বাড়ির সৌন্দর্য শুধু বসার ঘর বা শোয়ার ঘরের সজ্জায় নির্ভর করে না, তার সঙ্গে জুড়ে যায় স্নানঘর থেকে হেঁশেলও। কাঠের উনুনের দিন গিয়েছে কবেই। গ্যাস অভেনের আধুনিক সংস্করণ এখন ঘরে ঘরে। তবে তার চেয়েও বেশি ‘স্মার্ট’ হয়েছে রান্নাঘর। সেখানে এখন আধিপত্য ইন্ডাকশন অভেন, মাইক্রোওয়েভ অভেন, এয়ার ফ্রায়ারের।
বড় বাড়িতে থাকার সুযোগ ঘিঞ্জি শহরে সকলের হয় না। স্থান সংকুলানের অভাবে বাড়ি ভেঙে তৈরি হচ্ছে বহুতল। সেই বহুতলে দুই বা তিন কামরার ফ্ল্যাটে হেঁশেলের জন্য খুব বেশি জায়গাও থাকে না। ছোট্ট পরিসরে হরেক জিনিস আঁটানো এবং দৃষ্টি-নান্দনিকতার জন্যই আধুনিক রান্নাঘরের ভাবনা। হেঁশেলে এখন জায়গা করে নিচ্ছে নীচ থেকে উপর পর্যন্ত পাল্লা ঢাকা ক্যাবিনেট। তার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ছোট জায়গাতেও জিনিসপত্র রাখার অসুবিধা হয় না। আবার পাল্লার আড়ালে কী আছে তা বাইরে থেকে দেখা যায় না। ফলে ভিতরটি তেমন গোছানো না হলেও অসুবিধা থাকে না।
তবে বদ্ধ ক্যাবিনেটের বদলে রান্নাঘরে অনেকেই এখন রাখছেন খোলা তাক। অন্দরসজ্জাশিল্পীরা বলছেন, খোলা তাকেও হেঁশেল সুন্দর দেখাতে পারে। তা ছাড়া, দেওয়াল জোড়া ক্যাবিনেট তৈরির চেয়ে এটি অনেক সাশ্রয়ী পন্থাও।যদিও উন্মুক্ত তাক রাখার মূল সুবিধা অন্য জায়গায়—
আর্দ্রতা ও ছত্রাক রোধ: বদ্ধ ক্যাবিনেটে ভ্যাপসা বাতাস আটকে থাকে, যা থেকে কাঠে পচন ধরে এবং ছত্রাক জন্মায়। খোলা জায়গায় বাতাস চলাচল করতে পারে, ফলে দেওয়াল ও বাসনপত্র শুকনো থাকে।
সাশ্রয়: পুরো দেওয়াল জুড়ে ক্যাবিনেট বানাতে যে খরচ হতো, খোলা তাক ব্যবহার করে অনেক কম খরচে রান্নাঘরকে নতুন রূপ দেওয়া যায়।
পরিষ্কার রাখা সহজ: ক্যাবিনেটের উপরে ধুলো জমলে তা আড়ালে থেকে যায়। খোলা তাকে ময়লা জমলে তা সহজেই চোখে পড়ে এবং মুছে ফেলা যায়।
অন্দরসজ্জা শিল্পীদের কথায়, ফ্ল্যাট বা বাড়িতে যদি ছাদে জল জমার সমস্যা থাকে বা সেই জায়গায় বৃষ্টি বেশি হয়, অথবা জায়গাটি জলাজমির আশপাশে হয়, তা হলে সেই বাড়ি বা ফ্ল্যাটে নোনা ধরার সম্ভাবনা থাকে। এমন জায়গায় বদ্ধ ক্যাবিনেট থাকলে সমস্যা হতে পারে। তার চেয়ে খোলা তাক অনেক ভাল।
কী ভাবে করবেন?
তাকের রকমারি: কোনও একটি দেওয়ালে বড় করে তাক তৈরি করুন। ইদানীং নানা রকম ‘কিচেন সেলভ’ পাওয়া যায় যা আধুনিক হেঁশেলে বেশ মানানসই হতে পারে। এমন কিছু সরাসরি কিনে নেওয়া যেতে পারে। ভারী বাসন রাখার জন্য যেমন তাক হয়, তেমনই মশলাপাতি রাখার জন্যও নানা রকম জ্যামিতিক আকৃতির তাক হয়। স্টিলের, কাঠের নানা ধরনের হয় এগুলি।
তিনটি জায়গা তৈরি করুন: প্রতি দিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হাতের নাগালে খোলা তাকে রাখুন, ভারী জিনিস নীচের দিকে কোনও কাবার্ডে বা তাকে রাখতে পারেন। অতিরিক্ত জিনিস আলাদা কোনও তাকে গুছিয়ে রাখতে পারেন বা অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারেন।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিন: অনেক সময় এমন অনেক বাসন জমে যায় যা তেমন কাজে লাগে না। তবে তাক যেহেতু খোলা থাকছে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি শুধু রাখতে হবে। অতিরিক্ত অনাবশ্যক জিনিসপত্র রান্নাঘর অহেতুক ভরিয়ে তুলবে।
সঠিক উপাদান বাছাই: জল এবং ওজন সহ্য করতে পারে এমন স্টেইনলেস স্টিল বা ধাতব তাক ব্যবহার করুন। তাকে যেহেতু অনেক প্লেট-বাটির ভার থাকবে, তাই দেওয়ালে লাগানোর সময় মজবুত করে আটকাতে হবে।অতিরিক্ত ভার নিতে পারে এমন ভাবে সেটি ফিট করতে হবে।
এতে রান্নাঘর ভীষণ টিপটপ হয়তো দেখাবে না, তবে বদ্ধ জায়গার জন্য উন্মুক্ত তাকের ভাবনা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। তা ছাড়া, খোলা তাকে কায়দা করে সুদৃশ্য বাসনপত্র রাখলে, হেঁশেলের সৌন্দর্যও বাড়বে।