শিশু কি একেবারে ছোট থেকেই আঙুল মুখে দেয়? বেশ বড় বয়স পর্যন্ত সেই অভ্যাস ছাড়াতে পারছেন না? একটু বড় হতেই তার সঙ্গে জুড়েছে দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস? ভাবছেন, এতে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগজীবাণু? এই সমস্যায় অনেক অবিভাবকই পড়েন। নানা কায়দা-কৌশল করেও এই অভ্যাস ছাড়ানো সম্ভব হয় না।
খেলনা হোক বা নিজের আঙুল, যা-ই সে মুখে দিক না কেন, তার মাধ্যমে ময়লা চলে যেতে পারে পেটে। এর মাধ্যমে পেটের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ফ্লুয়ের মরসুমে সর্দি-কাশি বা ভাইরাল অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। নখ খাওয়া বা নাকে আঙুল দেওয়ার মতো বদভ্যাস থেকে নাকে বা নখের কোণ কেটে গিয়েও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
সন্তানের কোনটা বদভ্যাস আর কোনটা নয়, সেটা আগে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অনেক সময়েই হয়তো কোনও কাজ করতে করতে অবচেতনে মুখে আঙুল দিয়ে ফেলল। হয়তো পরে সেটা আর করল না, এমনও হতে পারে। তা কিন্তু বদভ্যাস নয়। কিন্তু যে কোনও কাজের মাঝেই যদি মুখে আঙুল দিতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে, সেটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তখন সচেতন হতে হবে।
কী ভাবে অভ্যাসে বদল আনা যাবে?
১) এই সমস্যা দূর করতে সন্তানের সারা দিনের কাজকর্মকে একটি নিয়মে বেঁধে দিন। তার ভাল অভ্যাসের জন্য তাকে একটা করে স্টার দিন। পাঁচটা স্টার জোগাড় করতে পারলে তাকে একটা ছোট উপহার দিতে পারেন। তাকে বোঝান, এর মধ্যে সে যদি মুখে আঙুল দেয়, তা হলে সেই স্টার আর সে পাবে না। প্রথমে দু’বার সতর্ক করতে হবে। তার পরেও কাজ না হলে স্টার দেওয়া বন্ধ করুন। এতে কিন্তু সে সচেতন হবে।
২) ওর আঙুলে কোনও তেতো জিনিস, যেমন নিমপাতার রস বা চিরতার জল মাখিয়ে রাখুন। তেতো স্বাদ বার বার পেলে খুদের মধ্যে বিরক্তি আসবে, তখন কিন্তু সে আর ওই কাজ করবে না। তবে এমন কিছু জিনিস হাতে মাখাবেন না, যা খুদের পেটে গেলে সমস্যা হতে পারে।
৪) এমন পদ্ধতিতে বোঝান, যাতে সে বোঝে। যেমন মুখে আঙুল দীর্ঘ দিন দিতে থাকলে যে তার দাঁতের গঠন উঁচু হয়ে যেতে পারে, সেটা তাকে বোঝাতে হবে। খানিকটা ভয় দেখালেও কাজ হবে। নেট থেকে একটা দাঁত উঁচু রাক্ষসের ছবি ডাউনলোড করে আনতে পারেন। খুদেকে বোঝাতে পারেন, মুখে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস না ছাড়লে কিন্তু তাকেও দেখতে ভয়ঙ্কর রাক্ষসের মতো হয়ে যাবে। এই কথাটি ওর মাথায় ভাল করে ঢুকিয়ে দিতে হবে, তা হলেই দেখবেন, খুদে অভ্যাসটি ছেড়ে দিয়েছে।
কী কী করবেন না
১) সন্তানের বদভ্যাস নিয়ে তাকে বকাবকি করবেন না। এতে কিন্তু তার জেদ আরও বেড়ে যাবে। ফলে আপনার আড়ালেও সে কাজটা করতে পারে। তাই বোঝান, বকাঝকা নয়।
২) সব সময়ে ওর নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করবেন না। ভাল কাজের জন্য ওর প্রশংসাও করুন। এতে ও ভাল কাজ করতে উৎসাহ পাবে।
৩) ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখতে হবে, সে কিন্তু শিশু। আপনি তাকে কিছু বুঝিয়ে বারণ করলেও সে আবার একই কাজ করতে পারে। তখন ধৈর্য হারাবেন না। বরং তাকে বোঝাতে হবে যে, এতে আপনি দুঃখ পেয়েছেন। তাতে কাজ হবে।