হঠকারী সিদ্ধান্ত যেমন বিপদ ডেকে আনতে পারে, তেমনই বিপদে মাথা ঠিক রাখতে পারাও একটি বড় ক্ষমতা। কোনও মানুষ জটিল জীবনাবর্ত কী ভাবে সামলাবেন, তার অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর বেড়ে ওঠার উপর। ছোটবেলায় কোনও শিশু কতটা স্বাধীন ভাবে ভাবার সুযোগ পাচ্ছে, অভিভাবকেরা কী ভাবে তার সঙ্গে কথা বলছেন, কতটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে— এমন অনেক বিষয়ই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন ভাবে ভাবনাচিন্তার বীজ বপণ করা যায় শৈশবেই। কোন উপায়ে এমন ভাবে ভাবতে সন্তানকে উৎসাহিত করবেন অভিভাবকেরা?
প্রশ্নের উত্তর ভাবতে শেখান: শিশুমনে কৌতূহল অদম্য। ছোটখাটো নানা বিষয়ে তারা প্রশ্ন করে, জানতে চায়। অভিভাবকেরা তাদের সেই সব প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে দেন। তবে কখনও কখনও সেই উত্তর, সন্তানকেও ভাবতে বলতে পারেন। ‘তুমি ভেবে বলো’— এই ভাবেও তাকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে বা সেই ব্যাপারে মতামত দিয়ে উৎসাহিত করা যায়।
সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিন: ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সন্তানকে উৎসাহ দিতে পারেন। এতে স্বাধীন ভাবে ভাবতে এবং কাজ করতে শিখবে খুদে। একটু ছোট থাকলে, দু’তিনটি জিনিস দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, কোনটি চায় সে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বয়সোচিত সিদ্ধান্তের জায়গা রাখতে হবে তার সামনে। নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করা, ভাবনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের তলিয়ে ভাবতে শেখাবে।
দৃষ্টিভঙ্গি: যে কোনও বিষয় নিয়েই আলোচনা প্রয়োজন। অভিভাবকেরা যদি সন্তানের সঙ্গে ছোটখাটো বিষয়, তা সন্তানেরই বলা কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তা হলে বিভিন্ন দিক উঠে আসবে। যে কোনও বিষয়ের ভাল দিক যেমন আছে, তেমন মন্দ দিকও আছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দু’টি দিকই ভাবতে হয়, এমন বার্তা খুদের কাছে পৌঁছোনো দরকার।
সমস্যা সমাধানে উৎসাহ: সন্তানের সব সমস্যার সামাধান সঙ্গে সঙ্গে করে না দিয়ে, তাকেও এই ব্যাপারে ভাবতে বলতে পারেন। লক্ষ রাখতে পারেন, কোনও বিষয় সন্তান কী ভাবে ভাবছে বা কাজটি করছে। ভুল করলে তাকে ধরিয়ে দেওয়া যাবে। তবে শুরু থেকেই সবটা করে দিলে সে ভাবতে শিখবে না।
দেখে শিখুক: যে কোনও পরিস্থিতি বাবা-মা বা বাড়ির বড়রা কী ভাবে সামলান, তা কিন্তু খুদেরা দেখে। তারা ছোট হলেও, বোঝে অনেকটাই। সন্তানকে কিছু শেখাতে হলে, নিজের ব্যবহারে তার প্রতিফলন থাকা ভাল।