রেস্তরাঁয় গিয়ে খেয়েই বেরিয়ে এলাম— আজকের যুগে বিষয়টা সেখানেই সীমিত নয়। এখন মানুষজন অপরিচিতদের সঙ্গে ‘সাপার ক্লাবে’ বসে খেতে পছন্দ করছেন, খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে চলছে দেদার আড্ডাও। কেউ আবার রেস্তরাঁয় গিয়েছেন খেতে, সেখানে ছবি আঁকা বা ভাস্কর্য তৈরি শেখানো হচ্ছে দেখে সেই কাজেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কোন রেস্তরাঁর মান কত ভাল, এখন কেবল তা সেখানের খাবারের উপরেই নির্ভর করে না, বরং রেস্তরাঁয় গিয়ে মানুষজন সেখানকার আমেজ কতটা উপভোগ করছেন, তার উপরেও নির্ভর করছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে খাবার পরিবেশনের আগে জল দিয়ে অতিথির হাত ধুইয়ে দেওয়ার রেওয়াজ আছে, তবে চকোলেট দিয়ে হাত ধোয়ানো হয় কোনও রেস্তরাঁয়, এমনটা শুনেছেন কখনও?
আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি আর মিয়ামির এলসিয়েলো রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশনের আগে অতিথি আপ্যায়ন করা হয় চকোলেট থেরাপি দিয়ে। এই বিশেষ থেরাপি সহযোগে খাওয়াদাওয়া সারতে খরচ পড়বে ২৮৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬,০০০ টাকা)। এই রেস্তরাঁর প্রধান রন্ধনশিল্পী হুয়ান ম্যানুয়েল ব্যারিয়েন্তোসের মাথায় প্রথম আসে খাবার চেখে দেখার আগে চকোলেট থেরাপির কথা। অতিথি টেবিলে বসলে তাঁদের সামনে একটি বড় পাত্র রাখা হয়। এ বার অতিথির দু’হাতের উপর ঢেলে দেওয়া হয় চকোলেট সস্। দু’হাত চকোলেটে মাখামাখি। অনেকেই আবার খানিকটা চকোলেট চেটেও নিচ্ছেন। ছেলেবেলার অভ্যাস ঝালিয়ে নেওয়া, আর কী।
না কোনও প্রথা নয়, তবে গ্রাহকদের মধ্যে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে রেস্তরাঁর এই উদ্যোগ ঘিরে। রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে যদি ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া যায় খানিক ক্ষণের জন্য, তা হলে ক্ষতি কোথায়?