সন্তান খেতে বসলেই খাওয়ার টেবিল কুরুক্ষেত্র হয়ে ওঠে? খাবার দেখলেই অনীহা, চিৎকার, কান্নাকাটি করে খুদে? কখনও বাবা-মা বকাঝকা করেন, কখনও চেষ্টা করেন ভুলিয়ে, গল্পের ছলে খাবার খাইয়ে দিতে। কিন্তু রোজ রোজ এই একই জিনিস হয়ে উঠতে পারে ক্লান্তিকর। অনেকে অভিভাবকই আবার এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে ভরসা রাখেন ঘিয়ের উপর। ডাল-ভাত, আলু সেদ্ধ হোক কিংবা ডিম সেদ্ধ-ভাত, সঙ্গে একটু ঘি মিশিয়ে দিলেই শিশুরা খেতে আর বায়না করে না। শিশুরা ঘি বেশ পছন্দ করে। তবে কোন বয়স থেকে ঘি দেওয়া যেতে পারে কিংবা আদৌ কতটা ঘি শিশুদের জন্য নিরাপদ, সেই নিয়েও বাবা-মায়েরা চিন্তায় থাকেন।
শিশুদের জন্য ঘিয়ের উপকারিতা
শিশুদের ক্ষেত্রে ঘি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের খুব ভাল উৎস। ঘিয়ে থাকে মাঝারি আর ছোট চেনযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খুব সহজেই শরীরে শোষিত হয়। তাই শিশুদের ওজন বৃদ্ধিতে ঘি সাহায্য করে। শিশুদের ২ বছর বয়সের মধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ মস্তিষ্কের বিকাশ হয় যায়। আর মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই হল ফ্যাট। ঘিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশেও সাহায্য করে। এ ছাড়া ঘি হল ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন। ঘি খেলে শরীরে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে-এর শোষণ ভাল হয়।
কতটা ঘি শিশুদের জন্য নিরাপদ?
শিশুর বয়স ছ’মাস হয়ে গেলে তার খাবারে ঘি মেশানো যেতে পারে। শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, ‘‘ছ’মাস থেকে ১ বছরের শিশুদের খাবারে ৫-১০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘি মেশানো যেতে পারে। ১ থেকে ৩ বছরের শিশুদের খাবারে ১০-১৫ মিলিলিটার ঘি মেশানো যেতে পারে। আর ৩ বছরের উপরে শিশুদের ১৫-৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘি দেওয়া যেতে পারে।’’