৪ বার প্রেমে পড়েছেন জয়িতা দাস। বছর প্রায় ৩০-এর কাছাকাছি। তিনি যে পুরুষেরই প্রেমে করেছেন, তাঁদের মধ্যে একটি বিশেষ মিল পাওয়া গিয়েছে। এমন সব মুহূর্তে তাঁরা বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন, যখন জয়িতার পাশে থেকে তাঁদের আবেগ প্রকাশের প্রয়োজন ছিল। সোজা কথায়, এঁরা না নিজের মনের কথা পুরোপুরি বলতে পেরেছেন, না জয়িতার মনখারাপের সময়ে পাশে থেকেছেন। খানিক দূর থেকে সামলানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। আর বার বার জয়িতা আশা করে গিয়েছেন, হয়তো কাছে আসবেন তাঁরা, নিজেদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠে কথা বলবেন। কিন্তু কখনওই তা হয়নি। জয়িতা জানেন, এর পরও তিনি যদি প্রেমে পড়েন, এই ছক ভেঙে বেরোতে পারবেন না।
সম্পর্কে আছেন, আবার নেইও। ছবি: সংগৃহীত
একাংশের নারী কেন বার বার এমন পুরুষের প্রেমে পড়েন, যাঁরা নিজের এবং অন্যের আবেগ সামলাতে পারেন না?
সম্পর্কের শুরুতে সবই সুন্দর। কথা বলা, দেখা করা, যত্ন নেওযা— সব কিছুই যেন সিনেমার মতো। কিন্তু কিছু দিন পরে বোঝা যায়, সামনের মানুষটি নিজের অনুভূতি নিয়ে খুব একটা কথা বলতে চান না। সম্পর্কের গভীরে যেতে চান না, প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার পুরোপুরি দূরেও সরে যান না। এমন ব্যক্তিদের ‘ইমোশনালি আনঅ্যাভেলেবল’ বলা হয়। এই ধরনের পুরুষেরা নিজের মনের অনুভূতিগুলি ঠিকমতো বুঝতেই পারেন না। তাঁদের মনের ভেতরে কী চলছে, সেটা নিয়ে তাঁরা নিজেরাও খুব একটা অবগত নন। তাই অন্যদের সঙ্গে মন খুলে মিশতে পারেন না। কাউকে ভরসা করা বা কোনও গভীর সম্পর্কে জড়ানো এঁদের কাছে খুব কঠিন মনে হয়, কারণ তাঁরা নিজেদের আবেগগুলিই ঠিক মতো সামলাতে জানেন না। ফলে এরা সম্পর্কে জড়ালেও খুব একটা য়াবেগগত দিক থকে কাছে আসতে পারেন না, ফলে এঁদের সঙ্গে কোনও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক যাওয়া কঠিন। মানসিক ভাবে একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকাও সহজ নয়।
কিন্তু কেন বার বার নিজেকে খাদের ধারে দেখতে ভালবাসেন কেউ কেউ?
কিন্তু এই ধরনের সম্পর্কে আবার একটা মজা রয়েছে। অনিশ্চয়তার নেশা আসলে তাড়া করে বেড়ায় সেই নারীদের, যাঁরা বার বার ওই ধরনের পুরুষের প্রেমে পড়েন। যাঁরা খুব সহজে ধরা দেন না, তাঁদের সঙ্গে চরাই-উতরাই পথে যেতে চান আসলে। যে রাস্তা সহজ, যে রাস্তায় কোনও চমক নেই, তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় না।
আরও পড়ুন:
মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, এমন পুরুষদের প্রেমে পড়েন অনেকেই। নারীদের মধ্যে বেশ কিছু কারণ কাজ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। মনোবিদের কথায়, ‘‘কোনও মহিলা যদি অতীতে বা পরিবারে অবহেলা বা আবেগহীন পরিবেশ পেয়ে থাকেন, তবে তাঁর অবচেতন মন সেই চেনা কষ্টকেই ‘ভালবাসা’ মনে করে আবার বেছে নেয়। অনেকে ভাবেন, ‘সে সবার সঙ্গে এমন হলেও আমার ভালবাসায় বদলে যাবে।’ এই মানসিকতা অবাস্তব এক আকর্ষণের জন্ম দেয়। নিজের ভিতরেও যদি গভীর সম্পর্কের বা আঘাত পাওয়ার ভয় থাকে, তবে ইচ্ছাকৃত ভাবেই এমন সঙ্গী বেছে নেন, যিনি কখনও পুরোপুরি কাছে আসবেন না। এতে এক ধরনের নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে। সব সময়ে দূরে নয়, আবার সব সময়েও কাছে নয়।’’ আশ্চর্যের বিষয় হল, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরেও একই ধরনের মানুষের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। সামান্য মনোযোগকেই মূল্যবান মনে হয় সেই মহিলাদের। কিন্তু সে সব সম্পর্ক বেশি দিন টেকে না। সম্পর্ক ভাঙার পর একই রকম ঘটনা বার বার ঘটে। এ ভাবেই একই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকেন।