হেঁশেলের সামনেই যদি কারিপাতা, লঙ্কা, টম্যাটো, ধনেপাতা ফলে, এর চেয়ে আনন্দের কী-ই বা হতে পারে? হাত বাড়ালেই ছিঁড়ে নেওয়া যাবে লঙ্কা, ঝোল ফুটলে দিয়ে দিতে পারবেন তাজা ধনেপাতা।
তবে কাঁচালঙ্কাই হোক বা ধনেপাতা, বীজ ছড়ালেই গাছ হয় না। রান্নাঘরের সামনে চারা কিনে টব বসালেও যে গাছ বড় হবে, ফলন হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কেমন পরিবেশে, কী ভাবে রাখলে কাঁচালঙ্কা গাছ বাড়বে দ্রুত, ফলন হবে বছরভর।
১। কাঁচালঙ্কা গাছ বেড়ে ওঠার প্রথম শর্তই হল রোদ। অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সূর্যালোক জরুরি। ফলে রান্নাঘরের জানলায় যদি যথেষ্ট আলো না আসে, সেই স্থান কাঁচালঙ্কা ফলানোর জন্য আদর্শ নয়। দক্ষিণ খোলা জানলা বা বারান্দার যে অংশ ঠিকমতো সূর্যালোক আসে, সেই স্থান বেছে নিন গাছের জন্য।
২। বীজ ছড়ালে গাছ হবে। কিন্তু অনেক সময় মাটি ঠিক মতো তৈরি করতে না পারলে বীজ থেকে চারা বার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তার চেয়ে বরং কাঁচালঙ্কার জাত বুঝে নার্সারি থেকে চারা কিনে আনুন।
৩। নার্সারি থেকে কেনা চারার সঙ্গে শক্ত মাটি থাকে। সেই মাটিতে শিকড় ছড়িয়ে যায় বলে, অনেকে সব শুদ্ধুই অন্য টবে বসিয়ে দেন। কিন্তু উদ্যানপালকেরা বলছেন, ওই মাটি সব সময় ঠিক থাকে না। কাঁচালঙ্কা গাছের গোড়ায় জল বসলেই বিপদ। তাই বাগানের মাটির সঙ্গে সার, বালি, কোকোপিট মিশিয়ে ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করতে হবে। তার আগে গাছের সঙ্গে মাটি থাকলে সেটি জল ভর্তি বালতিতে ভিজিয়ে রাখুন। মাটি গলে নরম হয়ে বেরিয়ে যাবে। তার পরে চারাটি প্রতিস্থাপন করুন। এতে শিকড় ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
৪। জল দিতে হবে তখন, যখন টবের মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে যাবে। ভিজে মাটিতে জল ঢাললে, ফলন বন্ধ হতে পারে।