বিমানবন্দরে ব্যাগ হারিয়ে ফেলার ঘটনা নতুন নয়। অন্যের সঙ্গে বাক্সবদলও ঘটে যায় মাঝেমধ্যে। আর এক বার ব্যাগ হারালে হাজারো ঝক্কি। বিমানসংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা, ‘প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট’ বা ‘পিআইআর’ করা অথবা বিমানসংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেল আইডি নিয়ে সেখানে মেল করে হারানো জিনিসপত্রের বিবরণ দেওয়া— কাজ অনেক। তার পরেও ব্যাগপত্র খুঁজে পাওয়া না গেলে, অপেক্ষাও করতে হয়। যেটুকু সময় এতে যায়, তাতে যাত্রীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই হয়রানি কমাতেই হারানো জিনিসপত্র খুঁজে দেওয়ার নতুন উপায় বার করেছে গুগ্ল। শুধু ‘ফাইন্ড হাব’ অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করে রাখুন।
গুগ্লের এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে যাত্রীরা তাঁদের ব্যাগটি ঠিক কোথায় রয়েছে সেই অবস্থান একদম ম্যাপ-সহ ট্র্যাক করতে পারবেন। সেই লোকেশন সরাসরি শেয়ার করতে পারবেন বিমানসংস্থার সঙ্গে। যদি ব্যাগ চুরি যায় কোনও কারণে অথবা অদলবদল হয়ে যায়, তা হলেও সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। কারণ কর্তৃপক্ষ হারানো ব্যাগের সঠিক অবস্থান ট্র্যাক করতে পারবেন গুগ্লের মাধ্যমেই।
কী ভাবে কাজ করবে ‘ফাইন্ড হাব’?
ফাইন্ড হাব ফিচারটি অনেকটা ডিভাইস ট্র্যাকিং টুলের মতো কাজ করবে। তবে এটি বিশেষ ভাবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগপত্র খোঁজার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রথমে আপনার ব্যাগের সঙ্গে একটি ব্লুটুথ ট্র্যাকার লাগিয়ে দিন। ফাইন্ড হাব খুঁজে পাবে, এমন ধরনের ট্র্যাকার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেটির কোড ফাইন্ড হাব অ্যাপে দিয়ে রাখুন।
ব্যাগ পাওয়া না গেলে, ফোনে ‘ফাইন্ড হাব’ অ্যাপটি খুলে ব্যাগে লাগানো ট্র্যাকারের কোড খুঁজে বার করতে হবে। এর পর ‘শেয়ার আইটেম লোকেশন’ নামে একটি অপশনে গিয়ে ক্লিক করতে হবে।
ওই অপশনে ক্লিক করলেই একটি ‘ইউআরএল’ বা লিঙ্ক তৈরি হবে। এই লিঙ্কটি বিমানসংস্থার কাস্টমার সাপোর্ট বা হেল্প ডেস্কের নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা করতে হবে।
বিমানসংস্থার কর্মীরা ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের অবস্থান ম্যাপ-সহ দেখতে পাবেন। ব্যাগটি সেই মুহূর্তে কোথায় রয়েছে, তা-ও দেখা যাবে এবং দ্রুত সেটি উদ্ধারও করা যাবে।
যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথাও ভেবেছে গুগ্ল। যে লিঙ্কটি তৈরি হবে, সেটির মেয়াদ সাত দিনের বেশি নয়। হারানো ব্যাগ খুঁজে পাওয়ার পর সেটি বিমানসংস্থার পোর্টাল থেকে মুছে যাবে বা লিঙ্কটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। যাত্রীর ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের গোপন তথ্য সুরক্ষিতই থাকবে। আরও একটি সুবিধা হল, ইন্টারনেট না থাকলেও অ্যাপটি কাজ করবে। ফলে ব্যাগ খুঁজে পেতে কোনও সমস্যা হবে না।
গুগ্ল ইতিমধ্যেই কয়েকটি বিমানসংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে। এয়ার ইন্ডিয়া, লুফ্ৎহানসা, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, চায়না এয়ারলাইন্স, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, এজেট-সহ আরও অনেক বিমানসংস্থার নামই রয়েছে তালিকায়, যারা ইতিমধ্যেই গুগ্লের ‘ফাইন্ড হাব’ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা শুরু করেছে।