প্রবল দাবদাহে যদি স্বস্তি কোথাও মেলে, তা হলে তা এসি ঘরে। কিন্তু দিনভর তো আর বাড়িতে এসি চালিয়ে রাখা চলে না। তার চেয়ে বরং অন্দরসাজে বদল আনতে পারেন। ছোট ছোট বদলেই বাড়ির পরিবেশ গরমের উপযোগী করে তোলা যায়।
পর্দার কারিকুরি: গরমের দিনে ঘরে থাকুক ফুলেল ছোঁয়া। সুতির বা লিনেনের হালকা রঙা পর্দা বেছে নিন। ছোট ছোট ফুল বা ছাপা পর্দা ঘরের পরিবেশে অন্য মাত্রা যোগ করবে। রাখতে পারেন হালকা সবুজ, ঘিয়ে, সাদা রঙের এক রঙা সুতির পর্দাও। সুতি বা লিনেন কাপড়ের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাইরের আলো-বাতাস সহজে ঢুকতে পারে। ঘর ঠান্ডা থাকে।
খসখস
খসখস হোক গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার দোসর। ছবি:সংগৃহীত।
বাড়ির যে অংশে রোদ বেশি আসে, সেই অংশে জানলা বা বারান্দা ঢাকতে পারেন খসখস দিয়ে। খসখস বিশেষ এক ধরনের ঘাসের শিকড় দিয়ে তৈরি হয়। ঘর ঠান্ডা রাখতে কাজ করে বাষ্পীভবন। এই পর্দা ভিজিয়ে রাখতে হয়। সেই জল যখন বাষ্পীভূত হয় তখন ঘর ঠান্ডা হয়ে যায়।
গাছ: অন্দরসজ্জায় ব্যবহার করা হয় নানা রকম গাছ। শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, ঘরের বাতাস পরিশোধনে এবং বাড়ি ঠান্ডা রাখতেও সবুজের ভূমিকা আছে। বাড়ির আনাচ-কানাচে রাখুন রকমারি গাছ। বাড়ির বারান্দা, ছাদেও গাছ রাখতে পারেন। সবুজের আধিক্যেই কিছুটা হলেও ঠান্ডা থাকবে ঘর। আরাম হবে চোখের।
শীতলপাটি: আগেকার দিনে অতিথিকে বসতে দেওয়ার জন্য শীতলপাটি বিছিয়ে দেওয়ার চল ছিল। বর্তমান সময়ে কারুকাজ করা গালিচা সেই জায়গা নিয়েছে। তবে গরমের দিনে ফিরিয়ে আনতে পারেন পুরনো দিনের শীতলপাটি। এটিও এক ধরনের গালিচা, বিশেষ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়। শীতলপাটি ছাড়িয়ে মেঝে সাজিয়ে রাখতে পারন জুটের পাতলা রাগ বা ছোট শৌখিন গালিচায়, সুতির কারুকাজ করা গালিচায়।
জানলা: বাড়ির বারান্দার দিকে দরজা, জানলাগুলি যথা সম্ভব খুলে রাখুন। বিশেষত ভোরে এবং সন্ধ্যার পর। বাড়িতে যত হাওয়া খেলবে, ততই ঘর ঠান্ডা হবে। খেয়াল রাখা দরকার যেন জানলার সামনে বড় আসবাব না থাকে। আসবাব যত কম থাকবে, ঘরদোর ফাঁকা থাকবে, ততই আলো-হাওয়া খেলবে বেশি।