দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়। ঘুম ভেঙে উঠেই একরাশ দুশ্চিন্তা চেপে বসে মাথায়। সারা দিন অফিসের কাজে মানসিক চাপ আরও বাড়ে। চাকরি, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা লেগেই থাকে। কিছুতেই মন শান্ত হতে চায় না। এর ফলে রাতে যেমন ভাল ঘুম হয় না, তেমনই দিনভর অশান্তি, উৎকণ্ঠা কাজ করে মনে। সে ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে জাপানি এক পদ্ধতি কাজে আসতে পারে।
জাপানি শব্দ ‘শেইজ়াকু’-র আক্ষরিক অর্থ হল স্তব্ধতা বা নিস্তব্ধতা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে বাইরের কোলাহল থাকা সত্ত্বেও মনের ভিতরে গভীর এক প্রশান্তি অনুভূত হয়। এটি মানুষকে শেখায় কী ভাবে বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ধীরস্থির থাকা যায়।
পদ্ধতিটি কেমন?
শেইজ়াকু-র জন্য কোনও বিশেষ স্থানের প্রয়োজন নেই। ঘরের যে কোনও জায়গায় বসে বা খোলামেলা জায়গায় করতে পারেন। মন স্থির করে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন। জাপানিরা সাধারণত শেইজ়াকু করার সময়ে হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপরে বসেন। অর্থাৎ, বজ্রাসনে বসেন। সেই ভাবেও বসতে পারেন বা শুরুতে অসুবিধা হলে সুখাসনেও বসতে পারেন। চোখ বন্ধ করুন। গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। জোর করবেন না, স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখুন। আপনার চারপাশে যে শব্দ হচ্ছে তা শুনলেও তাতে মন দেবেন না। যতই কোলাহল হোক না কেন, তা না শোনারই চেষ্টা করুন। বদলে প্রাকৃতিক শব্দ যেমন, পাখির ডাক, গাছের পাতার খসখসে শব্দ— এগুলি শোনার চেষ্টা করুন। মনে মনে ভাবুন, আপনি এমন এক জায়গায় রয়েছেন যেখানে চারপাশে প্রকৃতির শব্দ ছাড়া আর কোনও শব্দই নেই। গভীর নিস্তব্ধতা চারপাশে, তার মধ্যে আপনি বসে আছেন।
আরও পড়ুন:
শেইজ়াকু মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করে। নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে করতে পারলে গভীর অবসাদ থেকেও রেহাই পাবেন। ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। যাঁরা অ্যাংজ়াইটি অ্যাটাকে ভোগেন, রাগ খুব বেশি, তাঁদের মন স্থির করতে শেইজ়াকু খুবই কাজের। প্রতি দিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট এটি করলে উপকার পাবেন।