগের সন্তানের যদি জন্মগত ত্রুটি থাকে সে ক্ষেত্রে বা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজন নিয়ে যদি সে জন্মে থাকে তা হলেও অসুখের সম্ভাবনা বাড়ে।

  • হবু মায়ের হাইপ্রেশার থাকলে, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বেড়ে গেলে, আগে অজানা কারণে গর্ভপাত হলে বা মৃত সন্তান জন্মালে এই রোগ ধেয়ে আসতে পারে।

  • ভাবী মায়ের ওজন বেশি থাকলেও সতর্ক হতে হবে।

শীতে টনসিলের সমস্যা? ওষুধ ছাড়াই রোগ তাড়ান এই সব ঘরোয়া উপায়ে আরও পড়ুন

এক বার এই রোগ হওয়া মানে কিন্তু ভাবী মা ও সন্তানের সমূহ বিপদ। কাজেই কখন কী করবেন তা দেখে সতর্ক থাকা দরকার।

সুগার বাড়ার বিপদ

  • হাইপ্রেশার ও প্রি–একলাম্পশিয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

  • চোখ–কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

  • ইউরিন–ভ্যাজাইনাতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

  • প্ল্যাসেন্টা বড় হতে থাকে, বাড়ে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড।

  • বাচ্চা যে থলির মধ্যে থাকে তা ছিঁড়ে সময়ের আগে প্রসবের আশঙ্কা বাড়ে।

  • প্ল্যাসেন্টা ছিঁড়ে গেলে শুরু হয় প্রবল রক্তপাত, বাচ্চার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে এতে

  • সিজারের সময় রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে৷ সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

  • নবজাতকের রক্তে সুগার কমে যেতে পারে৷ বাড়াবাড়ি রকমের জন্ডিস বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। 

মধু-লেবুর জল নয়, বরং ব্রেকফাস্টের আধ ঘণ্টা আগে এই পানীয়ই ঝরাবে মেদ! আরও পড়ুন

রোগের লক্ষণ

অধিকাংশ সময় এই রোগের উপসর্গ তেমন থাকে না৷  কিছু ক্ষেত্রে আবছায়া দেখা, ক্লান্তি, ইউরিন–ভ্যাজাইনা–ত্বকের সংক্রমণ, জলতেষ্টা, বার বার প্রস্রাব পাওয়া, গা–বমি, খিদে বাড়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকা ইত্যাদি লক্ষণ কখনওসখনও থাকে৷

রক্ত পরীক্ষা

হবু মায়ের বা তাঁর পরিবারে কারও ডায়াবিটিস থাকলে গর্ভাবস্থার ১২–১৫ সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। না থাকলে করা হয় ১৬–২০ সপ্তাহে। ফাস্টিং সুগার ১১০–এর বেশি ও ভরপেট খাওয়ার দু–ঘণ্টা পর (পিপি সুগার) ১৪০–এর বেশি এলে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার এক ঘণ্টা, দু–ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টা পরে রক্তে সুগারের মাত্রা মাপা হয়। একে বলে ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ওজিটিটি)। তাতে গোলমাল এলে শুরু হয় চিকিৎসা।

ডায়েট ও চিকিৎসা

  • তেল–ঘি–মাখন–চর্ব একদম কমিয়ে দিন৷ প্রোটিনও আগের চেয়ে কম খান৷

  • শাক–সব্জি–ফল খান পর্যাপ্ত৷ সঙ্গে মাপমতো ব্রাউন ব্রেড, আটার রুটি, ভাত৷

  • চিনি, গুড়, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিঙ্ক, আইসক্রিম, সরবৎ, ফলের রস, কেক, পেস্ট্রি খাবেন না৷

  • কোন খাবার কতটা খাবেন তা বুঝতে ডায়াটিসিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন৷

  • রোগ যদি ডায়াবেটিসের আগের পর্যায়ে থাকে, যাকে ইমপেয়ার্ড গ্লুকোজ টলারেন্স বলে, লো ক্যালোরির সুষম খাবার ও হালকা ব্যায়ামেই তা নিয়ন্ত্রণে থাকে বেশিরভাগ সময়৷

  • ডায়াবেটিস হয়ে গেলে এর পাশাপাশি ওষুধ বা ইনসুলিন লাগে৷ নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করে ওষুধ ঠিক করতে হয়৷ গ্লুকোমিটার নামের যন্ত্রে ঘরেই এই রক্ত পরীক্ষা করা যায়৷

  • সামান্য কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করে নজরদারি করতে হতে পারে৷

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন