Advertisement
E-Paper

দিনে দু’বার নয়, দাঁত মাজতে হবে এক বিশেষ পদ্ধতিতে! তবেই ভাল থাকবে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য

দু’বার দাঁত মেজেও লাভ হচ্ছে না। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে না কোনও। বরং ভুল নিয়মে দাঁত মাজার ফলে দাঁতের এনামেলের ক্ষয় হচ্ছে, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং সেনসিটিভিটির মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৭
দাঁত মাজবেন কী ভাবে?

দাঁত মাজবেন কী ভাবে? ছবি : সংগৃহীত।

এক বার ঘুম থেকে উঠে আধবোজা চোখে, আর এক বার দিনের শেষে ঘুমোনোর আগে, নিয়ম মেনে দু’বার দাঁত মাজেন। মুখে মিন্টের গন্ধ, গালভরা ফেনা আর কুলকুচি করে ফেলে দিয়েই ভাবেন দারুণ মুখ পরিষ্কার করা হল! যদিও গবেষণা বলছে, হল না।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ ভুল পদ্ধতিতে দাঁত মাজেন। ফলে দু’বার মেজেও দাঁতের লাভ হয় না। উন্নতি হয় না মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যেরও। বরং ভুল নিয়মে মাজার ফলে দাঁতের এনামেলের ক্ষয়ে যায়। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং সেনসিটিভিটির মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

ভুল হচ্ছে কোথায়?

দাঁত মাজার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হল, দাঁতের উপর ব্রাশ দিয়ে খুব জোরে ঘষাঘষি করা এবং আড়াআড়ি ব্রাশ চালানো। অনেকেই মনে করেন জোরে ঘষলে দাঁত বেশি সাদা হয়, কিন্তু আদতে এতে দাঁতের রক্ষাকবচ বা এনামেল চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্রাশ করার সময় মাড়ির যত্ন না নেওয়া এবং জিভ পরিষ্কার না করাও বড় ভুল।

মডিফায়েড বাস ব্রাশিং টেকনিক’

দাঁতের চিকিৎসকেরা অধিকাংশ সময়ে যে পদ্ধতিতে ব্রাশ করার পরামর্শ দেন, তাকে বলা হয় মডিফায়েড বাস ব্রাশিং টেকনিক। একেই দাঁত মাজার আদর্শ নিয়ম বলে মনে করা হয়। এই পদ্ধতিতে দাঁত এবং মাড়ির সংযোগস্থলে পুরনো জমে থাকা খাবার সহজেই বেরিয়ে আসে। দাঁত মাজার আদর্শ নিয়মগুলি দেখে নেওয়া যাক।

· ৪৫ ডিগ্রি কোণ: ব্রাশটি দাঁত এবং মাড়ির সংযোগস্থলে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরুন।

· বৃত্তাকার গতি: ব্রাশটি আড়াআড়ি না টেনে ছোট ছোট বৃত্তাকারে ঘোরান। এতে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক সহজেই বেরিয়ে আসে।

· ভিতরের অংশ পরিষ্কার: দাঁতের উপরের বা চিবানোর অংশ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভিতরের দিকের অংশটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্রাশ করুন।

· সময়: তাড়াহুড়ো না করে অন্তত ২ মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করুন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন তা ৩-৪ মিনিটের বেশি না হয়।

মুখগহ্বর সম্পূর্ণ পরিষ্কারের জন্য কী কী মাথায় রাখবেন?

শুধুমাত্র ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, মুখগহ্বরের ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ ভাবে পরিষ্কার রাখা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য দাঁত মাজার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কাজ নিয়মিত ভাবে করা প্রয়োজন।

· ফ্লসিং: দাঁতের মাঝখানের সরু ফাঁক, যেখানে ব্রাশ পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন।

· জিভ পরিষ্কার: মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ জিভে জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া। প্রতিদিন স্ক্র্যাপার বা ব্রাশ দিয়ে আলতো করে জিভ পরিষ্কার করুন।

· ব্রাশ পরিবর্তন: ব্রাশের ব্রিসল বেঁকে গেলে ব্রাশ বদলে ফেলুন অথবা প্রতি তিন মাসে এক বার ব্রাশ বদলান।

· কুলকুচি: প্রতি বার খাবার খাওয়ার পরে পরিষ্কার জল দিয়ে ভাল ভাবে কুলকুচি করা জরুরি। মুখের কোথাও খাবার আটকে রয়েছে বুঝলে জলের সাহায্যে তা বার করে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আর যা খেয়াল রাখবেন

১। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখ ধোবেন না। খাবারে থাকা টক জাতীয় উপাদান অনেক সময় দাঁতের এনামেলকে স্পর্শকাতর করে তোলে। সেই সময় ব্রাশ দিয়ে ঘষলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে দাঁতে শিরশিরানির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

২। দাঁত মাজার পর খুব বেশি জল দিয়ে মুখ ধোবেন না। টুথপেস্টের ফেনা ফেলে দিয়ে হালকা করে একবার মুখ ধুয়ে নিন। এতে টুথপেস্টে থাকা ফ্লোরাইড দাঁতের সংস্পর্শে বেশিক্ষণ থাকে এবং দাঁতকে মজবুত করে।

Modified Bass Brushing Technique Proper Brushing Technique oral health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy