‘মার্ডার’ মল্লিকার অভিনীত প্রথম ছবি। সেখানে নায়িকার লাস্যময়ী আবেদনে চমকে গিয়েছিলেন ভারতীয় দর্শক। তার পরে বলিউড থেকে হলিউড হয়ে আচমকাই পর্দা থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। বহু বছর পর যখন তাঁর খোঁজ মিলল, তখন তিনি সংসারী। তবে গ্ল্যামারে বিন্দুমাত্র টান পড়েনি। আর এখন, ৪৯ বছর বয়সেও অটুট তাঁর আবেদন। সমাজমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই ছবি-ভিডিয়ো পোস্ট করেন অভিনেত্রী। দেখে বিস্মিত হন মল্লিকার অনুরাগীরা। অনেকেই জানতে চান মল্লিকার ফিটনেস রহস্য। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে ছবি ভাগ করে নিয়েছেন।
তন্বী চেহারার ছবি ভাগ করে নিয়ে মল্লিকা লেখেন, ‘‘কোনও ভাগ্য নয়, কোনও শর্টকার্ট নয়। আমি এই শরীরটা দিনে দিনে পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছি। এমনকি যে দিন আমার ইচ্ছে করত না, সেদিনও পরিশ্রম করেছি। চাইলে যে কোনও সময়ে শুরু করতেই পারেন। মন যখন সিদ্ধান্ত নেয়, শরীর তখনই সাড়া দেয়।’’
কী ভাবে ছিপছিপে শরীর ধরে রেখেছেন তিনি?
খাওয়াদাওয়া
প্রোটিনে নজর: খাওয়াদাওয়ায় প্রোটিনকে গুরুত্ব দেন মল্লিকা। প্রোটিন বেশি ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। ওজন কমানোর সময়ে পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এর থার্মিক এফেক্ট বেশি, যার অর্থ হল, ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় এটি হজম করতে আপনার শরীর বেশি ক্যালোরি পোড়ায়।
ডায়েটে দ্রবণীয় ফাইবার: ওট্স, শিম জাতীয় খাবার এবং ব্রকোলিতে পাওয়া যায় এমন দ্রবণীয় ফাইবার যা জল শোষণ করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এই ফাইবার ভিসারাল ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।
চিনি বন্ধ: অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ মানেই কোমরে ফ্যাট জমতে শুরু করবে। তাই ডায়েট থেকে চিনি বাদ রাখেন অভিনেত্রী। পরিশোধিত শস্যের পরিবর্তে গোটা শস্য গ্রহণ করলে তা ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পেটে চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
প্রোবায়োটিকে গুরুত্ব: দই, কিমচি এবং কেফিরের মতো গেঁজানো খাবার অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এর ফলে হজম ভাল হয়। শরীরে ফ্যাট জমার হার কমে। মল্লিকার ডায়েটে প্রোবায়োটিকের গুরুত্ব অনেকখানি।
তবে শুধু ডায়েট করেই ছিপছিপে শরীর ধরে রাখা সম্ভব নয়। চাই পরিশ্রমও। মল্লিকা নিয়ম করে রেজ়িট্যান্স ট্রেনিং, হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং, কার্ডিয়োর মতো শরীরচর্চা করেন। এর পাশাপাশি দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও মল্লিকার মতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।