Advertisement
E-Paper

আতিথেয়তা মানেই কি অতিথিকে ভাল খাবার খাওয়ানো? অভ্যর্থনাও মনে রাখার মতো হবে কী করে

কোনও বাড়িতে অতিথি হয়ে গেলেন, খেলেন, চলে এলেন। শুধু নিমন্ত্রণ রক্ষা হল মাত্র। কারও বাড়িতে যেমন নিমন্ত্রণ পেলে যেমন ভাল লাগে, আবার কারও বাড়িতে যেতে ঠিক ইচ্ছা হয় না। অতিথি আপ্যায়নে কোন বিষয়ে নজর দিলে, অতিথির নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে হবে না।

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৮

বাড়িতে অতিথি আসবেন, খবর আসামাত্রই তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। কে, কী খেতে ভাল বাসেন, নতুন কী রান্না করা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আর রাঁধলেই তো হল না, মেনুটিও তেমনটা না হলে যে মান থাকবে না!

তবে বন্ধুবান্ধব হোন বা মানী অতিথি— খাওয়াদাওয়ার দিকে নজরই কি সব? ‘উইথ লভ, মেগান’ ওয়েব সিরি‌জ়ের আমরেকিান অভিনেত্রী, সঞ্চালক মেগান মার্কল শিখিয়েছেন অতিথি আপ্যায়নেরও কায়দা আছে। অতিথিদের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্তকে স্মৃতির খাতায় আজন্ম বাঁধিয়ে রাখতে হলে, কোনটি করা ভাল, কোনটিতে অতিথি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, খেয়াল রাখা দরকার।

এমনিতে ভারতীয়রা অতিথি অ্যাপায়নে বেশ পটুই। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে হলে, কোন কোন দিকগুলিতে নজর দেবেন।

উদ্দেশ্য: আতিথেয়তা মানেই শুধু মনমতো খাবার পরিবেশন, সুন্দর টেবিলসজ্জা নয়। বরং এর লক্ষ্যই হল ভাল কিছু মুহূর্ত তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। স্বাচ্ছন্দ্য সেখানে খুব জরুরি, আর চাই আন্তরিকতা। আয়োজন কম হলেও অসুবিধা নেই, কিন্তু তাতে যেন ভালবাসা ও আন্তরিকতার উষ্ণ স্পর্শ থাকে। মেগানের পরামর্শ, অথিতি অ্যাপায়নেরর আয়োজন যদি একটু আগেই করা যায়, তা হলে শেষমুহূর্তে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন পড়ে না। মেগান সেটাই অনুসরণ করেন। যাতে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে অতিথিদের সঙ্গে গল্পগুজবে ফাঁক না পড়ে যায়।

সহজ-সরল আয়োজন: ঘরের প্রতিটি কোণ নিখুঁত ভাবে সাজিয়ে তোলা, অঢেল রান্নার আয়োজনের দিকে না গিয়ে সহজ সরল ভাবেই দিনটি বা সন্ধ্যাটি অতিথির সঙ্গে কাটানো যায়। যত বেশি আয়োজন, তত বেশি জটিলতা, ব্যস্ততা। এই সবে ব্যস্ত হয়ে পড়লে অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিসরই কমে যাবে। সেই কারণে, প্রচুর রান্নার দিকে না গিয়ে, অতিথি তৃপ্তি করে খেতে পারবেন এমন কয়েকটি পদই বেছে নিন। বেশির ভাগ রান্না সেরে রাখুন অতিথি আসার আগেই।

আন্তরকিতা: নিখুঁত আয়োজনের চেয়েও উষ্ণ অভ্যর্থনা, আন্তরিকতা জরুরি। অতিথি এসে যদি গল্প করার লোক না পান, একা বসে কী করবেন ভেবে না পান— অতিথির পক্ষেও তা সুখকর হবে না। অতিথি যাতে সেই বাড়িতে এসে গুরুত্ব পান, মন খুলে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তা দেখা জরুরি। গল্প-আড্ডায় মনের আদান-প্রদান হবে, ভাল মুহূর্ত তৈরি হবে, সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে আড্ডায় এমন প্রসঙ্গ তোলা ঠিক নয়, যাতে কেউ অস্বস্তিতে পড়েন।

অন্দরসজ্জা এবং উপস্থাপনা: অতিথি আপ্যায়নে বাড়ি, ঘরদোর সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা অবশ্যই জরুরি। এটি হল আতিথেয়তার নীরব ভাষা, যা সমগ্র আয়োজনকে এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করে। বাড়িতে ঢুকেই এলোমেলো জিনিস দেখলে কারও তা ভাল লাগে না। বরং একটি ছিমছাম ঘর, পরিচ্ছন্নতা মনের উপরও প্রভাব ফেলে। একই ভাবে কী খেতে দেওয়া হচ্ছে সেটির পাশাপাশি জরুরি কী ভাবে তা দেওয়া হচ্ছে। খাওয়ার থালাটি কেমন, টেবিলসজ্জা, বসার জায়গা, ঘরের আবহ— এই সব কিছুই মনোজগতে ছাপ ফেলে।

রান্নাঘর হোক উন্মুক্ত: আতিথেয়তা মানে কেবল অতিথিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসিয়ে রাখা নয়। মেগান মনে করেন, রান্না করতে করতেও অতিথির সঙ্গে গল্প করা যায়। অতিথিও যাতে সেই আয়োজনের অংশীদার হতে পারেন, তেমন পরিবেশও গড়ে তোলা যায়। এতে নিজেদের মধ্যে আগল ভাঙে, সম্পর্ক সহজ হয়।প্রথাগত নিমন্ত্রণে যে আড়ষ্ট ভাব থাকে, তা কেটে যেতে পারে অতিথিকে রান্নাঘরে ডেকে নিলেও।

Guests
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy