কেকের দুনিয়ায় ব্ল্যাক ফরেস্ট বহু পুরনো নাম। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনই সুস্বাদু। এই কেকের জন্মস্থান জার্মানি। এটি আসলে স্পঞ্জ কেকের স্যান্ডুইচ, যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নরম দুধসাদা ক্রিম। চকোলেট আর চেরিতে সাজানো এই ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক সকলের নজর কাড়ে নিঃসন্দেহে। তবে কখনও ভেবে দেখেছেন এমন সুস্বাদু কেকের নাম হঠাৎ 'ব্ল্যাক ফরেস্ট' হল কেন? ডার্ক চকোলেট ব্যবহার করা হয় বলেই কি এমন নামকরণ, না কি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কাহিনি?
যদিও এই কেকটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিষ্টিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থেকেছে, তবুও এর নাম নিয়ে আজও কৌতূহল ও বিতর্কের শেষ নেই। ব্ল্যাক ফরেস্ট কেকটি প্রথমতৈরি করা হয় জার্মানিতে। জার্মানিতে এই কেককে ডাকা হয় 'শার্জ়ভল্ডার কির্শটোর্টে' বলে। চকোলেট স্পঞ্জ কেকের প্রতিটি লেয়ারে ভাল মাত্রায় হুইপক্রিম আর চেরির সিরাম দেওয়া হয়। উপরে চকোলেটের কার্ল আর চেরি দিয়ে সাজানো হয়। চকোলেট কার্লগুলির জন্য একে দেখতে খানিকটা কালচে হলেও এর সঙ্গে কেকটির নামের কোনও সম্পর্ক নেই।
জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের 'ব্ল্যাক ফরেস্ট' নামের অরণ্য থেকেই এই কেকের নামকরণ করা হয়েছে। পাহাড় ঘেরা সেই সুন্দর অরণ্য অঞ্চলটিতে চেরির চাষ হত। সেই চেরি দিয়ে তৈরি করা হত এক ধরনের ব্র্যান্ডি। জার্মানিতে যখন প্রথম এই কেক বানানো হয়, তখন তাতে সেই ব্র্যান্ডিও মেশানো হত। অনেকেই বলেন, সেই অঞ্চলের গ্রাম্য মেয়েরা প্রতি মৌসুমে বনের চেরি ফল তুলতে যেতেন। তাঁদের পরনে থাকত কালো স্কার্ট, সাদা টপ আর লাল পমপম যুক্ত টুপি। একজন স্থানীয় কেক প্রস্তুতকারক এই পোশাক আর বনের সৌন্দর্য্যের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেন সেই বিশেষ কেক।