Advertisement
E-Paper

মাটির দরকার হবে না, বেশি জায়গাও চাই না, ছোট্ট যন্ত্রে জলেই সব্জি ফলান খুব সহজে

শহরাঞ্চলের স্বল্প পরিসরে জনপ্রিয় হচ্ছে এমন চাষের পদ্ধতি, যাতে মাটির ব্যবহার নেই। জলস্রোত তৈরি করে এই চাষ হয়। ‘হাইড্রোপনিক্স’ পদ্ধতি কেন জনপ্রিয় হচ্ছে, কী ভাবে বাড়িতে এই পন্থায় চাষ করবেন?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১০:৩১

ছবি: সংগৃহীত।

বাড়ি লাগোয়া উঠোন, সংলগ্ন জমিতে বাগানের ছবি শহরাঞ্চলে বড় একটা দেখা যায় না। বিশেষত জনবহুল শহুরে কংক্রিটের জঙ্গলে উধাও সবুজ। থাকার ঠাঁই এখন ১০-১২ তলা আবাসনের চৌখুপ্পিতে। সেখানে মাটিই বা কোথায়, আর বাগানের জায়গাই বা মিলবে কী করে?

বদলেছে শহরের ছবি। কমেছে গাছগাছালি। বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে সবুজায়ন যে কতটা জরুরি, তার প্রমাণ মিলছে পদে পদে। ঘরের ভিতর অন্দরসজ্জায় অনেকেই ছোটখাটো গাছ রাখেন বটে, কিন্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে চাষবাস হয় না। সেই কারণেই বদল আসছে চাষের পদ্ধতিতে। মাটির বিকল্প খোঁজারও চেষ্টা চলছে। আর তার ফলেই জনপ্রিয় হয়েছে ‘হাইড্রোপনিক্স’ পদ্ধতি।

এটি এমন এক পন্থা, যেখানে মাটির ব্যবহার ছাড়াই পুষ্টিসমৃদ্ধ জলধারার সাহায্যে চাষাবাদ করা যায়। এই ধরনের চাষে জায়গা লাগে খুব কম, কিন্তু খুব সহজ টাটকা শাক-সব্জি ফলানো যায়। সেই কারণেই বাড়ছে এর কদর।

কী ভাবে শুরু করবেন এমন পদ্ধতিতে চা

অনলাইনে ‘হাইড্রোপনিক’ কিট কিনতে পাওয়া যায়। একটি কিটেই থাকে যাবতীয় জিনিস। চারা তৈরির জায়গা থেকে বীজ, জলে মেশানোর জন্য খনিজ, জলধারাকে প্রবহমান রাখার সমস্ত ব্যবস্থাই মেলে সেখানে।

নিউট্রিয়েন্ট ফিল্ম টেকনিক ব্যবহার হয় এ ক্ষেত্রে। গাছের নীচে পুষ্টিসমৃদ্ধ জলের ধারা বহমান থাকে। শাকসব্জি বা গাছের বেড়ে ওঠার জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তার আশপাশের তাপমাত্রা ভাল। দারকার রোদেরও।

পন্থা সহজ। যদি কেউ হাইড্রোপনিক্স কিট কিনে নেন, তাতে থাকে ছোট কয়েনের মতো জিনিস। যেগুলি জলে ভিজিয়ে রাখলে ফুলে যায়। এগুলি বীজের আধার। এর মধ্যে ১-২টি করে বীজ ফেলে ঢাকা দিয়ে রাখুন। ধীরে ধীরে বীজ অঙ্কুরিত হবে।

হাইড্রপনিক্স-এর ট্রের মধ্যে জল দিয়ে কিটে থাকা খনিজ সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে দিতে হবে। এই খনিজই চারাগুলিকে বেড়ে ওঠার পুষ্টি জোগাবে। যন্ত্রের সাহায্যে জলে গতি আনতে হবে। তার পরে নির্দিষ্ট খোপে এক একটি গাছ বসিয়ে রোদে রাখলেই চলবে।

গাছের বেড়ে ওঠার পরিবেশ উপযুক্ত হলে দিন ১৫-এর মধ্যেই চারাগুলি বড় হয়ে গাছে পরিণত হবে। প্রতি সপ্তাহে জলের মধ্যে প্রয়োজনীয় খনিজ এক মিলিলিটার করে দিতে হবে। পুষ্টির অভাব হলে গাছের বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। পাতা কুঁচকে যেতে পারে বা হলুদ হতে পারে। নাইট্রোজেন এবং পটাশিয়াম গাছের বেড়ে ওঠার জন্য জরুরি খনিজ। পিএইচ বা জলে অম্ল ও ক্ষারের মাত্রা থাকা প্রয়োজন ৫.৫-৬.৫।

অক্সিজেনও চাষের জন্য জরুরি। অক্সিজেন গাছের শিকড় পচে যাওয়া থেকে আটকায়। জলের প্রবহমান ধারা অক্সিজেনের জোগান বজায় রাখে। এই চাষের অন্যতম শর্তই হল— শিকড় সব সময় জলে নিমজ্জিত থাকবে।

এই পদ্ধতিতে পালংশাক, লেটুস, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, মেথি, সর্ষে, পুদিনা-সহ একাধিক সব্জি চাষ করা সম্ভব।

হাইড্রোপনিক চাষের সুবিধা

· জলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত। একই জল বার বার ব্যবহার হয়।

· সব্জির বৃদ্ধিও হয় দ্রুত গতিতে।

· মাটির ব্যবহার নেই। ফলে সার মেশানো, মাটি তৈরির ঝক্কি কম। পোকামাকড়ের হানাও কম হয়।

অসুবিধা

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ধরনের চাষের পরিকাঠামো তৈরি করতে বেশ কিছুটা খরচ হয়। তা ছাড়া, জলের স্রোত বজায় রাখার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। বড় পরিসরে চাষ করতে গেলে পরিকাঠামোর জন্য প্রযুক্তিগত সাহায্যের দরকার হতে পারে।

Gardening Tips Hydroponics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy