বিমানবন্দরে ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বেয়ে যখন যাত্রীদের লাগেজ আসতে থাকে, শয়ে শয়ে একই রকম লাগেজের মধ্যে নিজের স্যুটকেসটি চিনে নেওয়া যে কতটা কঠিন, অনেকেই জানেন। কারণ, লাল স্যুটকেস পাবেন অন্তত এক ডজন, বেশ কয়েকটি থাকবে নীল এবং কালো স্যুটকেস। তার মধ্যে একই কোম্পানির এবং একই মাপের ট্রলি স্যুটকেস হলে নিজেরটি গুলিয়ে ফেলা খুবই স্বাভাবিক। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটেও।
এবার সেই সমস্যার এক নতুন সমাধান মিলেছে সমাজমাধ্যমে। কৌশল মনেও ধরেছে অনেকের। বিষয়টি হল, নিজের মুখ দিয়ে প্রিন্ট করা স্যুটকেসের কভার। অনেকে আবার সেখানে ব্যবহার করছেন নিজের মুখের বিকৃত বা মজার মুখভঙ্গিও। যতই লোকজন প্রিন্টেড কভার ব্যবহার করুক না কেন, নিজের মুখের বড়সড় ছবি থাকলে দূর থেকেই তা চিনতে পারা সম্ভব। মুখচ্ছবি তো মিলবে না অন্য কারও সঙ্গে, তাই গুলিয়ে যাওয়ার ভয়ও নেই।
বিমানসফরের সময় বিমানবন্দর থেকে নিজের স্যুটকেস চিনে নেওয়ার নানা পন্থা বিভিন্ন সময় জনপ্রিয় হয়েছে। কেউ একই রকম স্যুটকেসের মধ্যে থেকে নিজেরটিকে আলাদা করার জন্য হাতলে রঙিন ফিতে বেঁধে দিতে বলেছেন, কেউ আবার রঙিন ছাপের স্যুটকেস কভার লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে নিজের মুখের বিকৃত মুখভঙ্গির এই প্রিন্টেড কভারের ভাবনা অনেকের কাছেই অভিনব বলে মনে হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত।
অনেকে আবার এই নিয়ে নানা রকম মজার মন্তব্যও করেছেন সমাজমাধ্যমে। কেউ বলেছেন, ‘‘আমার পাসপোর্টের ছবিটি প্রিন্ট করে কভার হিসাবে দিলে চোর কেন বিমাবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরাও তাকানোর সাহস পাবেন না।’’ আবার কেউ মজা করেছেন, ‘‘লাগেজ হারানোর, চুরির ভয় এবার শেষ। উল্টে যাত্রীর চোখ এড়িয়ে গেলেও, ছবি দেখেই অন্য যাত্রী বলে দেবেন, ওই যে আপনার স্যুটকেস।’’ এই ভাবনা যাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত তাঁকে উদ্দেশ্য করে আর একজন মন্তব্য, ‘‘এমন বুদ্ধিমত্তাকে সম্মান করতেই হয়, কারণ স্যুটকেস এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দ্বারা সুরক্ষিত!’’
প্রিন্ট করা স্যুটকেস কভারের ভাবনা যে জনপ্রিয় হচ্ছে, একাধিক ভিডিয়ো, রিলেই তা স্পষ্ট। বিভিন্ন বিমানবন্দরেই এমন কভারের ব্যবহারও বেড়েছে। প্রিন্ট করানোর জন্য অনলাইনেই বিভিন্ন সংস্থা আছে। পছন্দের ছবি এবং লেখা দিলে, একেবারে সেইমতো প্রিন্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রিন্ট করানোও সহজসাধ্য, এ জন্য খরচও বিস্তর হয় না। তাই অনেকেই এই পথেই হাঁটতে চাইছেন।