অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কার করার সময় অনেকেই পুরনো জল ফেলে দেন। বাসি, গন্ধযুক্ত জল আপাত ভাবে ব্যবহারের যোগ্য নয় হয়তো। কিন্তু এই জল গাছের জন্য খুবই উপকারী হতে পারে। ঠিক ভাবে ব্যবহার করলে এই জল গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, তা-ও কোনও রাসায়নিক সার ছাড়াই। তাই যাঁরা বাগান করতে ভালবাসেন, বা চাষবাস সম্পর্কে ভাল ভাবে অবহিত, তাঁদের কাছে এই জল অত্যন্ত উপযোগী।
মাছ রাখার ট্যাঙ্কের জলে আসলে মাছের বর্জ্য, খাবারের অবশিষ্টাংশ আর উপকারী জীবাণু মিশে থাকে। এই উপাদানগুলি গাছের গোড়ায় গেলে ধীরে ধীরে গাছ মজবুত হয়, পাতায় রং ধরে, এবং নতুন শাখা-প্রশাখা গজানোর ক্ষমতাও বাড়ে। এই জলের পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ট্যাঙ্কগুলিতে মাছের বর্জ্য থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। আর এই অ্যামোনিয়াই প্রথমে নাইট্রাইটে এবং পরে নাইট্রেটে পরিণত হয়। অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইট মাছের জন্য ক্ষতিকারক। তাই সময় মতো জল পরিবর্তন করা উচিত। কিন্তু নাইট্রেট গাছের জন্য উপকারী। এই জল মাটিতে মেশালে নাইট্রোজেন একেবারে নতুন এক চক্রে পা রাখে। মাটির জীবাণু এবং গাছের শিকড় ধীরে ধীরে এগুলিকে গ্রহণ করে। আর এই জল আরও পাতলা হয়ে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যাকোয়ারিয়ামের জল গাছে পুষ্টি জোগাবে। ছবি: সংগৃহীত।
এই জল ব্যবহার করার পদ্ধতিটি খুব সহজ। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার সময় যে জল বেরোয়, সেটি আলাদা পাত্রে ধরে রাখুন। পরে সেই জল আপনার টবে লাগানো গাছগুলির গোড়ায় দিন। গাছের পাতায় দিলে ততখানি কাজ না-ও করতে পারে, তাই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া দরকার। তাতেই গাছের শিকড়ে পুষ্টি জোগাবে ভাল ভাবে। রোজ নয়, মাঝেমধ্যে এই জল দিয়ে গাছের গোড়া মজবুত করুন।
আরও পড়ুন:
পাতাবাহার, শাকসব্জি, ভেষজ গাছে অ্যাকোয়ারিয়ামের জল বেশি উপযোগী। ক্যাকটাস, সাকুলেন্টের মতো গাছগুলিতে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন পড়ে না। যে গাছ শুষ্ক মাটি পছন্দ করে, সেই গাছগুলিতেও এই জল দিতে হবে না। আর যদি অ্যাকোরিয়ামের জল নোনতা হয়, সেটি গাছের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। নুন-জল মাটি ও গাছের শিকড় নষ্ট করে দিতে পারে। সাধারণ জল, যাতে রাসায়নিক মেশানো নেই, সেটিই বাগান করার জন্য নিরাপদ। আর যদি সম্প্রতি অ্যাকোয়ারিয়ামে ওষুধ মিশিয়ে থাকেন, তা হলে সে জল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভাল।