E-Paper

নীড় ছোট ক্ষতি নেই

পুরো আকাশটাই যে ওদের। কিন্তু ডিম পাড়ার সময়ে ওরাও একটা নিশ্চিন্তির আশ্রয় খোঁজে। সহজেই বানিয়ে দিতে পারেন পাখির বাসা।

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৩

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ক্রমশ কমে আসছে বড় গাছের সংখ্যা। ঝড়-জল-দুর্যোগে পাখিরা কখনও বেছে নেয় বারান্দার এক কোণ বা চড়া রোদে কোনও বাড়ির কার্নিশ। ডিম পাড়ার সময়ে নিশ্চিন্তির আশ্রয় না পেলে কখনও বারান্দা বা ছাদবাগানের টবেই হয়তো জায়গা করে নেয়। এই অবোলা প্রাণীদের জন্য দিনকয়েকের একটা ছোট আস্তানা বানিয়ে দেওয়া কিন্তু খুব কঠিন নয়। ইদানীং অনেক স্কুল প্রজেক্টেও বার্ড নেস্ট বানাতে দেওয়া হয়। এতে পারিপার্শ্বিকের প্রতি সচেতনতাও গড়ে ওঠে শিশুমনে। প্রকৃতির বন্ধুদের খানিক সান্নিধ্যও পাবে ওরা।

কী ভাবে বানাবেন?

বাড়িতে অনেক ফেলে দেওয়ার মতো বাক্স জমে যায়। বিশেষ করে পার্সেলের বাক্স। তেমন একটা-দুটো ভাল বাক্স একটু সরিয়ে রাখতে পারেন।

খেয়াল করতে হবে, পাখিরা ঠিক কী ধরনের জিনিস ব্যবহার করে। শহরাঞ্চলে ওরা যা পায়, মোটামুটি সেগুলোই জমাতে থাকে। ছোট গাছের নরম ডাল, খড়, শুকনো ডালপালা, পালক, কাগজের কুচি এক জায়গায় আগে সংগ্রহ করতে হবে।

প্রথমে শুকনো ডালপালাগুলো দিয়ে বৃত্তাকারে একটা কাঠামো তৈরি করে নিতে হবে। এ বার এটা বসিয়ে দিতে হবে বাক্সের মাঝখানে। এ বার উপরে খড় বা কাগজের কুচি দিয়ে সেটা ঢেকে দিন। অনেক সময়ে কাচের জিনিস ডেলিভারির সময়ে অনেক কাগজ কুচি দিয়ে তা মুড়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের জিনিস থাকলে রেখে দেবেন।

সব শেষে উপরে কিছু পালক বা নরম তুলো থাকলে ছড়িয়ে দিতে পারেন। বাড়ির খুদে সদস্যদের সঙ্গে নিতে পারেন এ কাজে। বাসা বুনতে যে ভাবে আঙুলের ব্যবহার হয়, এতে ওদের মনোযোগ বাড়ে, ফাইন মোটর স্কিলও উন্নত হয়।

বেলুন আর দড়ি দিয়ে

একটা বেলুন আর নারকেল দড়ি নিন। সঙ্গে রাখুন আঠা আর একটু খড় বা পালক।

প্রথমে বেলুন ফুলিয়ে নিন। তার পরে এর গায়ে ভাল করে নারকেল দড়িটা জড়িয়ে নিতে হবে। চার দিক দিয়ে এমন করে জড়াতে হবে যাতে মাঝে বেশি গ্যাপ না থাকে। আবার একটু একটু ফাঁক থাকবে, যাতে বাইরের আলো ঢুকতে পারে।

নারকেল দড়ি জড়ানো হয়ে গেলে তরল আঠা নিয়ে ব্রাশের সাহায্যে তার উপরে হালকা হাতে বুলিয়ে নিন।

আঠাটা শুকিয়ে এলে মাঝখানে বেলুনটা ফুটো করে বার করে নিন। দেখবেন নারকেল দড়ির একটা বাসা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

এ বার এর মধ্যে খড়কুটো বা পাখির পালক দিয়ে একটা বিছানা তৈরি করে দিন। এটা বারান্দায় দড়ি দিয়ে এক দিকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। দেখতেও ভাল লাগবে।

কাঠ বা সেরামিকের

পুরনো কাঠের টুকরো থাকলে সেগুলো জুড়ে জুড়ে বার্ড হাউস বানিয়ে নেওয়া যায়। কাঠের চৌকো শেপের টুকরো জুড়ে বাড়ির আকার দিতে হবে। জানালার মতো একটা খোপ খোলা রাখতে হবে।

সবশেষে মনের মতো রং করে নিন। বার্ড হাউসের মাঝখানে অল্প খড়কুটো দিয়ে দিতে পারেন। এতে একটা বেড তৈরি হয়ে যাবে।

সেরামিকের বার্ডহাউসও বিভিন্ন জায়গায় কিনতে পাওয়া যায়। পটারি ওয়ার্কশপে গেলে সেখানে যেমন বানিয়ে নিতে পারেন, তেমন বিভিন্ন দোকান থেকেও সেরামিকের বার্ডহাউস কিনে আনতে পারেন। ভিতরটা একটু সাজিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে বার্ড নেস্ট।

অনেক বাড়িতেই পুরনো লেটারবক্সও থাকে, তেমন কোনও একটু চওড়া লেটারবক্স থাকলে তার মাঝের খোপটা কেটে এমন বার্ড হাউস বানিয়ে ফেলা যায়।

তার ভিতরে অল্প জল আর পাখির দানাও রেখে দিতে পারেন।

এ সময় থেকেই মূলত পাখির ডিম পাড়ার মরসুম শুরু হয়। ফলে ওরা বাসা খুঁজতে থাকে। পাখি সংরক্ষণের জন্যও বিদেশে অনেক জায়গায় কৃত্রিম বাসা বানিয়ে দেন অনেকেই। ক্রমাগত নগরায়ণের ফলে অনেক পাখির প্রজাতিই বিপন্ন ও কিছু বিলুপ্তির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই কৃত্রিম বাসা সে দিক দিয়ে পাখির প্রজাতিগুলো সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে বলে অনেক পরিবেশবিদই এই ধরনের কাজ করে থাকেন। বাসার পাশাপাশি উচিত পাখিদের জন্য জল ও দানাশস্য রাখা। এই গরমের দিনে ছাদে বা বারান্দায় ছোট ছোট বাটি করে জল ও একটু খাবার রেখে দিতে পারেন।

পাখিকে খাঁচায় ভরে না রেখে বরং তার জন্য একটা ছোট বাসা বানিয়ে দেওয়া যায়। এক আকাশ স্বাধীনতা থাকুক তার ডানায়। প্রয়োজনে অবকাশে সে না হয় জিরিয়ে যাবে আপনার হাতে বানানো বাসায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Birds

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy