• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নতুন সম্পর্কে জড়াতে চলেছেন? এখনই বাদ দিন এই সব ভুল

relationship
নতুন সম্পর্কে হোন আরও বেশি যত্নবান। ছবি: শাটারস্টক।

Advertisement

চুকেবুকে গিয়েছে বললেই সব চুকেবুকে যায় না। মনের সিঁদ কেটে কখন ঢুকে পরে মনচোরা, কেউ হিসেব কষে বলতে পারে না। অজান্তেই আমরা মন দিয়ে ফেলি নতুন মানুষকে। কোনও এক শুভ মহরতে দেখা, তারপর অল্প চেনা একজন মানুষ ক্রমে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

কেউ সুখে থাকেন, কারও আবার মাঝপথেই সম্পর্ক মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু সম্পর্ক শুরুর সময়েই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেক সময়েই সমস্যা এড়ানো যায়। গড়ে ওঠে এমন সম্পর্ক যা কবির ভাষায় 'মধুরতুমুল'।

কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনও রুল বুক আছে যা মেনে চললে কুসুমকোমল হবে সম্পর্কের পথ? উত্তর একটাই, পুরনো ভুলগুলোর থেকে বেরিয়ে আসুন। সম্পর্ক অনেকটা ক্রিকেট বলের মতে। নতুন বলের চটক উঠে গেলেই যেমন তা বোলার ও ব্যাটসম্যানের আসল যুগলবন্দি বোঝায়, প্রেমও পুরনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আসল রসায়ন খুঁজে পায়। তাই জেনে নিন নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের কোন জায়গাগুলি মেরামত জরুরি।

আরও পড়ুন: আইসক্রিমেরও রয়েছে এই সব স্বাস্থ্যগুণ, জানতেন?

নিজেকে চিনুন

যাঁরা ভাবেন অন্য কেউ আমায় ভাল রাখবে, তাঁরা ভুল ভাবেন। অন্য কেউ কখনও আপনাকে ভাল রাখতে পারে না। অনেকেই এই ভাবনার বশবর্তী হয়ে সম্পর্কে এগিয়ে মাসুল দেন। বরং নিজেই নিজেকে চিনুন। চিহ্নিত করুন নিজের আবেগের উৎসগুলি। তাহলে উলটো দিকের মানুষটিকে নিজের সম্পর্কে জানান দিতে সুবিধে হবে।

ঝগড়াকে অশান্তির দোরগোড়ায় পৌঁছতে দেবেন না কখনও।

নিজের ধারণা নয়, জোর দিন তাঁর কথায়

আমরা কারও প্রতি আকর্ষিত হলেই মনের মাধুরী মিশিয়ে তাঁর মানসপ্রতিমা বানিয়ে নিই।  এই আবেগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সামনের মানুষটিকে বলতে দিন। কোন জায়গায় তিনি স্পেস চান, কোন ব্যাপারে সহজাত ভাবে তিনি কথা বলতে পারেন এগুলি তাঁর থেকেই জানুন। মূর্তি গড়ার ভুলটি নতুন সম্পর্কে করবেন না।

মানসিক বন্ধন আরও জোরালো হোক

যৌনতা সম্পর্কের জরুরি অংশ। কিন্তু মনোবিদরা বলছেন প্রথমে 'ইন্টিমেসি' তারপরে 'সেক্সটিমেসি'। অর্থাৎ প্রথমে প্রিয় মানুষটির মনের গতি বোঝার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক শুধুই যদি যৌনতা অভিমুখী হয়, যৌনতার শেষে তবে আর সম্পর্কের কোনও ভিত্তি থাকে না।

আরও পড়ুন: ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ভয়? এই সব খাবারেই রয়েছে সমাধান

পারিবারিক নির্ভরতা কমান

একজন মানুষের জন্যে  বয়েসের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা খুব জরুরি। সমস্ত কাজে যদি বাবা মায়ের সাহায্য পেয়ে যান তাহলে অসম্পূর্ণতার বোধই তৈরি হবে না যা নতুন সম্পর্কটিকে  জায়গা করে দেবে। নিজে দায়িত্ব নিতে শেখা জরুরি। সম্পর্কের অনেকটাই দাঁড়িয়ে থাকে জরুরি সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার ওপরে। এ ব্যাপারে নাবালকত্ব যত দ্রুত কাটবে, ততই আপনার মঙ্গল।

ইগো নয়

সে কেন আগে এল না মান ভাঙাতে, কেন আমার ইচ্ছেয় সায় দিল না— এ সব ভুল ভাবনা অনেক হয়েছে। সম্পর্ক থাকলে ঝগড়া হবে, মনোমালিন্যও। কে আগে যাবেন আর কে পরে, এ সব বালখিল্য আচরণ ছেড়ে এগিয়ে যান যে কোনও এক জন। যে কোনও সম্পর্কেই এক একটু বেশি নিয়ন্ত্রণ করেন। খুব সমস্যা হলে সেটা নিয়ে সরাসরি কথা বলুন, কিন্তু অশান্তি নয়। জানবেন, জীবনের সব ক্ষেত্রের অঙ্ক হয় না। হিসেব কষে চলা তো যায়ই না। তাই সব বিষয়ে আত্মসম্মানের ফানুস না ওড়ালেও চলে। কঠিন থাকুন সেখানেই, যেখানে দরকার।

ঝগড়া বাসি নয়

যে দিনের সমস্যা পারলে সে দিনই মেটান। খুব দেরি হলে তার পরের দিন। কিন্তু আর দেরি নয়। ঝগড়াকে অশান্তির দোরগোড়ায় পৌঁছতে দেবেন না কখনও। বেশি দিন ধরে থাকলে তিক্ততা বাড়ে, দূরত্বও তৈরি হয়। গোটা জীবনের নিরিখে এক আধটা ধগড়া কিন্তু খুবই তুচ্ছ। তাই তা পুষে রেখে বেশি সময় নষ্ট করবেন না। 

আরও পড়ুন:  দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সব কিছু নিয়ে ঘ্যানঘ্যান বা রাগারাগি একেবারেই নয়।

সন্দেহে দাঁড়ি

আগে গোঁত্তা খেলেও এ বার তো নতুন মানুষ? তা হলে তাঁকে সম্মান করুন। আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা খারাপ হলে সচেতন থাকুন, কিন্তু অকারণে সন্দেহ করবেন না সঙ্গীকে। তাতে সম্পর্ক তো টেকেই না উল্টে জটিলতা বাড়ে। আমরা হারতে ভালবাসি না। তাই সন্দেহ আর অধিকারবোধ আঁকড়ে থাকি। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে এই জোর খাটানো, সন্দেহ এ সব থেকে আগে বেরন।

ঘ্যানঘ্যানে হব না

ভালবাসলে নির্ভরতা আসাই নৈতিক। এতে কোনও ভুল নেই। কিন্তু তার মানেই সব কিছু নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করা বা সঙ্গী কিছু ক্ষণ একা থাকতে চাইলেও সব সময় তাঁর ঘাড়ে শ্বাস ফেলা, সব সময়ই তাঁকে ফোনে ব্যস্ত রাখা— এগুলো কোনও কাজের কথা নয়। এ সব ছেলেমানুষি থেকে সরুন যত দ্রুত সম্ভব।  

ছবি: শাটারস্টক।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন