রান্নাঘরে সচরাচর অতিথি প্রবেশ করে না, সে কথা ঠিক। কিন্তু তাই বলে হেঁশেল সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখবেন না, তা তো হতে পারে না। অনেকেরই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে হেঁশেলেই। তাই যেখানে দিনের বেশির ভাগ সময়টা থাকছেন, তা সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখলে মনটাও ভাল থাকে। অনেক বাড়িতেই রান্নাঘর বেশ ছোট। জায়গার অভাব। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, ছোট জায়গায় কী ভাবে মনের মতো করে সাজিয়ে তুলবেন সাধের রান্নাঘর। জায়গা কম হলেও, একটু বুদ্ধি খরচ করলেই ছোট হেঁশেলও গোছানো যাবে সুন্দর করে, আকারেও বড় দেখাবে। রইল তেমন কয়েকটি পরামর্শ।
১) হেঁশেল বড় দেখাতে হলে সবার আগে আলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন। হেঁশেল যত অন্ধকার থাকবে ততই ছোট দেখাবে। তাই দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো হেঁশেলে ঢুকলেও, রাতের বেলা যেন রান্নাঘরে আলোর ঘাটতি না হয়, সেই ব্যবস্থা করুন। এ ক্ষেত্রে আন্ডার ক্যাবিনেট এলইডি, পেন্ডেন্ট লাইট, ক্যান্ডেললাইট এলইডির মতো আলো ব্যবহার করে হেঁশেলকে সাজিয়ে তুলুন।
২) একেই জায়গা কম, তার উপর হেঁশেল জুড়ে জিনিসপত্র ছড়িয়েছিটিয়ে রাখলে দেখতে যেমন ভাল লাগে না, তেমনই রান্নাঘর ছোটও দেখায়। তাই রান্নাঘরের কাউন্টারটপ রান্নার বাসনপত্র, মশলার কৌটো দিয়ে ভরিয়ে রাখলে চলবে না। কাউন্টারটপ, জানলার ধার এবং ক্যাবিনেটের টপগুলি পরিষ্কার করে রাখুন। তাকের ভিতরটা যথাসম্ভব সাজিয়ে রাখুন। কাজ হয়ে গেলেই হেঁশেল সবার আগে পরিষ্কার করে নিন।
৩) উল্লম্ব ডোরাকাটা পোশাক পরলে যেমন লম্বা দেখায়, তেমনই রান্নাঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রের নকশাতেও উল্লম্ব ভাব রাখলে তা আকর্ষণীয় হয়। তাতে মনে হতে পারে হেঁশেলের সিলিংয়ের উচ্চতা অনেকখানি। হয়তো আদৌ তা নয়। এ ক্ষেত্রে হেঁশেলের ক্যাবিনেটগুলি উঁচু করে বানান। রোজ যে জিনিসপত্রগুলি কাজে লাগে না, সেগুলি ক্যাবিনেটের উপরের তাকগুলিতে ভরে রাখুন। রোজের ব্যবহারের জিনিসগুলি হাতের কাছেই রাখুন।
৪) ক্যাবিনেটের উপরের সানমাইকা হোক বা হেঁশেলের কাউন্টার টপ, যত চকচকে হবে, ততই হেঁশেলে আলোর চলাচল বাড়বে। তাই ছোট হেঁশেল বড় দেখাতে হলে সবার আগে এগুলি বদলে ফেলুন।
৫) ক্যাবিনেটের দরজা কাঠ দিয়ে না বানিয়ে কাচ দিয়ে বানান। এতে চোখে বিস্তৃতির অনুভূতি তৈরি হয়। বাধা পায় না চোখ। মনে হয়, দেওয়ালগুলি আর একটু দূরে রয়েছে। এই কৌশলে ছোট্ট ঘর বড় দেখায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কাচের আলমারির ভিতরে জিনিসপত্রগুলি যেন সাজানো থাকে। ওলটপালট হয়ে থাকলে কিন্তু এই কৌশল কার্যকর হবে না।