Advertisement
E-Paper

অফিসের বাইরে আর ‘বস্’-এর ফোন ধরতে হবে না! কোন কোন দেশে মেলে এমন সুবর্ণ সুযোগ?

কাজ শেষ করার পরেও অফিসের ফোন আর ধরতে হবে না, এমনটা এ দেশের চাকরিজীবীদের জন্য স্বপ্নের অতীত। তবে এমন অনেক দেশেই আছে, যারা এ ব্যাপারে ভীষণ উদার। দেশবাসীর মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। দেখে নিন, কোন কোন দেশ রয়েছে সেই তালিকায়।

আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০২৪ ১৩:৪৬
অফিসের পর কর্মীকে ফোন, মেসেজ করলেই সংস্থাকে দিতে হবে জরিমানা।

অফিসের পর কর্মীকে ফোন, মেসেজ করলেই সংস্থাকে দিতে হবে জরিমানা। ছবি: শাটারস্টক।

কেমন হত, যদি কাজের সময়ের বাইরে বা ছুটির দিনে অফিসের ফোনে জেরবার না হতে হয়? অথবা উত্তর না দিলেও কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার না থাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের? কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য এই বদলটির প্রয়োজন হলেও আমাদের দেশে এই সংক্রান্ত কোনও আইন নেই।

এ দেশে, বিশেষ করে বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, অফিসের কাজের চাপে ব্যক্তিগত জীবন বলে কার্যত আর কিছু থাকে না। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই অফিসের কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। ফোন ধরা, ইমেলের উত্তর দেওয়া তো রয়েছেই, এমনকি, বাড়িতেও যখন-তখন ল্যাপটপ, কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়তে হয় অফিসের কাজে। আবার ফোন, ইমেলের উত্তর না দিলে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোপেও পড়তে হয়। কাজ শেষ করার পরেও অফিসের ফোন ধরতে হবে না, এমনটা এ দেশের চাকরিজীবীদের জন্য স্বপ্নের অতীত। তবে এমন অনেক দেশেই আছে, যারা এ ব্যাপারে ভীষণ উদার। দেশবাসীর মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। দেখে নিন, কোন কোন দেশ রয়েছে সেই তালিকায়।

অস্ট্রেলিয়া: সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন পাশ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ় বলেন, ‘‘কর্মীরা তো আর ২৪ ঘণ্টা কাজের জন্য মাইনে পায় না, তা হলে তাঁরা কেন ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে? এতে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।’’ এই আইনে বলা হয়েছে, মালিকপক্ষ যদি কাজের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অযথা কোনও কারণে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তা হলে তাদের ৬৩ হাজার ডলার (প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।

ফ্রান্স: ফ্রান্সের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মীরা সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করবে না। ২০১৭ সালে এ দেশে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন পাশ করা হয়। যে সংস্থায় ৫০ জনের বেশি কর্মী কাজ করে তাদের ক্ষেত্রেই দেশের এই আইন প্রযোজ্য। এই আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ করার পর কর্মীরা তাদের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগকারী ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি বন্ধ করে দিতে পারেন। ছুটির পর কর্মীরা সংস্থার তরফে আসা কোনও রকম ফোন, মেসেজ ও ইমেলের জবাব দিতে বাধ্য নন।

বেলজিয়াম: ২০২২ সালে এ দেশেও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন চালু করা হয়। প্রথমে কেবল সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হলেও পরে বেসরকারি কর্মীদের জন্য একই আইন প্রযোজ্য হয়। বেসরকারি অফিসে ২০ জনের বেশি কর্মী থাকলেই এই আইন মানতে তারা বাধ্য।

ইটালি: ২০১৭ সালে এ দেশে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন চালু হয়। তবে এই আইনের আওতায় দেশের সব কর্মী পড়েন না। যাঁরা দূর থেকে নির্দিষ্ট কোনও সংস্থার হয়ে কাজ করেন, কেবল তাঁদের জন্যই এই আইন প্রযোজ্য। এই আইনের অধীনে ছুটির পর সংস্থার পক্ষ থেকে আসা কোনও ফোন, মেসেজ বা ইমেলের উত্তর দিতে বাধ্য নন।

স্পেন: এ দেশের কর্মীদের জন্যও ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইন রয়েছে। অফিসের ছুটির পর যেন কর্মীদের বাড়তি কোনও কাজ করতে না হয়, সেই কারণেই এ দেশে ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইনটি চালু করা হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy