কলকাতা বললেই ভিন রাজ্যের বা ভিন্দেশ থেকে আগতেরা বলেন মিষ্টি দই কিংবা রসগোল্লার কথা। কারও পছন্দের খাবারের তালিকায় থাকে বাঙালি রন্ধনশৈলীতে তৈরি খাসির মাংসের কষাও। ঠিক যেমন ভাবে কলকাতাকে চেনা যায় বিশেষ কিছু খাবার দিয়ে, তেমন ভাবেই প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন শহরের নিজস্ব কিছু খাবার রয়েছে।
ভ্রমণ হতে পারে সেই খাবারের সন্ধানেও। বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় খাবার চেখে না দেখলে, সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় না। অসম্পূর্ণ রয়ে যায় সফর। কোন রাজ্যে গেলে কোন খাবার এক বার হলেও চেখে দেখতেই হবে?
অমৃতসর, পঞ্জাব
অমৃতসর গেলে কোন খাবার চেখে দেখবেন? ছবি:সংগৃহীত।
অমৃতসর যাবেন আর কুলচা চেখে দেখবেন না, তা-ও কি হয়? মাখনে ভরপুর অমৃতসরি কুলচা এখানকার জনপ্রিয় খাবার। সঙ্গে খান পিন্ডি ছোলে। গলা ভেজাতে হবে মিষ্টি ঘন লস্যিতে। তা ছাড়া অমৃসরে এসে ঘি জবজবে হালুয়া কিন্তু চেখে দেখতেই হবে। অমৃসরের স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গরখানায় প্রতি দিন অসংখ্য পুণ্যার্থী, ভ্রমণার্থী খাবার খান। সেই খাবারের অভিজ্ঞতাও নিতেই পারেন।
দিল্লি
দিল্লি গেলে খাদ্য-সফরে কী কী থাকবে? ছবি:সংগৃহীত।
দিল্লি হল খাবারের খনি। চাঁদনি চকে হাঁটলে প্রতি দু’মিনিট অন্তর থমকে যেতে হবে রাস্তার ধারে বসা জিভে জল আনা খাবারের স্বাদ নিতে। ছোলে-বাটুরে থেকে কবাব, চাট, পরোটা, বিরিয়ানি, রামলাড্ডু— দিল্লির খাবারের সম্ভার বেশ লম্বা। এখানকার স্ট্রিট ফুড অত্যন্ত জনপ্রিয়। ঝাঁ চকচকে রেস্তেরাঁ যেমন আছে, তেমনই দিল্লির খাবারের স্বাদ পেতে হলে ছোটখাটো দোকান, রাস্তার ধারেও ঢুঁ মারতে পারেন। জামা মসজিদ থেকে কনট প্লেস, লজপত নগর— এক এক জায়গায় মেলে এক এক রকম খাবার।
লখনউ, উত্তর প্রদেশ
টুন্ডে কবাব, লখনউয়ের বিরিয়ানির স্বাদ নিতেই হবে। ছবি:সংগৃহীত।
ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘বাহারি স্বাদের শহর’-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের লখনউ। রাস্তার ধারে বিভিন্ন পুরনো রেস্তরাঁর ‘চাট’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কবাব এবং অওয়ধি খাবারের জন্য বিখ্যাত লখনউ। নবাবের পুরনো শহরে নবাবিয়ানার ঐতিহ্য বজায় রয়েছে গলৌটি কবাব থেকে বিরিয়ানিতে। গলৌটি কবাব এতটাই সুস্বাদু এবং নরম যে, মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়। বিশেষত্ব বিরিয়ানিতেও। স্বাদে-গন্ধে তা ভারতের অন্য রাজ্যের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার টুন্ডে কবাবের স্বাদও অসাধারণ।
জয়পুর, রাজস্থান
রাজস্থানের ঘেওর, লাল মাস, ডাল-বাটি- চুরমা খেয়ে দেখতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।
রাজপুতদের ইতিহাস বিজড়িত এই রাজ্যে আমিষ-নিরামিষ দুই ধরনের খাবারেরই চল রয়েছে। আমিষ খাবারের মধ্যে জনপ্রিয় লাল মাস। নিরামিষ খেতে হলে, সাংরি আর গাট্টে কি সব্জি চেখে দেখতেই হবে। আর রাজস্থানে ডাল-বাটি-চুরমা, ঘেওরের স্বাদ না নিলে, খাওয়াই অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। ভাল হয়, যদি রাজস্থানি থালি খেয়ে দেখেন। এতে রাজস্থানের নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে।
বেঙ্গালুরু, কর্নাটক
বেঙ্গালুরুর মাইসোর পাক, থাট্টে ইডলি, বিসি বেলে বাথ খেয়ে দেখুন। ছবি:সংগৃহীত।
কাজের সূত্রে, চিকিৎসার জন্য আবার নিছক বেড়াতেও অনেকে বেঙ্গালুরু যান। দক্ষিণী নানা পদই এখানে জনপ্রিয়। তবে এখানে এলে খেয়ে দেখতেই হবে মাইসোর পাক। মাইসোর দোসাটিও রাখুন তালিকায়, থাক থাট্টে ইডলিও। খেয়ে দেখুন বিসি বেলে বাথ। এটি এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার। ভাত, ডাল ও মশলার মিশ্রণে তৈরি হয় এটি।
কোচি, কেরল
আপ্পাম এবং নারকেলের স্ট্যু। ছবি:সংগৃহীত।
কোচিতে গেলে প্রাতরাশ সারতে পারেন আপ্পাম আর স্ট্যু দিয়ে। চিংড়ি থেকে মাছ— কেরলের জনপ্রিয় খাবার। তালিকায় রাখুন কেরলের থালিও। এ ছাড়াও রসম, মাট্টা রাইস দিয়েও রসনা তৃপ্ত করতে পারেন। খেয়ে দেখুন কাঁচকলার চিপ্স।
চেন্নাই, তামিলনাড়ু
পোঙ্গল এবং ফিল্টার কফির স্বাদ কেরল ভ্রমণ অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।
ইডলি, দোসা, সম্বর তো রয়েছেই, চেন্নাই এলে খেয়ে দেখতে পারেন পোঙ্গল, পেঁয়াজের উত্তাপম, চেট্টিনাড চিকেন, চিকেন ৬৫। আর অতি অবশ্যই চুমুক দিতে হবে এখানকার ফিল্টার কফিতে।