Advertisement
E-Paper

‘বাংলায় শুধুই রাজনীতি হয় ভাবতাম, এসে ধারণা বদলে গেল’, পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে কী উপলব্ধি বিনোদ-পত্নী কবিতার?

প্রয়াত অভিনেতা বিনোদ খন্নার কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কবিতা। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানান, তিনি এখনও বিনোদের গুণমুগ্ধ।

সুস্মিতা মণ্ডল

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৩
মুর্শিদাবাদ ঘুরে দেখলেন বিনোদ-পত্নী কবিতা।

মুর্শিদাবাদ ঘুরে দেখলেন বিনোদ-পত্নী কবিতা। ছবি: সংগৃহীত।

কখনও অক্ষয় খন্নার মা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেননি। বরং স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানের সঙ্গে বরাবর কিছুটা দূরত্ব রেখেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন কবিতা খন্না। সম্পর্কে তিনি বিনোদ খন্নার দ্বিতীয় স্ত্রী। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে এসে অক্ষয় খন্নার ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে কথা বললেন। সেই সঙ্গে জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে এসে তাঁর বেশ কিছু ধারণা বদলে গিয়েছে।

প্রয়াত অভিনেতা বিনোদ খন্নার কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কবিতা। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানান, তিনি এখনও বিনোদের গুণমুগ্ধ। তাঁর কথায়, “ক্যামেরার বাইরে ওঁর সব অভিব্যক্তি আমার চেনা। তাই পর্দায় যখন ওঁকে দেখতাম, বুঝতে পারতাম উনি কোন মানের অভিনেতা। উনি সবচেয়ে সুদর্শন তারকা তো বটেই। কিন্তু আমার চোখে, উনি ছিলেন সেরা অভিনেতা।” এই প্রসঙ্গেই অক্ষয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন কবিতা। তিনি বলেন, “অক্ষয়ও অসাধারণ। কী ভাল অভিনয় করেছে! আমার প্রিয় অভিনেতা ও। তিন বার ‘ধুরন্ধর’ দেখে ফেলেছি। চতুর্থ বারও যাব।” অক্ষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন? কবিতার কথায়, “যেমন পুত্রের সঙ্গে হয়, তেমনই। তবে আমার দুই সন্তান (শ্রদ্ধা ও সাক্ষী খন্না)-এর থেকে ২০ বছরের বড় অক্ষয়। বয়সের একটা ব্যবধান রয়েছে। এখন সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। সবাই স্বাধীন।”

‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল’-এ যোগ দিতে এসেছেন তিনি। মুর্শিদাবাদে ঘুরেছেন, ছবি তুলেছেন, স্থানীয় খাবার খাচ্ছেন। আবার বিস্ময় নিয়ে স্থানীয়দের নানা প্রশ্নও করেছেন। এখানে এসে বাংলা সম্পর্কে ধারণা বদলে গিয়েছে তাঁর। কবিতা বলেন, “আমি আশা করিনি, এখানে এমন সবুজে ঘেরা প্রকৃতি দেখতে পাব। খবরে তো বাংলা সম্পর্কে শুধু রাজনৈতিক ঘটনাই দেখতে পাই। কয়েক বছর আগে নকশালদের কথা, হিংসা ও নানা রকমের চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়েই শুনতাম। কিন্তু এখানে এসে আমি শান্তির সন্ধান পেয়েছি। আমার খুব ভাল লাগছে।”

ফের মুর্শিদাবাদে আসতে চান কবিতা।

ফের মুর্শিদাবাদে আসতে চান কবিতা। নিজস্ব চিত্র।

কবিতা জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই নিরামিষ খাবার খান। শেহরওয়ালি খাবারের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। নবাবি আমলে রাজস্থানের বণিক সম্প্রদায় মুর্শিদাবাদে বসতি স্থাপন করেছিল। তাঁরা অনেকেই ছিলেন জৈন। তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি, বাংলার খাবারের সঙ্গে মোগল খাবারের মিলেমিশে তৈরি হয় শেহেরওয়ালি খাদ্যসংস্কৃতি। কবিতার কথায়, “এই খাবারে মশলা রয়েছে। কিন্তু খুব বেশি ঝাল নয়। আমার এমন স্বাদ খুবই পছন্দ। রসগোল্লা, মিষ্টি দইও খেয়েছি। খুব সুস্বাদু।” মাত্র তিন দিনের জন্য মুর্শিদাবাদে ঘুরছেন তিনি। তাই ফের পশ্চিমবঙ্গে এলে প্রথমে আবার মুর্শিদাবাদেই আসতে চান তিনি।

বিনোদ খন্না তাঁকে শাড়িতে দেখতে পছন্দ করতেন। তাই শাড়ি আজও প্রিয় পোশাক কবিতার। মুর্শিদাবাদ থেকেও কিনেছেন শাড়ি। প্রয়াত অভিনেতার প্রসঙ্গ উঠতেই ফের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলতে থাকেন, “আমরা রাজস্থান যেতাম বেড়াতে। ওঁর শুটিং হত মাঝে মধ্যে। শুটিংয়ের পরে গানের আসর বসত। আমিও গান গাইতাম।” এ সব মনে করে মুর্শিদাবাদে একা এসে বিনোদের কথা মনে পড়ছে? প্রশ্ন করতেই কবিতা বলেন, “এক সময়ে খুব মনে পড়ত। এখনও মনে পড়ে। তবে মন ভার হয় না। ওঁর সব স্মৃতিই মনে আছে। ভালবাসা থাকলে সব স্মৃতিই মধুর। আমরা প্রায়ই একসঙ্গে গান গাইতাম। ‘আজ যানে কি জ়িদ না করো’ গানটি আমার জন্য উনি গাইতেন। এই স্মৃতি চোখে জল আনে না। বরং আমাকে ভাল রাখে।”

Kavita Khanna Akshay Khanna Vinod Khanna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy