আপনি কি কন্যাসন্তানের অভিভাবক? পিতৃতান্ত্রিক এই সমাজে তাকে নিজের পায়ের তলার জমি শক্ত করতে হবে। হাজারো অকিঞ্চিৎকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু এই দুশ্চিন্তায় মেয়েকে গৃহবন্দি হওয়ার বা আড়ালে থাকার মতো ভুল শিক্ষা না দিয়ে তার মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সাহায্য করুন, যেন সে ডানা মেলে উড়তে শেখে। ছোট্ট মেয়ের লালনপালনে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন?
পুরনো ধারণার খোলস ভাঙুন
অনেক পরিবারেই মেয়েদের এখনও শেখানো হয় বেশি কথা না বলা, বেশি প্রশ্ন না করা, সব কিছু মেনে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবে মেয়েদের মানসিক শক্তি গড়ে ওঠে তখনই, যখন তারা নিজের মতামত প্রকাশ শেখে, 'না' শব্দটি উচ্চারণ করতে শেখে এবং প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই বাবা–মা এই শিক্ষা দিলে মেয়ের আত্মবিশ্বাসের ভিত তৈরি হয়।
কন্যাসন্তানের অভিভাবকদের কী কী মাথায় রাখা উচিত? ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত আগলে রাখবেন না
মেয়ের কষ্ট বা ভয় দেখলেই সব সমস্যা নিজে সমাধান করে দেওয়ার প্রবণতা অনেক বাবা–মায়েরই থাকে। এতে মেয়েরা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সাহস পায় না। তার বদলে মেয়ের কথা মন দিয়ে শুনুন, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু ভাবতে দিন, সিদ্ধান্ত নিতে দিন। পাশে থাকা আর সব কিছু নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া— এই দু'টির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
নিজেকে ভালবাসতে শেখান
মেয়েরা নিজেদের যে ভাবে দেখে, তার বড় অংশই তৈরি হয় বাবা–মা তাকে কী ভাবে দেখছে, তার উপর। যখন বাবা–মা মেয়ের শক্তি, আগ্রহ, চেষ্টা আর দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেন, তখন মেয়ের নিজের উপরে বিশ্বাস বাড়ে। এই ইতিবাচক আত্মধারণাই ভবিষ্যতে মানসিক চাপ, ব্যর্থতা আর সমালোচনার সামনে তাকে স্থির থাকতে সাহায্য করে।
নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করুন
মেয়ের রাগ, দুঃখ বা হতাশাকে ছোট করে দেখবেন না। তাকে বুঝিয়ে দিন, সে যা-ই অনুভব করুক না কেন, তা নিয়ে সে আপনার কাছে আসতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই মেয়েরা নিজের আবেগ বুঝতে শেখে এবং কঠিন সময়েও নিজের অনুভূতিকে সামলাতে পারে।
ভুলকে শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখতে শেখান
ভুল মানেই ব্যর্থতা— এই ভয় মেয়েদের ভিতরে খুব তাড়াতাড়ি ঢুকে পড়ে। বাবা–মা যদি ভুলকে শিক্ষার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, তা হলে মেয়েরা ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না। ভুল থেকে শেখার ক্ষমতাই মানসিক দৃঢ়তার সবচেয়ে বড় লক্ষণ।
নিজের আচরণের নজির গড়ে তুলুন
মেয়েরা সবচেয়ে বেশি শেখে বাবা–মায়ের দৈনন্দিন আচরণ দেখে। আপনি নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকলে, নিজের ভুল স্বীকার করলে, নিজের সম্মান বজায় রাখলে— মেয়েরাও সেটিই শিখবে। আপনি যে ভাবে নিজেকে দেখেন, মেয়েও ধীরে ধীরে নিজেকে সে ভাবেই দেখতে শেখে।
শুধু সৌন্দর্য নয়, গুণের প্রশংসা করুন
মেয়েদের প্রশংসা যদি শুধু চেহারা বা ভদ্রতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তা হলে তারা নিজের মূল্য সেখানেই খুঁজতে শেখে। তার বদলে বুদ্ধি, পরিশ্রম, সহানুভূতি, সাহস, দায়িত্ববোধ— এই গুণগুলির প্রশংসা করুন। এতে মেয়েরা বুঝতে শেখে, তার শক্তি অনেক গভীর জায়গায়।
বাবা–মা যদি সচেতনভাবে পাশে থাকেন, কথা শোনেন, ভুল করতে দেন আর ভরসার জায়গা তৈরি করেন— তা হলেই মেয়েরা নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে, নিজের মতো করে জীবন সামলাতে শিখবে।