Advertisement
E-Paper

ছোট থেকেই সন্তানদের অর্থের মূল্য বুঝিয়েছেন মীরা কপূর, কোন পন্থায় এমন শিক্ষা দেবেন খুদেকে?

টাকার গুরুত্ব বোঝা দরকার ছোটদেরও। কী ভাবে তাদের অর্থের মূল্য, ব্যাঙ্ক, বিনিয়োগ,ঋণে ধারণা দেবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৬
সন্তানদের টাকার মূল্য বুঝিয়েছেন মীরা কপূর। কী ভাবে সহজ করে তা বোঝানো যায়?

সন্তানদের টাকার মূল্য বুঝিয়েছেন মীরা কপূর। কী ভাবে সহজ করে তা বোঝানো যায়? ছবি: সংগৃহীত।

চাইলেই মেলে না সব কিছু। কষ্ট করে অর্জন করতে হয়। জিনিস হোক বা টাকা, তার গুরুত্ব বোঝাটা শিশুদের জন্যও জরুরি বার বার মনে করান মনোবিদ, পেরেন্টিং কনসালট্যান্টরা। দুই সন্তান মিশা এবং জইন যাতে ছোট থেকেই অর্থের গুরুত্ব বুঝতে পারে, সেই শিক্ষাই তাদের দিয়েছেন অভিনেতা শাহিদ কপূর এবং তাঁর স্ত্রী মীরা।

ছোটদের বোঝাতে হয় তাদের মতো করেই। টাকা পেলে তা খরচ করাই যায়। কিন্তু পছন্দের জিনিস কিনতে হলে, সেই টাকার অঙ্কটাও বাড়াতে জানতে হয়, এমন শিক্ষাই সুকৌশলে সন্তানদের দিয়েছেন মীরা। তিনি নিজেও একজন উদ্যোগপতি, নিজস্ব ব্যবসা আছে তাঁর। কয়েকশো কোটি টাকার মালিক কপূর দম্পতি। তবে তা সত্ত্বেও, সন্তানদের হাতে যথেচ্ছ অর্থ তাঁরা দেননি। হাতকলমে শিখিয়েছেন উপার্জন, ঋণ, খরচের হিসাব।

অভিভাবক হিসাবে কী করে সন্তানদের এই বিষয়টি শিখিয়েছেন মুম্বইয়ের এক সাক্ষাৎকারে খোলসা করেন শাহিদ-জায়া। তিনি জানান, তাঁদের সন্তানদের ঠাকুরমা, দিদিমা্রা উপহার হিসাবে, যে টাকা দেন সেই টাকা দিয়েই তাঁরা বুঝতে শিখিয়েছেন টাকা কোথায় রাখে, কেন রাখে। প্রশ্ন করেছেন, সন্তানকে এই টাকা বালিশের নীচে রাখবে না ব্যাঙ্কে, কোথায় রাখলে কী হবে? সম্প্রতি তাঁদের ১০ বছরের মেয়ে বেকারি খুলেছে। মীরা বুঝিয়েছেন এর মধ্যে ঋণ কত, কত টাকার বিক্রি করলে লাভ হবে। এই ভাবেই বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ, সঞ্চয়, লাভ বোঝাচ্ছেন তাঁরা ছেলে-মেয়েকে।

‘রুপয়া পয়সা’ ছবির পরিচালক মুকেশ পাণ্ডেও মনে করেন, ছোটদের এই শিক্ষা দেওয়া উচিত। তারা যে শুধু সঞ্চয় করতে শিখবে তা নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে কী ভাবে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তা কী করে সামলাতে হয় সবটাই বুঝবে। আপনিও কি সন্তানকে ছোট থেকেই টাকার মূল্য বোঝাতে চান? কী ভাবে তা শেখাবেন?

টাকা কোথায় রাখতে হয়: ছোটদেরকে বড়রা অনেক সময় মিষ্টি খেতে বা জিনিস কিনতে টাকা উপহার দেন। সেই টাকা দিয়েই তাদের সঞ্চয়ের শিক্ষা হতে পারে। বোঝান, তাকে টাকা কোথায় রাখে। টাকা ভাঁড়ে রাখলে জমবে। তার পর টাকার অঙ্ক বেড়ে গেলে সে তার পছন্দের জিনিস কিনতে পারবে।

ব্যাঙ্কের গুরুত্ব: ভাঁড়ে টাকা প্রতি সপ্তাহে করে একটু একটু জমালে জমবে, তবে যতটা টাকা ভাঁড়ে ফেলা হবে ততটাই জমবে। কিন্তু টাকা যদি ব্যাঙ্কে রাখা হয়, সেই টাকা নির্দিষ্ট সময় পরে বেড়ে যাবে। সহজ উদাহরণ দিয়ে তাকে সুদের কথা বোঝাতে পারেন।

ঋণ: খুদের হয়তো এমন কোনও খেলনা পছন্দ, যা ভাঁড়ের সঞ্চিত অর্থে কেনা সম্ভব নয়। যত টাকা কম পড়ছে সেই টাকা তাকে ধার হিসাবে দিন। পরে তাকে শোধ করতে বলুন। সে বুঝতে শিখবে, ধার কী। ধার নিলে শোধ করতে হয়, এই ভাবনাও কিন্তু শুরু থেকেই স্পষ্ট করতে হবে।

কাজের বিনিময়ে অর্থ: বয়সের উপযোগী কাজ করতে বলতে পারেন। দিতে পারেন ছোটখাটো দায়িত্ব। তা সফল ভাবে করতে পারলে পুরস্কার স্বরূপ অর্থ দিতে পারেন। সেই অর্থ সে কী ভাবে সঞ্চয় করতে পারে বা বাড়াতে পারে, দৈনন্দিন জীবন থেকেই উদাহরণ দিন।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: খুদে সব কিছু বুঝতে শুরু করলে, একটু বড় হলে তার নামেও সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দিন। ব্যাঙ্কের কাজের সময় তাকেও নিয়ে যান, সে দেখে দেখে অনেক কিছু শিখবে। ব্যাঙ্কের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে।

Parenting Tips Meera Kapoor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy