যখন ওজন ৭৫ কেজি, তখন বুঝতে পারেননি, তিনি ভাল আছেন, না কি মন্দ!
ওজন ৯৫ কেজি হতেই ছিপছিপে থাকার মর্ম বুঝেছেন সব্যসাচী চৌধুরী। যদিও যা করেছেন অভিনেতা, সবটাই অভিনয়ের খাতিরে। সায়ন্তন ঘোষালের ‘সাধক বামাখ্যাপা’তে তিনি নায়ক। ‘সাধক’কে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করতেই ২০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল তাঁকে।
চেহারার পরিবর্তন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন আনন্দবাজার ডট কম-কে। সব্যসাচীর এই সফর মনে পড়াতেই পারে ‘দম লগা কে হইশা’ ছবির ভূমি পেডনেকরকে। তাঁকেও ছবির স্বার্থে ৩০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল। সে সময়ে ভূমির ওজন ৫৭ কেজি থেকে বেড়ে ৯০ কেজি!
ছবির স্বার্থে কী ভাবে ওজন বাড়িয়েছিলেন সব্যসাচী? অভিনেতার কথায়, “মূলত খাওয়াদাওয়ার উপরেই নির্ভর করেছিলাম। ঘুমের পরিমাণও একটু বেড়েছিল। বিরিয়ানি, কবাব খেতে খুবই ভালবাসি। সে সব তখন পেট ভরে খেয়েছি। এ ভাবেই একটু করে ওজন বেড়েছে।” ৯৫ কেজি ওজন ছ’মাস ধরে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। যতই ধীরেসুস্থে বাড়ানো হোক, শরীরের ওজনবৃদ্ধি মানেই নানা সমস্যা। হাঁটুতে ব্যথা, দ্রুত চলাফেরা না করতে পারা, উঠতে-বসতে সমস্যার মতো অনেক কিছুই হয়। সব্যসাচীর কি সে রকম কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছিল? অভিনেতা কিন্তু অস্বীকার করেননি। বলেছেন, “তখন প্রথম বুঝলাম, আগের ওজনে কত ভাল ছিলাম! দ্রুত হাঁটাচলা করতে পারতাম না। শরীর ভীষণ ভারী মনে হত।”
গত নভেম্বরে কাজ ফুরোতেই আবার ‘পুনর্মুষিক ভব’ হওয়ার পালা। এ বার ছোটপর্দায় ‘নায়ক’ হিসাবে দেখা যাবে সব্যসাচীকে। তার আগে ৩ মাসে ১৪ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন অভিনেতা! সব্যসাচী কিন্তু ধীরেসুস্থে ওজন কমাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ক্র্যাশ ডায়েটের পক্ষপাতী নই। আবার খুব যে শরীরচর্চা করি, তেমনও নয়। তা হলে ওজন কমাব কী করে?” যিনি বিরিয়ানি-কবাব দেখলে নিজেকে সামলাতে পারেন না, ইদের আগে তাঁর খাবারের তালিকা থেকে এই দুই পদই বাদ! “যে যে খাবারে ওজন বাড়ে সে সব বাদ দিয়ে দিয়েছি। তাতেই ৩ মাসে ১৪ কেজি ওজন ঝরেছে আমার”, বক্তব্য অভিনেতার।
ওজন ঝরতেই হাঁটাচলা দ্রুত হয়েছে। ফের স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন সব্যসাচী। ওজন ঝরাতে গিয়ে যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়েন, তার জন্য হালকা শরীরচর্চাও করছেন। “ওজন তোলা বা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোর পক্ষপাতী নই। বাড়িতেই অল্পস্বল্প কার্ডিয়ো করি। আর প্রচুর হাঁটি।” আগে যখন বেলুড়ে থাকতেন, তখন সাইকেলও চালাতেন। গড়িয়ায় বাসাবদলের পর আর সেটা সম্ভব হয় না তাঁর।