Advertisement
E-Paper

সন্তান সামলানোর সহজ কোনও উপায়ই হয় না, মাতৃত্ব নিয়ে কেন এমন উপলব্ধি করিনার

সন্তান পালন কী ভাবে করা দরকার তা নিয়ে নানা পরামর্শ মেলে সমাজমাধ্যমে। এমন পরামর্শ কি সত্যিই কাজের? অভিভাবকত্ব নিয়ে কোন কথা বলছেন করিনা কপূর খান?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩২
অভিভাবকত্ব নিয়ে কী উপলব্ধি করিনা কপূরের?

অভিভাবকত্ব নিয়ে কী উপলব্ধি করিনা কপূরের? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মা হওয়া কি মুখের কথা! দরকার ধৈর্য। হাল ছাড়লে চলবে কেন? পরিবারের নানা পরামর্শ বরাবরই ছিল। আর এখন অভিভাবকত্ব সহজ করতে সমাজমাধ্যম জুড়ে নানা সহজ সমাধানের ছড়াছড়ি। কেউ বলেন, এই ভাবে ছেলে মানুষ করো, তো অন্য জন বলেন, অমুক কৌশলটি কাজের।

বলিউড অভিনেত্রী করিনা কপূর খান দুই সন্তানের মা। কোনও রাখঢাক না করেই তিনি বলছেন, ‘‘অভিভাবকত্বে কোনও সংক্ষিপ্ত উপায় বা সহজ পথ হয় না।’’ ছেলে সামলানো যে মুখের কথা নয়, প্রতি দিন নতুন করে টের পাচ্ছেন তারকা মা। সে সব লুকোনোর বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেননি তিনি। বরং পুরনো ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন সকলের সঙ্গে। সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধির কথাও লিখেছেন সম্প্রতি।

করিনা কপূর এবং সইফ আলি খানের দুই সন্তান। তৈমুর এবং জাহাঙ্গির। তাদের বড় করতে গিয়ে নানা রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় অভিনেত্রীকে। আর পাঁচটা শিশুর মতোই দুই ভাইয়ের মধ্যেও শিশুসুলভ ঝামেলা হয়। এই সব নিয়েই করিনা বলেছেন, ‘‘ওরা কথাই শোনে না।’’ অভিনেত্রীর উপলব্ধি, ‘‘অভিভাবকত্বের কোনও সহজ পথ হয় না। তা সব সময়েই কঠিন।’’

অতীতে এক সাক্ষাৎকারে করিনা জানিয়েছিলেন, স্মার্ট হওয়ার চেয়েও তিনি চান, তাঁর সন্তানেরা দয়ালু হোক, মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠুক।

অভিভাবকত্ব যে সহজ ব্যাপার নয়, তা বাবা-মায়েরা জানেন। শিশু শান্ত হোক বা ছটফটে, তাদের বড় করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে অভিভাবকেরাও নতুন বিষয় শেখেন, কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। আবার অনেকে জানতেও চান, কী ভাবে সন্তান সামলানো সহজ হতে পারে।

মনোবিদেরা বলছেন, সন্তানদের বড় করতে গিয়ে, তাদের চাহিদা, দৌরাত্ম্য সামলাতে গিয়ে অভিভাবকেরাও অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শারীরিক ভাবে শুধু নয়, অনেক সময় মানসিক ভাবেও বিধ্বস্ত বোধ করেন। খোঁজ পড়ে সহজ সমাধানের। কিন্তু সেই সমাধান কতটা বাস্তবসম্মত, তা-ও বোঝা প্রয়োজন।

শিশুকে সামলানো সহজ নয় কারণ, শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের পর্যায়ে থাকে। তারা নতুন জিনিস শেখে, না জানা বিষয় বোঝার চেষ্টা করে তাদের মতো করে। ফলে, তারা ভুল করবে, না বুঝে কিছু করে বসবে, সেটা অস্বাভাবিক নয়। দিল্লির মনোবিদ অতুল রাজ একটি সাক্ষাৎকারে পরামর্শ দিয়েছেন কোন ভাবনাগুলি নিয়ে অভিভাবকদের ভাবা দরকার।

· কঠিন সময় মানেই ব্যর্থতা নয়, তা বোঝা প্রয়োজন বাবা-মায়েদের। সন্তান ভুল করতেই পারে। সন্তান কথা না-ও শুতে পারে, অবাধ্য হতে পারে। তাকে সামলানো সহজ হচ্ছে না মানেই মা হিসাবে নিজেকে ব্যর্থ ভাবা ঠিক নয়। এতে অভিভাবক হিসাবে মানসিক চাপ বাড়বে।

· সন্তান দুষ্টুমি করলে, কথা না শুনলে কখনও কখনও মা বা বাবা মেজাজ হারাতেই পারেন। তবে জরুরি হল, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে, সন্তানের কাছে আসা। তাকে বোঝানো। শিশুর ভুলগুলি শোধরানোই যদি লক্ষ্য হয়, তা হলে কোন পন্থা নেওয়া যায়, তা ভাবতে হবে।

· সন্তানের নামে নানা জায়গা থেকে অভিযোগ এলে, পড়াশোনা বা আচরণে সে অন্যদের সমকক্ষ না হলে হীনমন্যতায় ভোগাও কাজের কথা নয়। এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মা হিসাবে ব্যর্থ বলে নিজেকে দাগিয়ে দেওয়া অর্থহীন।

· সন্তান সামলে সংসারের প্রতিটি কাজ নিখুঁত ভাবে করা সম্ভব না-ই হতে পারে। ঘরদোর অগোছালোও থাকতে পারে। প্রতি মুহূর্তে নিখুঁত ভাবে কাজ করতে যাওয়ার চেষ্টা ছেড়ে বাস্তবের অগোছালো জীবন বা বিষয়গুলিকেও কখনও কখনও সহজ ভাবে মানতে পারা জরুরি।

Kareena Kapoor Khan Parenting Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy