শ্যাম্পু করার পরে চুলে কন্ডিশনিং করতে হয়, তবেই ভাল থাকে চুল— এমনটাই বিশ্বাস করেন বেশির ভাগ মানুষ। তাই শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনিং না করার ঝুঁকি কখনওই নিই না। সকলেই জানেন, কন্ডিশনিং না করলে চুলে সহজেই জট পড়ে যায়, স্প্লিট এন্ডস হয়, চুল একেবারে রুক্ষ হয়ে থাকে। ফলে কোনও ভাবেই চুলকে ভাল রাখা যায় না। এমনকি কোনও স্টাইলও করা যায় না।

কিন্তু এই চেনা ছককে বদলে দিচ্ছে সম্প্রতি ফ্যাশন জগতের আর একটি চল। শ্যাম্পু করার পরে নয়, এ বার রূপবিশেষজ্ঞরা কন্ডিশনার ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন শ্যাম্পু করার আগেই! এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘রিভার্স ওয়াশিং’। আর এই পদ্ধতিতে  তিন দিন পর্যন্ত চুলে ভলিউম বজায় থাকবে।

বিশেষ করে যাঁদের চুল পাতলা, ঘনত্ব কম বা বেশি তেলতেলে তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি যথাযথ। সাধারণত, এই ধরনের চুলে এই ধরনের চুলে এক দিন অন্তর শ্যাম্পু করার দরকার পড়ে। কিন্তু আগে কন্ডিশনিং করে শ্যাম্পু করলে তিন দিন চুল ভাল থাকে।

আরও পড়ুন: ভারতের জন্য হু-র থ্রেট লিস্টে এই সাত অসুখ! সাবধান হোন আজই

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা চুলে নিয়মিত রাসায়নিক ব্যবহার করেন— যেমন জেল, হেয়ার স্প্রে, তাঁরাও এই পদ্ধতিতে শ্যাম্পু করুন। হেয়ার স্টাইলিস্ট রেশমী জানার মতে, ‘‘যাঁদের চুল পাতলা ও তেলতেলে হয়, অনেক  শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করে তেমন লাভ হয় না। কারণ কন্ডিশনারের ফলে চুল সে ক্ষেত্রে পেতে বসে যায়। কিন্তু উল্টোটা করে চুলে নারিশমেন্টের সঙ্গে ঢেউ খেলানো  ভাবও আসে। চুল দেখতেও অনেকটা ঘন লাগে।’’

শ্যাম্পুর আগে কন্ডিশনার ব্যবহার করার সময় কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখুন।

কিন্তু সবার চুলের জন্যই কি এই পদ্ধতি ঠিক?

প্রত্যেকের চুলের ধরন আলাদা হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, যাঁদের চুল খুব ঘন ও শুষ্ক হয়, তাঁরা শ্যাম্পুর পরেই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কারণ এই ধরনের চুলে দরকার হয় নারিশমেন্ট। যাঁদের চুল মাত্রাতিরিক্ত শুষ্ক  ও মোটা হয়, তাঁরা শ্যাম্পুর আগে এক বার ও পরে এক বার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে চুল ভাল ও উজ্জ্বল থাকবে। তবে শ্যাম্পুর আগে কন্ডিশনার ব্যবহার করার সময় কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। জানেন সে সব কী কী?

আরও পড়ুন: মারাত্মক ক্ষতি করে হেয়ার ড্রায়ার, তাই চুল শুকোতে আস্থা রাখুন এ সব উপায়ে

  • শুকনো চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। চুল হালকা ভিজিয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

  • চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে তিন থেকে পাঁচ মিনিট রাখুন।

  • এর পরে শ্যাম্পু দিয়েই ওই কন্ডিশনার ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের অতিরিক্ত তেল দূর হবে।

  • স্ক্যাল্পে যাতে কন্ডিশনার লেগে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন।